Wednesday, December 3, 2014

ঢাকার নদীগুলো উদ্ধারে বাধা নৌমন্ত্রী :Natun Barta

ঢাকা: `ভুল সংশোধন করে নিচ্ছি’-এভাবেই একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি তার ভুলের পর সাড়া দিয়ে থাকেন। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলেন আমাদের নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি ভুলকে সঙ্গে করেই এগিয়ে যেতে চান। এমনকি তার জন্য চড়া মূল্য দিতে হলেও তিনি তা করবেন। বিগত তিন বছরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দেশের নদী সীমানায় হাজারখানেক সীমানা ভুল সীমানা পিলার বসিয়েছে। আর এর ফলে বিশেষত ঢাকার
চারটি প্রধান নদীর প্রায় দুই ৫০০ একর জায়গা ভূমিদস্যুদের কবলে চলে গেছে। সূত্র অনুযায়ী, দখলে চলে যাওয়া এসব জমির বাজার মূল্যের পরিমাণ হবে ২৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এর পরিবেশগত মূল্য অপূরণীয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় নদী সুরক্ষা কমিটির প্রধান শাহজাহান খান এসব ভুল সীমানা ও দখলের বিষয়ে সবই জানেন। তার মন্ত্রিত্বের মেয়াদের পুরো সময়টাতে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নানা আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তিনি ভুল সংশোধনে কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ মুহূর্তে নৌপরিবহন মন্ত্রী বিআইডব্লিউটিএ’কে নদীর ভুল সীমানা পিলার মেনে নিতে চাপ দিচ্ছেন। শাজাহান খান বলেন, “নদীর সীমান পিলার ভুল করেই লাগানো হোক কিংবা সঠিকভাবে তার দায়-দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ’কেই নিতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সরকারের কিছু দায়িত্বশীলদের ভুলের কারণে কন্ট্রাক্টরদের কেন তার ফল ভোগ করতে হবে।” তিনি নদীগুলো রক্ষার চাইতেও কন্ট্রাক্টরদের অপরিশোধিত পাওনার বিষয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। নদীগুলো কি ভূমি দস্যুদের হাতে তোলে দেয়া হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে পরবর্তী সময়ে নদী উদ্ধার করা খুব কঠিন কাজ হবে না।” তবে কোন সময়ে এ পদক্ষেপ নেয়া হবে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলেননি। নদীর প্রজেক্টে ব্যায় ধরা হয়েছে ২০.৫ কোটি টাকা। আর এর মধ্যে কন্ট্রাক্টরদের পরিশোধ করা হয়েছে ১৯.৩ কোটি টাকা। ২০০৯ সালের হাইকোর্টের এক আদেশে সরকারকে নদীর ক্ষয়প্রাপ্ত এলাকাগুলো রক্ষার নির্দেশ দেয়। এর পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু ও ধলেশ্বরি নদীর এলাকায় মাছের ঝাঁক এলাকা নির্মাণের কথাও বলা হয়। দেশের নদীগুলো রক্ষায়, বিশেষত ঢাকার নদীগুলোকে ভূমি দস্যু ও দূষণ থেকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করেন। ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজিপুর ও মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ নদীর দুই তীরের ১১০ কিলোমিটারে সীমানা পিলার নির্ধারণে অংশ নেন। তারা শুষ্ক মৌসুমেই ক্ষীণ পানির স্রোতে তাদের সীমানা পিলার বসিয়ে দেন। বিআইডব্লিউটিএ এর তথ্যমতে, ভুল সীমানা নির্ধারণের কারণে শীতলক্ষ্যা তার ১৮৬০ একর জমি হারিয়েছে। এর মধ্যে ৫৯৫ একর জায়গা হচ্ছে মাছের ঝাঁক এলাকা। ভুল সীমানা নির্ধারণের পরিমাণ আরো ভয়াবহ হতে পারে আশংকা প্রকাশ করে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান বলেন, “ভুল সীমানা মেনে নেয়া হলে নদীগুলো হারাতে হবে।” তিনি বলেন, “ভুল সীমানার কারণে ভূমিদস্যুতা হচ্ছে, নদীদূষণ হচ্ছে এবং আমাদের হারাতে হচ্ছে হাজার হাজার একর জায়গা।” কন্ট্রাক্টটরদের অপরিশোধিত টাকার বিষয়ে নৌমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু বলেন, “এটা বড় কোনো ইস্যু হতে পারে না।” তিনি বলেন, “আমি নৌমন্ত্রীর জায়গায় থাকলে এটা হতে দিতাম না।” এবিষয়ে নৌ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নির্ধারিত কাজটি যদি সঠিক পন্থায় না হয় সেক্ষেত্রে কন্ট্রাক্টটরদের অপরিশোধিত টাকা বড় কোনো বিষয় নয়।” তিনি বলেন, “জাতীয় টাস্কফোর্সের কাজে কী অগ্রগতি হয়েছে তা জানাতে আমরা নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করেছি।” পরিবেশ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রধান হাছান মাহমুদ বলেন, “ভুল পিলারগুলো তোলে নেবার আগে আমরা ভুল সীমানার বিষয়টি সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি বলেন, “আমি মনে করি, পূর্বের সিদ্ধান্তের আলোকেই নদীগুলোর প্রকৃত সীমানাটা বের করে নেয়া উচিত।” এদিকে টাস্কফোর্স কমিটির কাজ নিয়ে ভিতরেই অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। নাম না প্রকাশের শর্তে কমিটির এক সদস্য বলেন, “টাস্কফোর্সে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই আলোচনা হয়। নদী রক্ষায় এটি ভালোভাবে কাজও করছে না।” তিনি বলেন, “কমিটি বলছে বেশি, কিন্তু করছে না কিছুই।” বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক কাজী ওয়াকিল নেওয়াজ বলেন, “২০১১ সালে আমরা শীতলক্ষ্যা নদীতে দুই হাজার ১৯৮ টি ভুল সীমানাপ্রাচীর শনাক্ত করেছি।” ঢাকার বন্দর কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন ভুল সীমানার বিষয়টি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, “বুড়িগঙ্গার কদমতরী মৌজায় ৯২টি পিলারের মধ্যে ৪১টি ভুল পিলার পাওয়া গেছে। একইরকম পিলার দেখা গেছে রামচন্দ্রপুর ও মিরপুর মৌজায়। বালু, তুরাগ নদী, ইচ্ছাপুর ও টঙ্গীতে ভুল সীমানা পিলার রয়েছে।” এবিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ কী করছে- জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শাসুদ্দোহা খন্দকার বলেন, “কতগুলো ভুল পিলার রয়েছে তা শনাক্ত করতেই আমরা কাজ করছি।”-ডেইলি স্টার। নতুন বার্তা/জিএস/জবা


No comments:

Post a Comment