্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান রামেশ্বর দাঙ্গাল এ তথ্য জানান। আহত ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছে ছয় হাজার ৫০০ জনের বেশি। ভারত ও চীনে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৯০ জনে পৌঁছেছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে তুষারধসে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে গতকাল পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। কাঠমান্ডুর রাজপথ এখন ফাটলে ফাটলে চৌচির। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে বেশির ভাগ বহুতল। ধ্বংস হয়েছে ঐতিহ্যশালী কাষ্ঠমণ্ডপ, বসন্তপুর দরবার, দশাবতার এবং কৃষ্ণ মন্দির। মুম্বাইয়ে সাংবাদিকতা করেন নেপালের লেংদুপ ভুটিয়া। মুম্বাইয়ের একটি সংবাদপত্রে তিনি লিখেছেন তার ছোটবেলার স্মৃতি। দাদু বলতেন, পৃথিবী যদি কোনো দিন ধ্বংস হয়ে যায়, বোধনাথ স্তূপ তোমাকে রক্ষা করবে। মধ্য তিরিশের লেংদুপ ভারতে বসে খবর পাচ্ছেন, সেই বোধনাথ স্তূপের গায়েই চিড় ধরেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পশুপতিনাথ মন্দিরও। রোববার ধরহরা মিনারের ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০০টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাতাসে ধুলোর গন্ধ, মাটিতে রক্তের দাগ। আর স্বজনহারা কান্নায় ভারী চারপাশ। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, দ্বিতীয় কম্পনের পর আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ দিকে ওষুধপত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পোখরায় চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের বাইরেই। হাসপাতাল ভবনের মধ্যে ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন চিকিৎসক-কর্মীরা। বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ নেই শনিবার থেকে। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। এ পরিস্থিতিকে দুর্যোগপূর্ণ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছে নেপাল। গতকাল রোববার নেপালে আবার নতুন করে ভূমিকম্প হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ওই ভূকম্পন অনুভূত হয়। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। নেপালের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মীনেন্দ্র রিজাল ভারতীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের দেশ একটি দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অনেক সহায়তা ও ত্রাণ প্রয়োজন।’ ভূমিকম্পে গৃহহীন কাঠমান্ডুর মানুষ গতকালও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা গৃহহীনদের জন্য তাবুর ব্যবস্থা করছে। যাদের ঘর বিধ্বস্ত হয়নি, তারাও খোলা আকাশের নিচে থাকছেন। গতকাল আবার ভূমিকম্প হওয়ায় তারা ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। শনিবারের ভূমিকম্পে কাঠমান্ডুর অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। ভূমিকম্পের পর উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। ইট, সিমেন্ট, কাঠের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহত ব্যক্তিদের বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। রাতভর উদ্ধার অভিযান চলে। তবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানে সময় লাগছে। কাঠমান্ডুর অধিকাংশ এলাকা শনিবার দিবাগত রাত ছিল বিদ্যুৎহীন। মুঠোফোন নেটওয়ার্কও বিপর্যস্ত। সড়কে ধ্বংসাবশেষ থাকায় ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় কিছু এলাকায় পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের। ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যেতে পারছেন না তারা। হাসপাতালগুলোতে হতাহত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। অক্সফাম অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী হেলেন এসজোকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই, যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত, হাসপাতালে রোগী বা লাশ রাখার জায়গা হচ্ছে না।’ আন্তর্জাতিক সহায়তা: যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ দল পাঠাচ্ছে। প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ১০ লাখ ডলার ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএসএইড। প্রতিবেশী ভারত বেশ কিছু হেলিকপ্টার, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল এবং ৪০টি শক্তিশালী উদ্ধারকর্মী দল ও ডগ স্কোয়াড পাঠিয়েছে। চীন ডগ স্কোয়াডসহ উদ্ধারকর্মীদের ৬২টি দল পাঠিয়েছে। পাকিস্তান চারটি এয়ারক্রাফট, ৩০টি হাসপাতাল শয্যা, সেনাবাহিনীর চিকিৎসক দল, খাবার, তাবু ও কম্বল পাঠাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে নেপালের জনগণকে সহায়তার জন্য ছয়টি চিকিৎসা দলসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি কার্গো বিমানে করে মোট ৩৪ জনের একটি দল কাঠমান্ডু পৌঁছায়।– সংবাদসংস্থা। নতুন বার্তা/এসএ
Monday, April 27, 2015
লাশ গুনে যাচ্ছে ধ্বংস উপত্যকা নেপাল :নতুন বার্তা
