নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি, বাড়ছে পুলিশি তৎপরতা আজিজুল ইসলাম হৃদয় টাইম নিউজ বিডি, ২৭ এপ্রিল, ২০১৫ ১৭:২৭:৪৫ রাত পোহালেই শুরু হবে তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ভোট গ্রহণের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ভোট কিনতে টাকার ছড়াছড়িও তত বাড়ছে। তবে এটা ঠেকাতে আইন-শৃঙ্ক্ষলা বাহিনীও তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে নগদ টাকাসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ, খিলক্ষেত ও রমনা এলাকা থেকে ভোট কেনার সময় ফিরোজ, মাসুদ ও আলাউদ্দিনকে ৫৩ হাজার ৫শ' টাকাসহ আটক করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের একদিন আগে সোমবার দিনও আটক করা হয়েছে ছয় জনকে। তাদের কাছে পাওয়া গেছে তিন লাখ টাকা। গত ১৯ মার্চ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচার প্রচারণা শুরু করে। তবে মূল প্রচারণা শুরু হয় ৯ এপ্রিল প্রার্থীতা চূড়ান্ত হওয়ার পর। আর চলে ২৬ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রচারণা শেষ হওয়ার পরও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী এলাকায় কিছু অসাধু মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোট কিনছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোটাররা। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী এলাকার প্রভাবশালী কর্মীদের দিয়ে ভোট কিনছে।যার কারণে কোনো ভোটার বা প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কেউই তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা বা পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারছে না। ঢাকা উত্তর সিটির কল্যাণপুর এলাকার পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক ভোটার বলেন, "ভাই, কি বলব। ১৯৯৬ সালে এ এলাকায় যেমন আতঙ্ক ছিল, এখনও নির্বাচনে ভোট কেনা নিয়ে ঠিক তেমন অবস্থা রয়েছে। এলাকায় যারা প্রভাবশালী তারা আসছে ভোট কিনতে। ফলে প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা বা তার কর্মীরা এর বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছে না। একই এলাকার এক নির্বাচনী কর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, "যাদের টাকা ও সন্ত্রাসী বাহিনী আছে তারাই ভোট কিনছে।" আপনারা পুলিশে কাছে অভিযোগ করছেন না কেন- এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, "তাদের বিরুদ্ধে আমরা যদি কিছু বলতে যাই, তাহলে আমাদের কঠিন মূল্য দিতে হবে।" কোন সময় তারা ভোট কিনতে আসে জানতে চাইলে অপর এক নির্বাচনী কর্মী বলেন, তারা রাত ১০টার পর বেশি ভোট কিনতে নামে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন উভয় এলাকায় একই অবস্থা। এ বিষয়ে ডিএমপি'র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার টাইমনিউজবিডিকে বলেন, "আপনারা জানেন যে ভোট কেনা-বেচা নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে এবং বেশ কয়েক জনকে হাতেনাতে আটক করেছে।" তিনি আরো বলেন, "নির্বাচনে কালো টাকার (ভোট কেনার টাকা) দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণে ইউনিফর্ম ও সাদা পোষাকে পুলিশ-ডিবিসহ বিভিন্ন বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।" কেউ যদি ভোট কিনতে দেখে পুলিশকে জানায়, সেক্ষেত্রে তার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। এআই/জেডআই
No comments:
Post a Comment