Thursday, December 4, 2014

মুক্তির মোহনায় ফুলবাড়ী:Time News

মুক্তির মোহনায় ফুলবাড়ী মাসউদুর রহমান টাইম নিউজ বিডি, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৪ ০৯:১৫:২৮ ৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১। এ দিন পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী মুক্ত করে বাংলার মুক্তিকামী যোদ্ধারা।পরাজয় নিশ্চিত জেনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করে পাকিস্তান। এদিন পাকিস্তানের অনুরোধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যুদ্ধবিরতি এবং পূর্ব
ও পশ্চিমাঞ্চলের উভয় রণাঙ্গনে দু-দেশের সৈন্য প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ভারতের অনুরোধে তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন এ প্রস্তাবে ভেটো দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটোর ফলে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত আদায়ে ব্যর্থ হয়। ১৯৭১’র ৩ ডিসেম্বর বিমান হামলা পরিচালনার পরপরই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতিসংঘের মহাসচিব উ থান্টের কাছে পত্র পাঠান। ভারতীয় আক্রমণের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তান সীমিত আকারে বিমান হামলা পরিচালনা করেছে বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন। এই চিঠির মাধ্যমে ইয়াহিয়া খান আরও আবেদন জানান যে, ভারতীয় আগ্রাসনের ফলে যে আগুন জ্বলে উঠেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন তা গোচরে নেয় এবং এক দেশের বিরুদ্ধে অপরের শক্তি ব্যবহার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একাত্তরের এ দিনে পাকিস্তানী হানাদারদের হাতে অবরুদ্ধ ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) মুক্ত হয়। ভারতীয় মিত্রবাহিনী যৌথভাবে ফুলবাড়ী উপজেলার জলপাইতলি, রুদ্রানী, পানিকাটা, দেশমা, জলেশ্বরী, মিরপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে এসে পাক হানাদারদের ওপর চতুর্মুখী আক্রমণ চালায়। মুক্তিকামী বাঙালীদের আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি সেনারা বুঝতে পারে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত। তাই মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেতে ফুলবাড়ীর শাখা যমুনা নদীর লোহার ব্রিজটি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে গ্রামীণ পথ দিয়ে সৈয়দপুরে পালিয়ে যায়। পরে মুক্তিবাহিনী ফুলবাড়ীকে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে মুক্তি স্বাদ গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল হায়দার এবং অপর কমান্ডার হাবিলদার আবদুল মতিনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাক সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ৭০ জন পাক হানাদার ও তাদের সহযোগী নিহত হয়। মুক্তিবাহিনী কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ ব্রিজটি মাইন বিস্ফোরণের মাধ্যমে উড়িয়ে দেয়। মিত্রবাহিনীর ২৩ মাউন্টেড ডিভিশনের মেজর জেনারেল আর ডি বিহারের নেতৃত্বে বৃহত্তর কুমিল্লায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। মিত্রবাহিনীর একটি ট্যাংকবহর বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া হয়ে দেবিদ্বার সদরে আসে। হানাদাররা এ রাতে দেবিদ্বার ছেড়ে কুমিল্লা সেনানিবাসে পালিয়ে যায়। ৪ ডিসেম্বর সকালে দেবিদ্বারের উল্লাসিত বাংলার দামাল ছেলেরা স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে আনন্দ-উল্লাস করে। এদিকে কামালপুরে (জামালপুর) পাক হানাদার বাহিনীর শক্তিশালী ও সুসজ্জিত একটি দল বিপুল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। টানা ১০ দিনের যুদ্ধের পর ৪ ডিসেম্বর এখানে ৩১ বালুচ রেজিমেন্টের পতন ঘটে। পাক ক্যাপ্টেন হাসান কোরেশির নেতৃত্বে ওই রেজিমেন্টের ১৬৫ পাকসেনা ছিল। অন্যদিকে বাংলার দামাল ছেলেরা ঝিনাইগাতীকে হানাদারমুক্ত করে স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ায়। '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে এদিনে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে বিপর্যস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী জীবননগরের দখলদারিত্ব ছেড়ে পালিয়ে যায়। নিরবিচ্ছিন্ন আক্রমণে এদিনই জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) মুক্ত হয়। একের পর এক এলাকা মুক্ত করে মুক্তি সেনারা ঢাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন।আর তখন ঢাকায় গেরিলা যোদ্ধারা নানা অপারেশনের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখছিল। এমআর/ এআর


No comments:

Post a Comment