মীর সন্ধান করছেন। আদালত থেকে সংবাদ সম্মেলন, ছুঁটে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আপ্লুত হয়ে কেঁদে দিয়েছেন সবার সামনে। তিনি হাসিনা আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী। প্রতি মুহূর্তের এসব উৎকণ্ঠা পেরিয়ে গত ১১ মে জানতে পারলেন তার স্বামী বেঁচে আছেন। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের একটি হাসপাতালের মাধ্যমে নিজে স্বামীর সঙ্গে কথাও বললেন। এরপর থেকেই অপেক্ষা, কখন দেখা হবে। পাঁচ দিনের মাথায় গত রবিবার সন্ধ্যায় ভিসা পেয়ে রাতেই কলকাতা যান হাসিনা আহমেদ। সেখান থেকে গতকাল সোমবার শিলং পৌঁছান তিনি। রাত আটটার দিকে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে স্বামীর সঙ্গে দেখা করেন হাসিনা আহমেদ। এতদিনের নীরব কান্না এদিন আর বাঁধ মানেনি হাসিনা আহমেদের। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তা দেখে নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি সালাহ উদ্দিনও। দুজনই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে এ কান্না কষ্টের নয়। দীর্ঘ দুই মাস ঝড়ের পর তাদের চোখে স্বস্তির বৃষ্টি হয়ে ঝরল অশ্রু। বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি জানান, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং সিভিল হাসপাতালে সালাহ উদ্দিনের দেখা পেতে হাসিনা আহমেদকে যেতে হয়েছে আটক ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত সেলে। তিনি বলেন, স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার রাত প্রায় আটটার দিকে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা হয় তার। এ সময় দুজনই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এর কিছু সময় পর হাসিনা আহমেদ স্বামীর স্বাস্থ্যের খবর নেন। দুজন কথা বলেন ভারত থেকে ফেরার আইনানুগ বিষয়াদি নিয়ে। আবদুল লতিফ জনি বলেন, শিলংয়ে পৌঁছে হাসিনা আহমেদ সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করতে পুলিশের অনুমতি নেন। সালাহ উদ্দিন কীভাবে এবং কখন নিখোঁজ হন, এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করেন তিনি। পুলিশের অনুমতি পেয়ে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন এবং কথা বলেন। ওই কথোপকথন ছিল প্রায় ৩০ মিনিটের। হাসপাতালের বাইরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিশেষ একটা কথা বলেননি হাসিনা আহমেদ। সামান্য কথাতে হাসিনা আহমেদ যা বলেছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে- পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার উপরই বেশি জোর দিচ্ছেন তিনি। হাসিনা আহমেদ বলেছেন, আগামীকালই (মঙ্গলবার) তিনি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলবেন। সালাহ উদ্দিনের চিকিৎসা করাতে তাকে তৃতীয় কোনো দেশে নেওয়ার চেষ্টা চালাবেন। এজন্য চিকিৎসকের সঙ্গেও কথা বলবেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে সামান্য কথোপোকথনে ভারতীয় সরকার এবং প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানান সাবেক এই এমপি হাসিনা আহমেদ। উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরার এক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন বিএনপির তখনকার মুখপাত্র সালাহ উদ্দিন আহমেদ। পরিবার ও বিএনপি দাবি করে আসছিল, রাতের অন্ধকারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সালাহ উদ্দিনকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে বরাবরই সে অভিযোগ অস্বীকার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সালাহ উদ্দিনকে উদ্ধারে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে গত ১১ মে মেঘালয়ের শিলংয়ে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে পাওয়া যায়। পরে তাকে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকায় উদভ্রান্তের মতো তিনি হাঁটাহাঁটি করছিলেন বলে পুলিশ জানায়। বৈধ কাগজ ছাড়া ভারতে প্রবেশ করায় ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী সালাহ উদ্দিনকে আটক করে মেঘালয় পুলিশ। বর্তমানে পুলিশি পাহারায় শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। ১২ মে সালাহ উদ্দিন আহমেদ শিলংয়ের মেঘালয় ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোলজিক্যাল সায়েন্স (এমআইএমএইচএএনএস) থেকে ফোন করে হাসিনা আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে শিলং যেতে বলেন। এর পরদিনই ভিসার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনে আবেদন করেন হাসিনা আহমেদ। গত রবিবার সন্ধ্যায় তিনি ভিসা পান। পরে রাতে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে কলকাতা, সেখান থেকে সোমবার আরেক ফ্লাইটে শিলং পৌঁছে রাতে স্বামীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ করলেন হাসিনা আহমেদ। মন্তব্য
Tuesday, May 19, 2015
স্বামীকে দেখে অঝোরে কাঁদলেন হাসিনা আহমেদ:আরটিএনএন
মীর সন্ধান করছেন। আদালত থেকে সংবাদ সম্মেলন, ছুঁটে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আপ্লুত হয়ে কেঁদে দিয়েছেন সবার সামনে। তিনি হাসিনা আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী। প্রতি মুহূর্তের এসব উৎকণ্ঠা পেরিয়ে গত ১১ মে জানতে পারলেন তার স্বামী বেঁচে আছেন। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের একটি হাসপাতালের মাধ্যমে নিজে স্বামীর সঙ্গে কথাও বললেন। এরপর থেকেই অপেক্ষা, কখন দেখা হবে। পাঁচ দিনের মাথায় গত রবিবার সন্ধ্যায় ভিসা পেয়ে রাতেই কলকাতা যান হাসিনা আহমেদ। সেখান থেকে গতকাল সোমবার শিলং পৌঁছান তিনি। রাত আটটার দিকে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে স্বামীর সঙ্গে দেখা করেন হাসিনা আহমেদ। এতদিনের নীরব কান্না এদিন আর বাঁধ মানেনি হাসিনা আহমেদের। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তা দেখে নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি সালাহ উদ্দিনও। দুজনই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে এ কান্না কষ্টের নয়। দীর্ঘ দুই মাস ঝড়ের পর তাদের চোখে স্বস্তির বৃষ্টি হয়ে ঝরল অশ্রু। বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি জানান, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং সিভিল হাসপাতালে সালাহ উদ্দিনের দেখা পেতে হাসিনা আহমেদকে যেতে হয়েছে আটক ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত সেলে। তিনি বলেন, স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার রাত প্রায় আটটার দিকে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা হয় তার। এ সময় দুজনই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এর কিছু সময় পর হাসিনা আহমেদ স্বামীর স্বাস্থ্যের খবর নেন। দুজন কথা বলেন ভারত থেকে ফেরার আইনানুগ বিষয়াদি নিয়ে। আবদুল লতিফ জনি বলেন, শিলংয়ে পৌঁছে হাসিনা আহমেদ সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করতে পুলিশের অনুমতি নেন। সালাহ উদ্দিন কীভাবে এবং কখন নিখোঁজ হন, এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করেন তিনি। পুলিশের অনুমতি পেয়ে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন এবং কথা বলেন। ওই কথোপকথন ছিল প্রায় ৩০ মিনিটের। হাসপাতালের বাইরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিশেষ একটা কথা বলেননি হাসিনা আহমেদ। সামান্য কথাতে হাসিনা আহমেদ যা বলেছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে- পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার উপরই বেশি জোর দিচ্ছেন তিনি। হাসিনা আহমেদ বলেছেন, আগামীকালই (মঙ্গলবার) তিনি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলবেন। সালাহ উদ্দিনের চিকিৎসা করাতে তাকে তৃতীয় কোনো দেশে নেওয়ার চেষ্টা চালাবেন। এজন্য চিকিৎসকের সঙ্গেও কথা বলবেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে সামান্য কথোপোকথনে ভারতীয় সরকার এবং প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানান সাবেক এই এমপি হাসিনা আহমেদ। উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরার এক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন বিএনপির তখনকার মুখপাত্র সালাহ উদ্দিন আহমেদ। পরিবার ও বিএনপি দাবি করে আসছিল, রাতের অন্ধকারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সালাহ উদ্দিনকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে বরাবরই সে অভিযোগ অস্বীকার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সালাহ উদ্দিনকে উদ্ধারে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে গত ১১ মে মেঘালয়ের শিলংয়ে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে পাওয়া যায়। পরে তাকে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকায় উদভ্রান্তের মতো তিনি হাঁটাহাঁটি করছিলেন বলে পুলিশ জানায়। বৈধ কাগজ ছাড়া ভারতে প্রবেশ করায় ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী সালাহ উদ্দিনকে আটক করে মেঘালয় পুলিশ। বর্তমানে পুলিশি পাহারায় শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। ১২ মে সালাহ উদ্দিন আহমেদ শিলংয়ের মেঘালয় ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোলজিক্যাল সায়েন্স (এমআইএমএইচএএনএস) থেকে ফোন করে হাসিনা আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে শিলং যেতে বলেন। এর পরদিনই ভিসার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনে আবেদন করেন হাসিনা আহমেদ। গত রবিবার সন্ধ্যায় তিনি ভিসা পান। পরে রাতে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে কলকাতা, সেখান থেকে সোমবার আরেক ফ্লাইটে শিলং পৌঁছে রাতে স্বামীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ করলেন হাসিনা আহমেদ। মন্তব্য
Labels:
আরটিএনএন
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment