ন্দবাজার পত্রিকা। প্রতিবেদনটি এখানে তুলে ধরা হলো। ভুকম্প বিধ্বস্ত নেপালের পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নে প্রথম রাউন্ডে চীনকে পিছনে ফেলে দিয়েছে ভারত। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অদূর ভবিষ্যতেই চীনা ড্রাগন যে আরও আগ্রাসী ভাবে নেপালের মাটিতে ফিরে আসতে চাইবে- সে ব্যাপারে নিঃসন্দেহ মোদি সরকার। আর তাই এই দুর্দিনে কাঠমান্ডুর পাশে সর্বাত্মক ভাবে থাকার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু করেছে নয়া দিল্লি। বিপর্যয়ের পর রেকর্ড সময়ের মধ্যে ত্রাণ-সামগ্রী পাঠিয়েছিল ভারত। সেই সাহায্যের গতি আরও বাড়িয়ে দেওয়া হলো রোববার। প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার পর নরেন্দ্র মোদি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তার বিদেশনীতিতে কাঠমান্ডু অগ্রাধিকার পেতে চলেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, চীনের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধে এগিয়ে থাকাটা অত্যন্ত জরুরি সাউথ ব্লকের কাছে। আর সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ছ’মাসের মধ্যেই দু-দু’বার কাঠমান্ডু সফরে গিয়েছেন মোদি। শনিবার‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানেও মোদি বলেন, ‘‘নেপালের প্রত্যেক দুর্গত মানুষের চোখের জল আমরা মুছিয়ে দেব।’’ আর রোববার এই আপৎকালীন সময়ে গোটা মন্ত্রিসভা একজোট হয়ে নেপালের পাশে। বিকেলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকেন মোদি। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র সচিব, এনডিআরএফ-এর কর্তা-সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন সেখানে। পরে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব একত্রে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে নেপালের ত্রাণ এবং পুর্নবাসনে ভারতের ভূমিকার ব্যাখ্যা করেছেন। জানানো হয়েছে, শনিবারের পর রোববার আরও ১৩টি ত্রাণবোঝাই সামরিক বিমান নেপালে পাঠানো হয়েছে। গিয়েছে ৩টি অসামরিক বিমান এবং ছ’টি হেলিকপ্টারও। যেকোনো সময় উড়ে যাওয়ার জন্য তৈরি রাখা আছে ৪টি মিগ ১৭। পাঠানো হয়েছে এনডিআরএফ (ন্যাশনাল ডিসাস্টার রিলিফ ফোর্স)-এর আরও তিনটি প্রতিনিধি দল। ৩১ জনের একটি মেডিক্যাল দলও কাঠমান্ডু পৌঁছেছে। পাঠানো ত্রাণ-সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০ টন কম্বল, ৫০ টন পানি, ২২ টন খাদ্যদ্রব্য। কূটনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, দিল্লির এত সাজ সাজ রব ত্রাণকাজে বেইজিংকে হারিয়ে নেপালের মন পাওয়ার জন্যই। এই ধরনের ত্রাণ কূটনীতিকে ব্যবহার করে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিজেদের প্রভাব অবিশ্বাস্য রকম বাড়িয়ে তুলেছে বেইজিং। বিধ্বস্ত নেপালের পরিকাঠামো অনেকাংশেই নতুন করে তৈরি করা প্রয়োজন এ কথা সত্যি। আর সেই কাজে চীন যে বিপুল অঙ্কের অর্থসাহায্য নিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দরবারে হাজির হবে, এমনটাই আঁচ করছে ভারত। আর তাকে সত্য প্রমাণ করে নেপালের ত্রাণের জন্য এ দিনই প্রাথমিক ভাবে ২ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করেছে বেইজিং। ৬২ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দলও কাঠমান্ডুতে পাঠিয়েছে চীন। ভারতের আশঙ্কা, নতুন করে পরিকাঠামো গড়ে দেওয়ার নামে তারা নিজেদের কৌশলগত ঘাঁটি তৈরি করার একটা সুযোগও পেয়ে যাবে। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্নে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্য দিকে নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান হওয়ার পর থেকে কাঠমান্ডুও বার বারই বেইজিং এবং নয়া দিল্লি-তার এই দুই বৃহৎ প্রতিবেশীর মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলেছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সুশীল কৈরালা তার প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘‘চীন এবং ভারত- এই দুই দেশই আমাদের বিদেশনীতির প্রথম দুই অগ্রাধিকার।’’ ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, চীন টাকা দিয়ে আনুগত্য কেনায় বিশ্বাসী এবং সে কাজে অনেকাংশে সফলও। এই ক্ষেত্রেও তাদের কাছে অর্থই হলো নেপালের ওপর আধিপত্য বাড়ানোর প্রধান হাতিয়ার। নেপালকে দেওয়া আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ গত দশ বছরে প্রায় পনেরো গুণ বাড়িয়েছে চীন। সদ্য শেষ হওয়া আর্থিক বছরে সেই সাহায্যের পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ডলার ছুঁয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই বিপুল অর্থসাহায্যের বেশির ভাগটাই দেওয়া হয়েছে নেপাল সেনা এবং পুলিশকে। পাশাপশি অবশ্যই চীনা পণ্যের ঢল নেমেছে নেপালের বাজারে। সে দেশে যেমন চীনা ভাষার প্রসার বেড়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে বেড়েছে ভারত বিদ্বেষও। অবশেষে নিঃশর্ত ভাবে সহায়তায় ঝাঁপিয়ে পড়ার একটি সুযোগ যখন এসেছে, তখন সরকারকে ঠিক সেটিই করার নির্দেশ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এর পর চীন যদি নেপালের পরিকাঠামো পুনর্গঠনে বিপুল ভাবে এগিয়ে আসে, তা হলে ভারতও যে পিছিয়ে থাকবে না সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, ‘‘নেপাল আমাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। এখন উদ্ধার এবং পুর্নবাসনের কাজটাই জরুরি। সেই পর্ব চুকলে, ভবিষ্যতে কী করা যায়— সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।’’ নতুন বার্তা/এসএ
Monday, April 27, 2015
চীনকে টক্কর দিতেই নেপালে ত্রাণের বন্যা ভারতের :নতুন বার্তা
ন্দবাজার পত্রিকা। প্রতিবেদনটি এখানে তুলে ধরা হলো। ভুকম্প বিধ্বস্ত নেপালের পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নে প্রথম রাউন্ডে চীনকে পিছনে ফেলে দিয়েছে ভারত। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অদূর ভবিষ্যতেই চীনা ড্রাগন যে আরও আগ্রাসী ভাবে নেপালের মাটিতে ফিরে আসতে চাইবে- সে ব্যাপারে নিঃসন্দেহ মোদি সরকার। আর তাই এই দুর্দিনে কাঠমান্ডুর পাশে সর্বাত্মক ভাবে থাকার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতা শুরু করেছে নয়া দিল্লি। বিপর্যয়ের পর রেকর্ড সময়ের মধ্যে ত্রাণ-সামগ্রী পাঠিয়েছিল ভারত। সেই সাহায্যের গতি আরও বাড়িয়ে দেওয়া হলো রোববার। প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার পর নরেন্দ্র মোদি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তার বিদেশনীতিতে কাঠমান্ডু অগ্রাধিকার পেতে চলেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, চীনের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধে এগিয়ে থাকাটা অত্যন্ত জরুরি সাউথ ব্লকের কাছে। আর সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ছ’মাসের মধ্যেই দু-দু’বার কাঠমান্ডু সফরে গিয়েছেন মোদি। শনিবার‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানেও মোদি বলেন, ‘‘নেপালের প্রত্যেক দুর্গত মানুষের চোখের জল আমরা মুছিয়ে দেব।’’ আর রোববার এই আপৎকালীন সময়ে গোটা মন্ত্রিসভা একজোট হয়ে নেপালের পাশে। বিকেলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকেন মোদি। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র সচিব, এনডিআরএফ-এর কর্তা-সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন সেখানে। পরে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব একত্রে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে নেপালের ত্রাণ এবং পুর্নবাসনে ভারতের ভূমিকার ব্যাখ্যা করেছেন। জানানো হয়েছে, শনিবারের পর রোববার আরও ১৩টি ত্রাণবোঝাই সামরিক বিমান নেপালে পাঠানো হয়েছে। গিয়েছে ৩টি অসামরিক বিমান এবং ছ’টি হেলিকপ্টারও। যেকোনো সময় উড়ে যাওয়ার জন্য তৈরি রাখা আছে ৪টি মিগ ১৭। পাঠানো হয়েছে এনডিআরএফ (ন্যাশনাল ডিসাস্টার রিলিফ ফোর্স)-এর আরও তিনটি প্রতিনিধি দল। ৩১ জনের একটি মেডিক্যাল দলও কাঠমান্ডু পৌঁছেছে। পাঠানো ত্রাণ-সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০ টন কম্বল, ৫০ টন পানি, ২২ টন খাদ্যদ্রব্য। কূটনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, দিল্লির এত সাজ সাজ রব ত্রাণকাজে বেইজিংকে হারিয়ে নেপালের মন পাওয়ার জন্যই। এই ধরনের ত্রাণ কূটনীতিকে ব্যবহার করে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নিজেদের প্রভাব অবিশ্বাস্য রকম বাড়িয়ে তুলেছে বেইজিং। বিধ্বস্ত নেপালের পরিকাঠামো অনেকাংশেই নতুন করে তৈরি করা প্রয়োজন এ কথা সত্যি। আর সেই কাজে চীন যে বিপুল অঙ্কের অর্থসাহায্য নিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দরবারে হাজির হবে, এমনটাই আঁচ করছে ভারত। আর তাকে সত্য প্রমাণ করে নেপালের ত্রাণের জন্য এ দিনই প্রাথমিক ভাবে ২ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করেছে বেইজিং। ৬২ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দলও কাঠমান্ডুতে পাঠিয়েছে চীন। ভারতের আশঙ্কা, নতুন করে পরিকাঠামো গড়ে দেওয়ার নামে তারা নিজেদের কৌশলগত ঘাঁটি তৈরি করার একটা সুযোগও পেয়ে যাবে। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্নে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্য দিকে নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান হওয়ার পর থেকে কাঠমান্ডুও বার বারই বেইজিং এবং নয়া দিল্লি-তার এই দুই বৃহৎ প্রতিবেশীর মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলেছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সুশীল কৈরালা তার প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘‘চীন এবং ভারত- এই দুই দেশই আমাদের বিদেশনীতির প্রথম দুই অগ্রাধিকার।’’ ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, চীন টাকা দিয়ে আনুগত্য কেনায় বিশ্বাসী এবং সে কাজে অনেকাংশে সফলও। এই ক্ষেত্রেও তাদের কাছে অর্থই হলো নেপালের ওপর আধিপত্য বাড়ানোর প্রধান হাতিয়ার। নেপালকে দেওয়া আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ গত দশ বছরে প্রায় পনেরো গুণ বাড়িয়েছে চীন। সদ্য শেষ হওয়া আর্থিক বছরে সেই সাহায্যের পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ডলার ছুঁয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই বিপুল অর্থসাহায্যের বেশির ভাগটাই দেওয়া হয়েছে নেপাল সেনা এবং পুলিশকে। পাশাপশি অবশ্যই চীনা পণ্যের ঢল নেমেছে নেপালের বাজারে। সে দেশে যেমন চীনা ভাষার প্রসার বেড়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে বেড়েছে ভারত বিদ্বেষও। অবশেষে নিঃশর্ত ভাবে সহায়তায় ঝাঁপিয়ে পড়ার একটি সুযোগ যখন এসেছে, তখন সরকারকে ঠিক সেটিই করার নির্দেশ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এর পর চীন যদি নেপালের পরিকাঠামো পুনর্গঠনে বিপুল ভাবে এগিয়ে আসে, তা হলে ভারতও যে পিছিয়ে থাকবে না সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, ‘‘নেপাল আমাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। এখন উদ্ধার এবং পুর্নবাসনের কাজটাই জরুরি। সেই পর্ব চুকলে, ভবিষ্যতে কী করা যায়— সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।’’ নতুন বার্তা/এসএ
Labels:
নতুন বার্তা
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment