র মধ্যেই, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই। আশংকাজনক হারে বেকার হয়ে পড়ছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়েছেন শত শত কর্মী। গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বলে থাকেন, দেশে গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং টেকসই করার জন্য শক্তিশালী গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণতান্ত্রিক সমাজে গণমাধ্যম দর্পনের মতো এবং এটি একটি শিল্প। কিন্তু এই গণমাধ্যম এখন কোন পথে? কেমন আছেন গণমাধ্যমকর্মীরা? ৩০ নভেম্বর দৈনিক অর্থনীতি প্রতিদিন বন্ধের ঘোষণা দেন কর্তৃপক্ষ। এতে বেকার হয়ে গেছেন শতাধিক সাংবাদিক। বন্ধের ঘোষণা দিয়ে টানানো নোটিশে বলা হয়, আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে গত ২৬ নভেম্বরের পর অর্থনীতি প্রতিদিনের সাংবাদিকরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। সবশেষ পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদক আব্দুল হকের সঙ্গে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই গ্রুপের নেতারা বৈঠক করেন। তাদের পক্ষ থেকে পত্রিকাটি চালু রাখার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সম্পাদক অপারগতা প্রকাশ করেন। অর্থনীতি প্রতিদিন ২০১২ সালের ২ ডিসেম্বর বাজারে আসে। শুরু থেকেই নানা সংকটে চলছিল এর প্রকাশনা। গত কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ করে দিলেও পরে কর্মীদের চাপে পুনরায় চালু হয়। তবে সে সময় অনেককে ছাঁটাই করা হয়। অর্থনীতি প্রতিদিনের পর বন্ধ হয়ে গেল দৈনিক বর্তমান। ১ ডিসেম্বর পত্রিকাটির শেষ সংখ্যা বের হয়েছে। ৩০ নভেম্বর রাতে সংবাদকর্মীরা কাজ শেষ করে চলে যাওয়ার পর গভীর রাতে মালিকপক্ষ পত্রিকাটি বন্ধের ঘোষণা সংবলিত নোটিশ টানিয়ে দেয়। মালিক জেলে থাকায় আর্থিক সংকটে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। দৈনিক বর্তমান বাজারে আসে ২০১৩ সালের ২ জুলাই। এর মালিক কল্যাণপুর মিজান টাওয়ারের মিজানুর রহমান। তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। বাংলাদেশে কোনো পত্রিকায় এভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিরাট অংকের বেতনভাতায় সাংবাদিক নিয়োগ করা হয়নি। শুরুতে পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক রাহাত খান। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। গত ২ নভেম্বর বিকাল থেকে চ্যানেল 16-এর সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. আকতারুজ্জামান তালুকদারের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধের আদেশ দেয়া হয়। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত চ্যানেলটির পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের অনুমতি নেয়া ছিল। এর পর আর চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষ অনুমতি নেননি। ১৭ বছর পর বন্ধ হয়ে গেছে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা সাপ্তাহিক ২০০০। দীর্ঘদিন লোকসানে থাকার পর মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ২৯ অক্টোবর পত্রিকাটির সম্পাদক মইনুল আহসান সাবের সাপ্তাহিক ২০০০ বন্ধের ঘোষণা দেন। ১৯৯৮ সালে সাপ্তাহিক ২০০০ চালু করা হয়। মরহুম সাংবাদিক শাহাদাত চৌধুরী ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। গত বছরের (২০১৩ সাল) ৬ মে ভোর রাত থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দিগন্ত মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান ‘দিগন্ত টেলিভিশন’ ও 'ইসলামিক টেলিভিশন' এর সম্প্রচার। বেসরকারি এ টিভি চ্যানেল দুটির কার্যালয়ে গিয়ে সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় গোয়েন্দা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা। এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে চ্যানেল দুটির সম্প্রচার। দিগন্ত মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, বিটিআরসির পরিচালক কর্নেল সাজ্জাদ গোয়েন্দা পুলিশসহ ভোর সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের ১৬৬, সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বরণির আল-রাজী কমপ্লেক্সে দিগন্ত টেলিভিশনের অফিসে গিয়ে এর সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। এ সময় কর্মকর্তারা সম্প্রচারের যন্ত্রপাতি জব্দ করে। পরে জব্দ তালিকা কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হয়। জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি এ টেলিভিশনটি সরাসরি সম্প্রচার করে আসছিল। এ কারণেই সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা। দিগন্ত টেলিভিশনের কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, কি কারণে সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তা কর্তৃপক্ষকে তারা জানায়নি। শুধু বলেছে- ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ আছে, সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে হবে। অপরদিকে রাত তিনটার দিকে রাজধানীর ৩৪/১, পরিবাগ (চতুর্থ তলা) সোনারগাঁও রোডের ইসলামিক টেলিভিশনের অফিসে আসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। ইসলামিক টেলিভিশনের অফিস সূত্র জানায় রাত ৩টার দিকে পুলিশ এসে সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। তবে কি কারণে সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে সে সম্পর্কে তারা কিছু জানায়নি। চ্যানেল দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার কর্মী বেকার হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে কেউ কেউ অন্য গণমাধ্যমে চাকরি পেলেও, এখনও বেশিরভাগ কর্মী বেকার রয়েছেন বলে জানা গেছে। ১/১১-এর পর কয়েকজন শরিক নিয়ে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাটির দায়িত্ব নেন মাহমুদুর রহমান। বিএনপিপন্থী ও সরাসরি জামায়াতে ইসলামী নিয়ন্ত্রিত অভিযোগ এনে পত্রিকাটিতে সরকারি বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ রাখা হয়। কোনো বিজ্ঞাপন না দেওয়ায় দিন দিন পত্রিকাটি আর্থিক সঙ্কটে পড়ে। এর মধ্যেও পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিয়েছেন। ২০১৩ সালের প্রথমদিকে আমার দেশ পত্রিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপ সংলাপ প্রকাশ করা হয়। এর পরই বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করেন। এ ঘটনায় হাইকোর্টের আরেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সুয়োমটো রুল জারি করেন। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মানিকের এ আদেশ স্থগিত করে দিলেও ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার স্কাইপ সংলাপ প্রকাশ করার দায়ে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধী সমর্থক ও সাংবিধানিক নীতিবিরোধীদের সমর্থক অভিযোগ করে আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের দাবি করে গণজাগরণ মঞ্চ। এ রকম পরিস্থিতির মাঝেই ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল রাত ৯টায় ডিবিসহ পুলিশ তেজগাঁওয়ে আমার দেশ পত্রিকার প্রেস সিলগালা করে দেয়। ওই দিন সকালেই মাহমুদুর রহমানকে আমার দেশ কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময় সরকার তার মা ও পত্রিকার ছাপাখানার ১৯ কর্মচারীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। ওই মামলায় ১৯ জন শ্রমিককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় ছাপাখানা থেকে কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ জব্দ করে পুলিশ। এরপর ১২ ও ১৩ এপ্রিল অন্য ছাপাখানা থেকে পত্রিকাটি ছাপানো হয়। কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে অন্য ছাপাখানা থেকে পত্রিকাটি ছাপানোর দায়ে ১৩ এপ্রিল রমনা মডেল থানায় একটি মামলা হয়। এরপর থেকে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে। পত্রিকাটি ছাপা বন্ধ করায় পত্রিকা অফিসের প্রায় তিনশ সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ঢাকার বাইরে কর্মরত আরও প্রায় পাঁচশ সাংবাদিক বেকার হয়ে যান। সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ অনলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দৈনিক আমার দেশ কর্তৃপক্ষ। গত ১২ অক্টোবর নিকেতনে একটি ফ্লোর ভাড়ার চুক্তি সম্পন্নও করা হয়। নতুন অফিসের পরিসর বর্তমানের চেয়ে ছোট করা হয়। ভাড়ার টাকা কমিয়ে তা থেকে কর্মীদের বেতন দিতে চেয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সে চেষ্টাটিও সফল হয়নি। গত ৩১ অক্টোবর রাজধানীর কাওরান বাজারস্থ বিএসইসি ভবনের ১১ তলায় অবস্থিত পত্রিকাটির কার্যালয়ে রহস্যজনক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ভস্মিভূত হয়ে যায় সাড়ে নয় হাজার স্কয়ারফিটের অভ্যন্তরে থাকা আমার দেশের সব ধরনের যন্ত্রপাতি ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। বন্ধ হয়ে যাওয়া গণমাধ্যমগুলোর পক্ষে অনেকেই দাবি করেন, সরকারের বিরুদ্ধে সত্য লেখার চেষ্টা করায় চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি, আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, সোনার বাংলা ব্লগসহ বেশ কিছু ব্লগ সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্মরণকালের মধ্যে সবচাইতে স্বাধীনতা ভোগ করছে বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় দিগন্ত টেলিভিশনসহ দু’একটি টেলিভিশন দায়িত্বশীলতার বদলে ঘটনাকে উসকে দেয়া, বিদ্বেষ ও গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে চরম দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে।” ক্রমাগত ভাবে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করায় সরকার বাধ্য হয়ে দিগন্ত ও ইসলামি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন বা বিটিআরসি ২০১১ সালেন ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ওয়ান' এর সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। এতে চ্যানেটিতে কর্মরত ৪০০ সাংবাদিক, কর্মচারী ও কলাকুশলী বেকার হয়ে পড়েন। বন্ধের কারণ হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, টেলিযোগাযোগ আইন লঙ্ঘন করে চ্যানেল ওয়ান তাদের সম্প্রচার যন্ত্রপাতি ব্যাংকে বন্ধক রেখে পরবর্তীকালে সেগুলো নিলামে বিক্রি করে দেয়ার প্রেক্ষিতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চ্যানেলটিকে এ ব্যাপারে কয়েক দফা চিঠি দেয়ার পরও তাদের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক কোন উত্তর না পাওয়ায় সরকার বাধ্য হয়েই চ্যানেলটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। তবে চ্যানেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেছেন, ভিন্নমত দলন ও কণ্ঠরোধের অংশ হিসেবে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চ্যানেল ওয়ানের মালিক বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। বর্তমানে তিনি দুর্নীতির মামলায় জেল হাজতে আছেন। চ্যানেলটি ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করেছিল। অনেক কষ্ট নিয়ে এক দর্শক আমার ব্লগ ডট কম-এ মন্তব্য করেছেন এভাবে- একটা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অনেকের জীবন জীবিকা জড়িত থাকে। হয়ত মালিক পক্ষের কোন ভুল আছে, হয়ত কোন রাজনীতি আছে কিন্তু যারা ঐ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তারা সবাই নিশ্চয়ই কোন অপরাধ করেনি। কিন্তু শাস্তিটা তাদের ভোগ করতে হচ্ছে। তাদের চাকুরী গেছে, এখন হয়ত অনেক কষ্টে চলবে, বউ বাচ্চা-পরিবার নিয়ে অনেক বিপদে পড়ে গেল। এর আগে যখন একুশে টেলিভিশন বন্ধ হয়ে যায় তখনও একই অবস্থা হয়েছিল। জেএ, কেবি
Wednesday, December 3, 2014
বেকারত্ব বাড়ছে গণমাধ্যমকর্মীদের:Time News
র মধ্যেই, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই। আশংকাজনক হারে বেকার হয়ে পড়ছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়েছেন শত শত কর্মী। গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বলে থাকেন, দেশে গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং টেকসই করার জন্য শক্তিশালী গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণতান্ত্রিক সমাজে গণমাধ্যম দর্পনের মতো এবং এটি একটি শিল্প। কিন্তু এই গণমাধ্যম এখন কোন পথে? কেমন আছেন গণমাধ্যমকর্মীরা? ৩০ নভেম্বর দৈনিক অর্থনীতি প্রতিদিন বন্ধের ঘোষণা দেন কর্তৃপক্ষ। এতে বেকার হয়ে গেছেন শতাধিক সাংবাদিক। বন্ধের ঘোষণা দিয়ে টানানো নোটিশে বলা হয়, আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে গত ২৬ নভেম্বরের পর অর্থনীতি প্রতিদিনের সাংবাদিকরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। সবশেষ পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদক আব্দুল হকের সঙ্গে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই গ্রুপের নেতারা বৈঠক করেন। তাদের পক্ষ থেকে পত্রিকাটি চালু রাখার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সম্পাদক অপারগতা প্রকাশ করেন। অর্থনীতি প্রতিদিন ২০১২ সালের ২ ডিসেম্বর বাজারে আসে। শুরু থেকেই নানা সংকটে চলছিল এর প্রকাশনা। গত কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ করে দিলেও পরে কর্মীদের চাপে পুনরায় চালু হয়। তবে সে সময় অনেককে ছাঁটাই করা হয়। অর্থনীতি প্রতিদিনের পর বন্ধ হয়ে গেল দৈনিক বর্তমান। ১ ডিসেম্বর পত্রিকাটির শেষ সংখ্যা বের হয়েছে। ৩০ নভেম্বর রাতে সংবাদকর্মীরা কাজ শেষ করে চলে যাওয়ার পর গভীর রাতে মালিকপক্ষ পত্রিকাটি বন্ধের ঘোষণা সংবলিত নোটিশ টানিয়ে দেয়। মালিক জেলে থাকায় আর্থিক সংকটে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। দৈনিক বর্তমান বাজারে আসে ২০১৩ সালের ২ জুলাই। এর মালিক কল্যাণপুর মিজান টাওয়ারের মিজানুর রহমান। তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। বাংলাদেশে কোনো পত্রিকায় এভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিরাট অংকের বেতনভাতায় সাংবাদিক নিয়োগ করা হয়নি। শুরুতে পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক রাহাত খান। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। গত ২ নভেম্বর বিকাল থেকে চ্যানেল 16-এর সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. আকতারুজ্জামান তালুকদারের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধের আদেশ দেয়া হয়। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত চ্যানেলটির পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের অনুমতি নেয়া ছিল। এর পর আর চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষ অনুমতি নেননি। ১৭ বছর পর বন্ধ হয়ে গেছে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা সাপ্তাহিক ২০০০। দীর্ঘদিন লোকসানে থাকার পর মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ২৯ অক্টোবর পত্রিকাটির সম্পাদক মইনুল আহসান সাবের সাপ্তাহিক ২০০০ বন্ধের ঘোষণা দেন। ১৯৯৮ সালে সাপ্তাহিক ২০০০ চালু করা হয়। মরহুম সাংবাদিক শাহাদাত চৌধুরী ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। গত বছরের (২০১৩ সাল) ৬ মে ভোর রাত থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দিগন্ত মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান ‘দিগন্ত টেলিভিশন’ ও 'ইসলামিক টেলিভিশন' এর সম্প্রচার। বেসরকারি এ টিভি চ্যানেল দুটির কার্যালয়ে গিয়ে সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় গোয়েন্দা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা। এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে চ্যানেল দুটির সম্প্রচার। দিগন্ত মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, বিটিআরসির পরিচালক কর্নেল সাজ্জাদ গোয়েন্দা পুলিশসহ ভোর সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের ১৬৬, সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বরণির আল-রাজী কমপ্লেক্সে দিগন্ত টেলিভিশনের অফিসে গিয়ে এর সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। এ সময় কর্মকর্তারা সম্প্রচারের যন্ত্রপাতি জব্দ করে। পরে জব্দ তালিকা কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হয়। জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি এ টেলিভিশনটি সরাসরি সম্প্রচার করে আসছিল। এ কারণেই সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা। দিগন্ত টেলিভিশনের কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, কি কারণে সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তা কর্তৃপক্ষকে তারা জানায়নি। শুধু বলেছে- ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ আছে, সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে হবে। অপরদিকে রাত তিনটার দিকে রাজধানীর ৩৪/১, পরিবাগ (চতুর্থ তলা) সোনারগাঁও রোডের ইসলামিক টেলিভিশনের অফিসে আসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। ইসলামিক টেলিভিশনের অফিস সূত্র জানায় রাত ৩টার দিকে পুলিশ এসে সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। তবে কি কারণে সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে সে সম্পর্কে তারা কিছু জানায়নি। চ্যানেল দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক হাজার কর্মী বেকার হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে কেউ কেউ অন্য গণমাধ্যমে চাকরি পেলেও, এখনও বেশিরভাগ কর্মী বেকার রয়েছেন বলে জানা গেছে। ১/১১-এর পর কয়েকজন শরিক নিয়ে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাটির দায়িত্ব নেন মাহমুদুর রহমান। বিএনপিপন্থী ও সরাসরি জামায়াতে ইসলামী নিয়ন্ত্রিত অভিযোগ এনে পত্রিকাটিতে সরকারি বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ রাখা হয়। কোনো বিজ্ঞাপন না দেওয়ায় দিন দিন পত্রিকাটি আর্থিক সঙ্কটে পড়ে। এর মধ্যেও পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিয়েছেন। ২০১৩ সালের প্রথমদিকে আমার দেশ পত্রিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপ সংলাপ প্রকাশ করা হয়। এর পরই বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করেন। এ ঘটনায় হাইকোর্টের আরেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সুয়োমটো রুল জারি করেন। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মানিকের এ আদেশ স্থগিত করে দিলেও ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার স্কাইপ সংলাপ প্রকাশ করার দায়ে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধী সমর্থক ও সাংবিধানিক নীতিবিরোধীদের সমর্থক অভিযোগ করে আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের দাবি করে গণজাগরণ মঞ্চ। এ রকম পরিস্থিতির মাঝেই ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল রাত ৯টায় ডিবিসহ পুলিশ তেজগাঁওয়ে আমার দেশ পত্রিকার প্রেস সিলগালা করে দেয়। ওই দিন সকালেই মাহমুদুর রহমানকে আমার দেশ কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময় সরকার তার মা ও পত্রিকার ছাপাখানার ১৯ কর্মচারীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। ওই মামলায় ১৯ জন শ্রমিককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় ছাপাখানা থেকে কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ জব্দ করে পুলিশ। এরপর ১২ ও ১৩ এপ্রিল অন্য ছাপাখানা থেকে পত্রিকাটি ছাপানো হয়। কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে অন্য ছাপাখানা থেকে পত্রিকাটি ছাপানোর দায়ে ১৩ এপ্রিল রমনা মডেল থানায় একটি মামলা হয়। এরপর থেকে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে। পত্রিকাটি ছাপা বন্ধ করায় পত্রিকা অফিসের প্রায় তিনশ সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ঢাকার বাইরে কর্মরত আরও প্রায় পাঁচশ সাংবাদিক বেকার হয়ে যান। সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ অনলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দৈনিক আমার দেশ কর্তৃপক্ষ। গত ১২ অক্টোবর নিকেতনে একটি ফ্লোর ভাড়ার চুক্তি সম্পন্নও করা হয়। নতুন অফিসের পরিসর বর্তমানের চেয়ে ছোট করা হয়। ভাড়ার টাকা কমিয়ে তা থেকে কর্মীদের বেতন দিতে চেয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সে চেষ্টাটিও সফল হয়নি। গত ৩১ অক্টোবর রাজধানীর কাওরান বাজারস্থ বিএসইসি ভবনের ১১ তলায় অবস্থিত পত্রিকাটির কার্যালয়ে রহস্যজনক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ভস্মিভূত হয়ে যায় সাড়ে নয় হাজার স্কয়ারফিটের অভ্যন্তরে থাকা আমার দেশের সব ধরনের যন্ত্রপাতি ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। বন্ধ হয়ে যাওয়া গণমাধ্যমগুলোর পক্ষে অনেকেই দাবি করেন, সরকারের বিরুদ্ধে সত্য লেখার চেষ্টা করায় চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি, আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, সোনার বাংলা ব্লগসহ বেশ কিছু ব্লগ সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্মরণকালের মধ্যে সবচাইতে স্বাধীনতা ভোগ করছে বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় দিগন্ত টেলিভিশনসহ দু’একটি টেলিভিশন দায়িত্বশীলতার বদলে ঘটনাকে উসকে দেয়া, বিদ্বেষ ও গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে চরম দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে।” ক্রমাগত ভাবে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করায় সরকার বাধ্য হয়ে দিগন্ত ও ইসলামি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন বা বিটিআরসি ২০১১ সালেন ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল ওয়ান' এর সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। এতে চ্যানেটিতে কর্মরত ৪০০ সাংবাদিক, কর্মচারী ও কলাকুশলী বেকার হয়ে পড়েন। বন্ধের কারণ হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, টেলিযোগাযোগ আইন লঙ্ঘন করে চ্যানেল ওয়ান তাদের সম্প্রচার যন্ত্রপাতি ব্যাংকে বন্ধক রেখে পরবর্তীকালে সেগুলো নিলামে বিক্রি করে দেয়ার প্রেক্ষিতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চ্যানেলটিকে এ ব্যাপারে কয়েক দফা চিঠি দেয়ার পরও তাদের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক কোন উত্তর না পাওয়ায় সরকার বাধ্য হয়েই চ্যানেলটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। তবে চ্যানেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেছেন, ভিন্নমত দলন ও কণ্ঠরোধের অংশ হিসেবে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চ্যানেল ওয়ানের মালিক বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। বর্তমানে তিনি দুর্নীতির মামলায় জেল হাজতে আছেন। চ্যানেলটি ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করেছিল। অনেক কষ্ট নিয়ে এক দর্শক আমার ব্লগ ডট কম-এ মন্তব্য করেছেন এভাবে- একটা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অনেকের জীবন জীবিকা জড়িত থাকে। হয়ত মালিক পক্ষের কোন ভুল আছে, হয়ত কোন রাজনীতি আছে কিন্তু যারা ঐ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তারা সবাই নিশ্চয়ই কোন অপরাধ করেনি। কিন্তু শাস্তিটা তাদের ভোগ করতে হচ্ছে। তাদের চাকুরী গেছে, এখন হয়ত অনেক কষ্টে চলবে, বউ বাচ্চা-পরিবার নিয়ে অনেক বিপদে পড়ে গেল। এর আগে যখন একুশে টেলিভিশন বন্ধ হয়ে যায় তখনও একই অবস্থা হয়েছিল। জেএ, কেবি
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment