১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার পর '৫২-এর ভাষা আন্দোলন, '৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, '৬৬-এর ছয় দফা ও ১১ দফা আন্দোলন, '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, '৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং '৯৬-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ সব প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার ইতিহাস রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনের। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ভর্তি বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্য ও সংঘর্ষের কারণে বার বার অসস্তিতে পড়ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। গত ২৬ নভেম্বর বরিশালে গণপূর্ত বিভাগের ৪৪ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঠিকাদারদের ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে র্যানব-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৮ নভেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ৩ জন আহত হন। এদিকে গত ২৮ নভেম্বর রাতে ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময় হয়। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ সময় ব্যাপক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গত ৩ ডিসেম্বর সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বেশকিছু সাধারণ ছাত্র হল ত্যাগ করেন। পুরান ঢাকার দর্জি বিশ্বজিৎ ও ঢাকা কলেজের মেধাবী ছাত্র ফারুকসহ ছাত্রলীগের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। তাদের হাতে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব নিয়ে আজও বেঁচে আছেন অনেক মায়ের আদরের সন্তান। সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু-গ্রুপের সংঘর্ষে সুমন নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। গুরুতর আহত হন আরও ৭ জন। এর একদিন পরেই গত ২১ নভেম্বর ছাত্রলীগ সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে একটি সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলেন, এই সংঘর্ষের সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত নয়। বহিরাগতরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই এর দ্বায় ছাত্রলীগ নেবে না। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতির এমন বক্তব্যে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমন কি সরকারের মন্ত্রী এমপিরাও ছাত্রলীগ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন। কি কারণে ছাত্রলীগ বার বার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন? কেন তাদেরকে থামানো যাচ্ছে না- এ প্রশ্ন এখন সবার। এদিকে, ছাত্রলীগে কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের কালজয়ী সিনিয়র নেতারা। এসব নেতাদের কারো কথাই শুনছেন না ছাত্রলীগ নেতারা। ছাত্রলীগের অপকর্মের ব্যাপারে সরকার কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেও কোন ভাবেই তাদের লাগাম ধরে রাখতে পারছেনা। একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছে তারা। এদের ব্যাপারে কথা বলে বিব্রত অবস্থায় পড়ছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। গত ২১ নভেম্বর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ছাত্রলীগকে রক্ষা করতে হবে। গুটিকয়েক কর্মী সংগঠনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও প্রধানমন্ত্রীর কষ্টার্জিত অর্জন ম্লান করে দিচ্ছে। সময় চলে যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর হাতেগড়া ছাত্রলীগকে আবারও নীতি-আদর্শের পথে নিয়ে আসতে হবে। এর পরেই গত ২৯ নভেম্বর সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের ‘ক্লিন ক্যাম্পাস অ্যান্ড সেইফ ক্যাম্পাস’ কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, একমাত্র শেখ হাসিনা ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা ছাড়া কে কোন বক্তব্য দিয়েছে, কোন লেখা লিখেছে, তাতে কিছু যায়–আসে না। সেটি কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। আমাদের কিঞ্চিৎ ক্ষতিও করতে পারবে না। এ নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথাও নেই। এ ব্যাপারে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন- ছাত্রলীগের মধ্যে কিছু বহিরাগত ও আগাছা ঢুকে পড়েছে। এগুলোকে সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। পাশাপাশি ডাকসু নির্বাচন সময়মতো না হওয়া এবং ছাত্রলীগে প্রকৃত ছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব না দেয়াকে দায়ী করছেন অনেকে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দু-গ্রুপের সংঘর্ষে সুমন দাস নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়। এরপর পর গত ২৪ নভেম্বর সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ভিডিও কনফারেন্সে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার সাজ্জাদুল হাসান ও পুলিশ কমিশনার মো. কামরুল আহসানের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারও মুখের দিকে না তাকিয়ে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছুদিন আগে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বোধহয় এক