্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান রামেশ্বর দাঙ্গাল এ তথ্য জানান। আহত ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছে ছয় হাজার ৫০০ জনের বেশি। ভারত ও চীনে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৯০ জনে পৌঁছেছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে তুষারধসে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে গতকাল পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। কাঠমান্ডুর রাজপথ এখন ফাটলে ফাটলে চৌচির। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে বেশির ভাগ বহুতল। ধ্বংস হয়েছে ঐতিহ্যশালী কাষ্ঠমণ্ডপ, বসন্তপুর দরবার, দশাবতার এবং কৃষ্ণ মন্দির। মুম্বাইয়ে সাংবাদিকতা করেন নেপালের লেংদুপ ভুটিয়া। মুম্বাইয়ের একটি সংবাদপত্রে তিনি লিখেছেন তার ছোটবেলার স্মৃতি। দাদু বলতেন, পৃথিবী যদি কোনো দিন ধ্বংস হয়ে যায়, বোধনাথ স্তূপ তোমাকে রক্ষা করবে। মধ্য তিরিশের লেংদুপ ভারতে বসে খবর পাচ্ছেন, সেই বোধনাথ স্তূপের গায়েই চিড় ধরেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পশুপতিনাথ মন্দিরও। রোববার ধরহরা মিনারের ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০০টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাতাসে ধুলোর গন্ধ, মাটিতে রক্তের দাগ। আর স্বজনহারা কান্নায় ভারী চারপাশ। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, দ্বিতীয় কম্পনের পর আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ দিকে ওষুধপত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পোখরায় চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের বাইরেই। হাসপাতাল ভবনের মধ্যে ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন চিকিৎসক-কর্মীরা। বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ নেই শনিবার থেকে। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। এ পরিস্থিতিকে দুর্যোগপূর্ণ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছে নেপাল। গতকাল রোববার নেপালে আবার নতুন করে ভূমিকম্প হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ওই ভূকম্পন অনুভূত হয়। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। নেপালের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মীনেন্দ্র রিজাল ভারতীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের দেশ একটি দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অনেক সহায়তা ও ত্রাণ প্রয়োজন।’ ভূমিকম্পে গৃহহীন কাঠমান্ডুর মানুষ গতকালও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা গৃহহীনদের জন্য তাবুর ব্যবস্থা করছে। যাদের ঘর বিধ্বস্ত হয়নি, তারাও খোলা আকাশের নিচে থাকছেন। গতকাল আবার ভূমিকম্প হওয়ায় তারা ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। শনিবারের ভূমিকম্পে কাঠমান্ডুর অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। ভূমিকম্পের পর উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। ইট, সিমেন্ট, কাঠের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহত ব্যক্তিদের বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। রাতভর উদ্ধার অভিযান চলে। তবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানে সময় লাগছে। কাঠমান্ডুর অধিকাংশ এলাকা শনিবার দিবাগত রাত ছিল বিদ্যুৎহীন। মুঠোফোন নেটওয়ার্কও বিপর্যস্ত। সড়কে ধ্বংসাবশেষ থাকায় ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় কিছু এলাকায় পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের। ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নিয়ে যেতে পারছেন না তারা। হাসপাতালগুলোতে হতাহত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে। সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। অক্সফাম অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী হেলেন এসজোকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই, যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত, হাসপাতালে রোগী বা লাশ রাখার জায়গা হচ্ছে না।’ আন্তর্জাতিক সহায়তা: যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ দল পাঠাচ্ছে। প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ১০ লাখ ডলার ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএসএইড। প্রতিবেশী ভারত বেশ কিছু হেলিকপ্টার, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল এবং ৪০টি শক্তিশালী উদ্ধারকর্মী দল ও ডগ স্কোয়াড পাঠিয়েছে। চীন ডগ স্কোয়াডসহ উদ্ধারকর্মীদের ৬২টি দল পাঠিয়েছে। পাকিস্তান চারটি এয়ারক্রাফট, ৩০টি হাসপাতাল শয্যা, সেনাবাহিনীর চিকিৎসক দল, খাবার, তাবু ও কম্বল পাঠাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে নেপালের জনগণকে সহায়তার জন্য ছয়টি চিকিৎসা দলসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি কার্গো বিমানে করে মোট ৩৪ জনের একটি দল কাঠমান্ডু পৌঁছায়।– সংবাদসংস্থা। নতুন বার্তা/এসএ
Labels:
নতুন বার্তা
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment