Monday, December 8, 2014

এতো দুর্বল হয়ে যাইনি, পারবো সে বিশ্বাস আছে: খালেদা:RTNN

এতো দুর্বল হয়ে যাইনি, পারবো সে বিশ্বাস আছে: খালেদা নিজস্ব প্রতিবেদক আরটিএনএন ঢাকা: গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে তরুণদের রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমিও তোমাদের সঙ্গে থাকবো। এখনো এতো দুর্বল হয়ে গেছি মনে করি না। পারবো সে বিশ্বাস আছে।’ রবিবার রাতে নিজের গুলশান কার্যালয়ে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ‘ব্লু –ব্যান্ড কল’ গ্রুপের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জি
য়া বলেন, ‘তরুণদের অনেকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোটার ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তাই ভোটের অধিকার এবং গণতন্ত্র ফেরাতে রাজপথে নামতে হবে।’ তিনি বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ওই নির্বাচনে জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হবে, তারাই সরকার পরিচালনা করবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তরুণদের রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এই আন্দোলনে আমিও তোমাদের সঙ্গে থাকবো। এখনো এতো দুর্বল হয়ে গেছি মনে করি না। পারবো সে বিশ্বাস আছে।’ তিনি বলেন, আজকে দেশ মহাসঙ্কটে। গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত। বর্তমান সরকার যোগ্য ও মেধাবীদের জন্য চাকরির কোন সুযোগই রাখেনি। যুব সমাজ চাকরি চাইছে কিন্তু চাকরি পাচ্ছে না। শিক্ষা-দীক্ষা থাকুক না থাকুক আওয়ামী লীগের লোকজনদের চাকরি দিতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ফার্স্ট ক্লাসেরও কোনো দাম নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের লোক হলে থার্ড ক্লাস হলেও চাকরি হচেছ। তাহলে আমাদের ভবিষ্যত কী? তিনি বলেন, ‘আমি কোনো দিন বলিনি যারা আওয়ামী লীগ করে তাদের চাকরি হবে না। আমাদের সময়ে আওয়ামী লীগের বহু লোক চাকরি করেছে। তারা যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি পেয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও অফিসার ভালো হলে তাদের চাকরি বা পদোন্নতিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করিনি।’ বিএনপি করায় ভালো অফিসারদের সরকার ওএসডি ও চাকুরিচ্যুত করছে অভিযোগ করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা থাকা অবস্থায় আমার যে এপিএস ছিলেন, আজও তিনি পদোন্নতি পাননি। কিন্তু আমাদের সময়ে শেখ হাসিনার এপিএসকে পদোন্নতি দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো এখন অছাত্র দিয়ে ভরা। সেখানে তো অন্য কোনো দলের ছাত্রদের থাকতে দেয়া হয় না। সেখানে শিক্ষক থেকে কর্মচারী সবাইকে আওয়ামী লীগ করতে হবে নইলে থাকতে পারবে না। খালেদা জিয়া বলেন, দেশে বিনিয়োগ নেই, মানুষের কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিদেশীরা বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার নেই। সর্বত্র কেবল দুর্নীতি, কোথাও সুশাসন নেই। গণতন্ত্র না থাকলে উন্নয়ন হবে কি করে। গণতন্ত্র না থাকলে জবাবদিহিতা থাকবে কিভাবে, আর জবাবদিহিতা না থাকলে উন্নয়ন হবে কি করে? বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাদের দেশে গার্মেন্ট শিল্প বিকশিত হয়েছিল। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু এখন ওই খাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, প্রতিটি ফ্যাক্টরিতে সমস্যা। ফলে বাংলাদেশ এখন চতুর্থ স্থানে চলে গেছে। শিল্পকারখানাগুলো বিদেশিরা কিনে নিচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আজ তোমাদের দেখে আমি সাহস পেয়েছি। আমাদের পেছনে দেশের তরুণ সমাজের এমন একটি অংশ আছে যারা দেশকে নিয়ে চিন্তা করে। যাদের হাতে আগামীর বাংলাদেশ নিরাপদ।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছি। কারও গলগ্রহ হয়ে বেঁচে থাকতে নয়। সেটা সত্যিকারের স্বাধীনতা নয়।’ তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শ্রমশক্তি রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের অনেকেই ফিরে এসেছে। শ্রমশক্তি না নেয়ার একটিই কারণ-সরকারের ভুলনীতি।’ এর আগে ব্লু ব্যান্ড কল-এর মুখপাত্র মোহাম্মদ ফয়েজ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ অর্ধশতাধিক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ওসমান ফারুকসহ বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। মন্তব্য      


No comments:

Post a Comment