Wednesday, December 3, 2014

যেসব কারণে দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশের অবনতি :Natun Barta

ঢাকা: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচকে (সিপিআই) এ বছর বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে। এ সূচকে এ বছর বিশ্বের ১৭৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪ নম্বরে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার সিপিআই ২০১৪ এর বৈশ্বিক প্রকাশ উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে
বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।   সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টিআই প্রকাশিত সিপিআই ২০১৪ অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থান ২০১৩ সালের তুলনায় উভয় ক্ষেত্রেই হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া, বৈশ্বিক গড় স্কোরের তুলনায় বাংলাদেশের ২০১৪ সালের স্কোর অনেক কম হওয়ায় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন হওয়ায় দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা উদ্বেগজনক।   এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আরো কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।   সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, এ বছর বাংলাদেশ ০-১০০ স্কেলে ২৫ স্কোর পেয়ে ১৭৫টি দেশের মধ্যে ঊর্ধ্বক্রম অনুসারে ১৪৫তম এবং নিম্নক্রম অনুসারে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে। ২০১৩ সালের তুলনায় অবস্থানের নিম্নক্রম অনুযায়ী দুই ধাপ নিচে নেমেছে এবং গত বছরের ২৭ স্কোরের চেয়ে দুই স্কোর কম পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়াও উচ্চক্রম অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ এবছর নয় ধাপ নিচে নেমে গেছে।   তিনি বলেন, 'একমাত্র আফগানিস্তান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নিম্নক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় সর্বনিম্নে অবস্থান করছে এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ দুই পয়েন্ট কম পাওয়ায় এবং তা বৈশ্বিক গড় ৪৩ এর চেয়ে অনেক কম হওয়ায় সার্বিকভাবে দুর্নীতির বৈশ্বিক ধারণা সূচকে বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রকট আকার ধারণ করেছে।'   তিনি আরো বলেন, '২০১৪ সালের সিপিআই অনুযায়ী ৯২টি দেশের স্কোর বৃদ্ধি পেয়েছে, ৪৭টি দেশ পূর্বের স্কোর ধরে রেখেছে। অন্যদিকে যে ৩৬টি দেশের স্কোরের অবনতি হয়েছে,দুঃখজনকভাবে সেই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।'   ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিমত প্রকাশ করে বলেন, 'বিভিন্ন কারণে সিপিআই সূচকে এবছর ক্রমাবনতি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো  দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের ঘাটতি, কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্তের অভাব, দুদকের স্বাধীনতা খর্ব করার অপপ্রয়াস, পদ্মা সেতু প্রকল্প, রেলওয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, শেয়ারবাজার, হলমার্ক ও ডেসটিনি এবং সোনালী ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে ব্যাপক অনিয়ম, রানা প্লাজার ঘটনার ব্যাপারে শৈথিল্য, ক্ষমতাবানদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পদের বৃদ্ধি, খেলাপী ঋণের দৌরাত্ম্য, সংসদসহ সংশ্লিষ্ট জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা, নিয়োগ বাণিজ্যের রাজনীতিকীকরণ এবং ভূমি ও নদী-জলাশয় দখলের মহোৎসব।'   তিনি আরো বলেন, 'বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুদককে অনেক সময়ই দেখা গেছে সরকারের এক প্রকার বি-টিমের ভূমিকা পালন করতে।' এ প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'সিপিআই সম্পর্কে যথাযথ ধারণার অভাবে মনে করা হয় বাংলাদেশ বা তার অধিবাসীরা দুর্নীতিগ্রস্ত। বাস্তবে দেশের আপামর জনগণ দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। তারা দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী মাত্র। ক্ষমতাবানদের দুর্নীতি ও তা প্রতিরোধে দেশের নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যর্থতার কারণে দেশ বা জনগণকে কোনোভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত বলা যাবে না।'   প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সঙ্গে একই স্কোর প্রাপ্ত আরো অন্য চারটি দেশ হলো  গিনি, লাওস, কেনিয়া ও পাপুয়া নিউগিনি।   ২০১৪ সালে ৯২ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ডেনমার্ক। ৯১ স্কোর পেয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় স্থানে থাকা ফিনল্যান্ডের স্কোর ৮৯। ৮ স্কোর নিয়ে এ বছর তালিকার সর্বনিম্নে অবস্থান করছে যৌথভাবে সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া। ১১ ও ১২ স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনিম্নের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দেশ হিসেবে রয়েছে যথাক্রমে সুদান ও আফগানিস্তান।   সূচকে স্কেলের ০ স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতার ধারণায় সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং '১০০' স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতার ধারণার মাপকাঠিতে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত বা সর্বোচ্চ সুশাসন প্রতিষ্ঠিত দেশ বলে ধারণা করা হয়।   নতুন বার্তা/জবা  


No comments:

Post a Comment