সমস্যা দেখা দিয়েছে, এ সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে জানতে চাই।” “এখানে একটা নির্দেশ আমি দিতে চাই, যারাই এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করবে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস করবে, যে দলের হোক, কে কোন দলের সেটা দেখার কথা না, যারা এ ধরণের কর্মকাণ্ড করবে সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে হবে।” অন্যদিকে গত ২ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত ‘ক্লিন ক্যাম্পাস, সেফ ক্যাম্পাস’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, ক্যাম্পাসকে শুধু পরিচ্ছন্ন রাখলেই চলবে না, সন্ত্রাসমুক্তও রাখতে হবে। এজন্য ছাত্রলীগকেও সন্ত্রাসমুক্ত হতে হবে। ছাত্রলীগ নেতাদের এক সময় মানুষ যে রকম সম্মান করত, আবার সে অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ছাত্রলীগের অতীত ঐতিহ্য আছে, তোমাদের তা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। গত ২০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তোফায়েল আহমদ বলেন, রাজশাহী, চট্টগ্রাম এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ যা করছে তা মেনে নেয়া যায় না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রলীগ মনে করছে- খুন করলে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চলে গেছে। এর খেসারত আওয়ামী লীগকে দিতে হচ্ছে। ছাত্রলীগ কখনো ছাত্রলীগকে হত্যা করতে পারে না। ছাত্রলীগতো এমন ছিল না। গত ২ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্রলীগ আয়োজিত ‘ক্লিন ক্যাম্পাস, সেইফ ক্যাম্পাস’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, শিক্ষাঙ্গণকে আবর্জনা ও দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতিকেও আবর্জনামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করতে হবে। এ সময় তিনি ছাত্রলীগকে উদ্দেশে করে বলেন, তোমরা এখানে এসেছ জীবন গড়ার জন্য, জীবিকার জন্য নয়। বেপরোয়া চালক দুর্ঘটনা ঘটায়। বেপরোয়া রাজনীতিও বেপরোয়া চালকের মতোই ধ্বংসাত্মক। তোমাদের কেউ বেপরোয়া হবে না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ছাত্রলীগ একটি বড় ছাত্র সংগঠন। দেশের গৌরবোজ্জল প্রতিটি অর্জনের পিছনে ছাত্রলীগের ভূমিকা রয়েছে। একটি গোষ্ঠী ছাত্রলীগের এই গৌরবকে ম্লান করে দিতে অতীতেও ষড়যন্ত্র করেছে, এখনও করছে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী অপকর্মে জড়াচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। এমআর/জেএ/এসএইচ
Saturday, December 6, 2014
ছাত্রলীগের কাছে অসহায় আওয়ামী লীগ:Time News
১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার পর '৫২-এর ভাষা আন্দোলন, '৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, '৬৬-এর ছয় দফা ও ১১ দফা আন্দোলন, '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, '৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং '৯৬-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ সব প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার ইতিহাস রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনের। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ভর্তি বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্য ও সংঘর্ষের কারণে বার বার অসস্তিতে পড়ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। গত ২৬ নভেম্বর বরিশালে গণপূর্ত বিভাগের ৪৪ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঠিকাদারদের ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে র্যানব-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৮ নভেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ৩ জন আহত হন। এদিকে গত ২৮ নভেম্বর রাতে ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময় হয়। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ সময় ব্যাপক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গত ৩ ডিসেম্বর সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বেশকিছু সাধারণ ছাত্র হল ত্যাগ করেন। পুরান ঢাকার দর্জি বিশ্বজিৎ ও ঢাকা কলেজের মেধাবী ছাত্র ফারুকসহ ছাত্রলীগের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। তাদের হাতে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব নিয়ে আজও বেঁচে আছেন অনেক মায়ের আদরের সন্তান। সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু-গ্রুপের সংঘর্ষে সুমন নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। গুরুতর আহত হন আরও ৭ জন। এর একদিন পরেই গত ২১ নভেম্বর ছাত্রলীগ সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে একটি সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলেন, এই সংঘর্ষের সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত নয়। বহিরাগতরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই এর দ্বায় ছাত্রলীগ নেবে না। