সংঘর্ষ-গ্রেপ্তারে পালিত ২০ দলের হরতাল, নিহত ১ নিজস্ব প্রতিবেদক আরটিএনএন ঢাকা: সড়ক অবরোধ, পুলিশের বাধা, সংঘর্ষ আর গ্রেপ্তারে পালিত হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের সোমবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। হরতালে পিকেটারদের ইটের আঘাতে নোয়াখালীতে এক স্কুলশিক্ষিকা নিহত হয়েছে। গাজীপুরে সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদ এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলের নেতাদের মুক্তির দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এইহরতাল ডেকেছিল। এবারের হরতালে জোটের প্রধান শরিক বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের তুলনামূলক বেশি সক্রিয় দেখা গেছে। বিপরীতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া অবস্থানের পাশপাশি মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের পাশপাশি মিছিল পিকেটিং করেছে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তবে জোটের অন্য শরিকদের তৎপরতা চোখে পড়েনি। সকালে মিরপুরের পল্লবীতে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মিছিলে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। এতে স্বপন নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে আটক করে পুলিশ। রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল নেতারা মিছিল-পিকেটিং করেছে। নয়াপল্টনসহ কয়েকটি এলাকায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। হরতালে অন্য দিনের চেয়ে রাজধানীতে যান চলাচল ছিল কম। কিছু গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেলেও ব্যক্তিগত গাড়ি তেমন চোখে পড়েনি। এছাড়া দূরপাল্লার গাড়ি ছেড়ে যায়নি, ঢাকায়ও প্রবেশ করেনি। তবে রেল চলাচল ছিল স্বাভাবিক। গলির ভেতর দোকানপাট খোলা দেখা গেছে। অফিস-আদালত ও ব্যাংক-বীমা খোলা থাকলেও উপস্থিতি ছিল কম। সহিংসতার আশঙ্কায় প্রয়োজন ছাড়া লোকজন বাসার বাইরে যায়নি। হরতালে সহিংসা ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীতে। পুলিশ ২০ দলের মিছিলে বাধা দিলে সংঘর্ষের একপর্যায়ে পিকেটারদের ঢিলের আঘাতে এক স্কুলশিক্ষিকা নিহত হন। হরতালে নাশকতা চেষ্টার অভিযোগে সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে গ্রেপ্তার হন দুই ছাত্রদল কর্মী। চট্টগ্রামে বিএনপির মিছিল থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাজশাহীতে পুলিশের গাড়িতে হরতাল সমর্থকদের হামলা, ভাঙচুর ছাড়াও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। সংঘর্ষ হয়েছে ফেনীতেও। এছাড়া গাজীপুরে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন পিকেটিংয়ের ঘটনা ঘটে। তবে গ্রেপ্তার ছাড়া বড় ধরনের কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। হরতালকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ২০ দলের ৪৪২ জনকে আটক, ১১০ জনকে আহত এবং তিনজনকে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্তব্য
No comments:
Post a Comment