প্রচারণা শেষ, ভোটের অপেক্ষায় নগরবাসী স্টাফ রিপোর্টার টাইম নিউজ বিডি, ২৭ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:২৬:১১ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের বেঁধে দেওয়া প্রচারণার সময় শেষ হয়েছে রোবরবার রাত ১২টায়। ভোটের আয়োজনে প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন কেবল ভোটগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে নগরবাসী। এ নিয়ে দুই বৃহৎ রাজনৈতিক শিবিরেও শুরু হয়েছে হিসেব-নিকেষ। সাধারণ নগরবাসীর মনে ভোটের তেমন উৎসাহ না থাকলেও মেয়র প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচারণার নানা ধরণ নিয়েই ছিলো এতোদিনের আলোচনা। কে কেমন নগর গড়বেন সে প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাস্যরসও কম হয়নি। অন্যদিকে রাজনীতির হিসেবে সাধারণ মানুষ এবার প্রার্থীদের তেমন পছন্দ করেনি বললেই চলে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয় হলেও ভোটাররা রাজনীতিকীকরণেই অভ্যস্ত। যে কারণে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ভারি প্রার্থি না থাকায় নির্বাচনে তেমন উৎসাহও বোধ করছেন না নগরবাসী। তবে সবকিছুর উপরে তাদের আকাঙ্খা একটাই-নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শাসন হোক মহানগরী ঢাকা। তাই নির্বাচনে উৎসাহ কম হলেও আগ্রহের কোনো কমতি নেই। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ডিসিসি নির্বাচন। এদিকে ঢাকাতে তেমন উৎসাহ না থাকলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে সাধারণের উৎসাহ উদ্দীপনা দুটোই রয়েছে। তবে সেখানেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নিয়ে অনেকটা নিবর দ্বন্দ্ব যেন রয়েই গেছে। এছাড়া বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর ব্যর্থতা নিয়েও নগরবাসী মনে রয়েছে চাপা ক্ষোভ। সব মিলিয়ে চসিক নির্বাচনও শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে। প্রার্থীদের এখন গণসংযোগের কোনো সুযোগ নেই। অনলাইন বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমসহ কোনো মাধ্যমেই তারা আর প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এখন কেবল ভোটযুদ্ধের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। এই যখন অবস্থা, তখন নির্বাচনী আয়োজনকারী সংস্থাটিও কিন্তু বসে নেই। আস্তে আস্তে সকল প্রস্তুতিই সম্পন্ন করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, সিল, কালি, বস্তাসহ সকল নির্বাচনী উপকরণ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সকাল ৮টা থেকেই রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোটের উপকরণ প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করবেন। দিনভর কেন্দ্রে কেন্দ্রে মালামাল পৌছানো এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সদা তৎপর থাকবেন। ইতিমধ্যে মাঠে নামানো হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ফোর্স। তারা তিন নগরিতে টহল অব্যাহত রেখেছে। মাঠে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কোনো অনিয়মন হলেই যেন রক্ষা না পায়, সেজন্য কঠোর নির্দেশনাও দিয়েছে ইসি। প্রয়োজনে পুলিশকে গুলি করতেও কার্পণ্য না করার জন্য বলা হয়েছে। ভোটের দিন সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার ফোর্স মাঠে নামাবে ইসি। এছাড়া ক্যান্টনমেন্টে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবে ৩ ব্যাটালিয়ন সেনাবাহিনীর প্রায় ৩ হাজার জোয়ান। এদিকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। তিন সিটি নির্বাচনে প্রায় ৫০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনও ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। অপেক্ষা কেবল মাহেন্দ্র ক্ষণের। ২৮ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দীর মধ্যে ভোটারদের উপস্থিতি থাকলে সময় যতই লাগুক ভোটগ্রহণ অব্যহত রাখবেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। এরপর কেন্দ্রেই ফলাফল প্রকাশ করে তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে ৩৬ টি ওয়ার্ডে ২৮১জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৮৯ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী এবং ১৬ জন মেয়র পদপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ সিটিতে ভোটার রয়েছেন ২৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৭৪ জন। তারা ১ হাজার ৯৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে ৫৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার রয়েছে ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৫৩ জন। এ নির্বাচনে ৮৮৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। ডিএসসিসি নির্বাচনে ৩৯০ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী, ৯৭ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও ২০ জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) ৪১টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার রয়েছেন ১৮ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৯ জন। এ সিটি নির্বাচনে ৭১৯টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১৩ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬২ জন এবং মেয়র পদে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসএইচ
No comments:
Post a Comment