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতির এমন বক্তব্যে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমন কি সরকারের মন্ত্রী এমপিরাও ছাত্রলীগ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন। কি কারণে ছাত্রলীগ বার বার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন? কেন তাদেরকে থামানো যাচ্ছে না- এ প্রশ্ন এখন সবার। এদিকে, ছাত্রলীগে কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের কালজয়ী সিনিয়র নেতারা। এসব নেতাদের কারো কথাই শুনছেন না ছাত্রলীগ নেতারা। ছাত্রলীগের অপকর্মের ব্যাপারে সরকার কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেও কোন ভাবেই তাদের লাগাম ধরে রাখতে পারছেনা। একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছে তারা। এদের ব্যাপারে কথা বলে বিব্রত অবস্থায় পড়ছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। গত ২১ নভেম্বর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ছাত্রলীগকে রক্ষা করতে হবে। গুটিকয়েক কর্মী সংগঠনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও প্রধানমন্ত্রীর কষ্টার্জিত অর্জন ম্লান করে দিচ্ছে। সময় চলে যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর হাতেগড়া ছাত্রলীগকে আবারও নীতি-আদর্শের পথে নিয়ে আসতে হবে। এর পরেই গত ২৯ নভেম্বর সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের ‘ক্লিন ক্যাম্পাস অ্যান্ড সেইফ ক্যাম্পাস’ কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, একমাত্র শেখ হাসিনা ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা ছাড়া কে কোন বক্তব্য দিয়েছে, কোন লেখা লিখেছে, তাতে কিছু যায়–আসে না। সেটি কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। আমাদের কিঞ্চিৎ ক্ষতিও করতে পারবে না। এ নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথাও নেই। এ ব্যাপারে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন- ছাত্রলীগের মধ্যে কিছু বহিরাগত ও আগাছা ঢুকে পড়েছে। এগুলোকে সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। পাশাপাশি ডাকসু নির্বাচন সময়মতো না হওয়া এবং ছাত্রলীগে প্রকৃত ছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব না দেয়াকে দায়ী করছেন অনেকে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দু-গ্রুপের সংঘর্ষে সুমন দাস নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়। এরপর পর গত ২৪ নভেম্বর সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ভিডিও কনফারেন্সে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার সাজ্জাদুল হাসান ও পুলিশ কমিশনার মো. কামরুল আহসানের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারও মুখের দিকে না তাকিয়ে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছুদিন আগে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বোধহয় এক সমস্যা দেখা দিয়েছে, এ সম্পর্কে পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে জানতে চাই।” “এখানে একটা নির্দেশ আমি দিতে চাই, যারাই এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করবে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস করবে, যে দলের হোক, কে কোন দলের সেটা দেখার কথা না, যারা এ ধরণের কর্মকাণ্ড করবে সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে হবে।” অন্যদিকে গত ২ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত ‘ক্লিন ক্যাম্পাস, সেফ ক্যাম্পাস’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, ক্যাম্পাসকে শুধু পরিচ্ছন্ন রাখলেই চলবে না, সন্ত্রাসমুক্তও রাখতে হবে। এজন্য ছাত্রলীগকেও সন্ত্রাসমুক্ত হতে হবে। ছাত্রলীগ নেতাদের এক সময় মানুষ যে রকম সম্মান করত, আবার সে অবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ছাত্রলীগের অতীত ঐতিহ্য আছে, তোমাদের তা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। গত ২০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তোফায়েল আহমদ বলেন, রাজশাহী, চট্টগ্রাম এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ যা করছে তা মেনে নেয়া যায় না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রলীগ মনে করছে- খুন করলে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চলে গেছে। এর খেসারত আওয়ামী লীগকে দিতে হচ্ছে। ছাত্রলীগ কখনো ছাত্রলীগকে হত্যা করতে পারে না। ছাত্রলীগতো এমন ছিল না। গত ২ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্রলীগ আয়োজিত ‘ক্লিন ক্যাম্পাস, সেইফ ক্যাম্পাস’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, শিক্ষাঙ্গণকে আবর্জনা ও দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতিকেও আবর্জনামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করতে হবে। এ সময় তিনি ছাত্রলীগকে উদ্দেশে করে বলেন, তোমরা এখানে এসেছ জীবন গড়ার জন্য, জীবিকার জন্য নয়। বেপরোয়া চালক দুর্ঘটনা ঘটায়। বেপরোয়া রাজনীতিও বেপরোয়া চালকের মতোই ধ্বংসাত্মক। তোমাদের কেউ বেপরোয়া হবে না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ছাত্রলীগ একটি বড় ছাত্র সংগঠন। দেশের গৌরবোজ্জল প্রতিটি অর্জনের পিছনে ছাত্রলীগের ভূমিকা রয়েছে। একটি গোষ্ঠী ছাত্রলীগের এই গৌরবকে ম্লান করে দিতে অতীতেও ষড়যন্ত্র করেছে, এখনও করছে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী অপকর্মে জড়াচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। এমআর/জেএ/এসএইচ
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment