ন করেছিলেন। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। অসুস্থ হওয়ার পর রাত ১টার দিকে ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এই অধ্যাপককে। সেখানে চিকিৎসকরা দেখেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুল আক্তার বলেন, ‘উনাকে অ্যাম্বুলেন্সেই আমরা দেখেছিলাম, আনার আগেই মারা গিয়েছিলেন উনি।’ মৃত্যুর কারণ কী- জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগের ধারণা দেন। তবে যেহেতু কোনও পরীক্ষা হয়নি, সেজন্য নিশ্চিত করে কিছু বলেননি তিনি। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর জন্ম ১৯২৮ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহে। ফজলুর রহমান সিদ্দিকী ও হালিমা খাতুনের এই সন্তানের পড়াশোনার হাতেখড়ি কলকাতায়, নর্মাল স্কুলে। তার বাবা ওই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। বাবার চাকরি সূত্রে বিভিন্ন স্কুল ঘুরে ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় স্টার মার্কসসহ উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন তিনি। ১৯৪৭ সালে আইএ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ভারত ভাগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে ভর্তি হন জিল্লুর রহমান। এই বিভাগে তার সহপাঠী ছিলেন কবি শামসুর রাহমান, ডেইলি স্টারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এস এম আলী, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মুজিবুল হক। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৫২ সালে সরকারি বৃত্তি নিয অক্সফোর্ডে যান তিনি। দেশে ফেরার পর প্রথমে ঢাকা কলেজে যোগ দেন। এরপর ১৯৫৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেন তিনি। ১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন জিল্লুর রহমান। ১৯৮৪ সালে উপাচার্য পদ থেকে বিদায় নিলেও ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে থেকেছিলেন তিনি। এর মধ্যে বিশ্বভারতীতেও পড়িয়ে আসেন তিনি। ২০০০ সালে বেসরকারি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হন অধ্যাপক জিল্লুর। তিন বছর পর সেখান থেকে তিনি স্বেচ্ছাঅবসর নেন। বাংলা একাডেমি, এশিয়াটিক সোসাইটিতে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি; নাগরিক নাট্য চক্রের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ইংরেজি-বাংলা মিলিয়ে অধ্যাপক জিল্লুর রহমানের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৪০টি৷ এর মধ্যে ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত ‘শব্দের সীমানা’ প্রবন্ধ গ্রন্থের জন্য তিনি ‘আলাওল সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন৷ তার কবিতা গ্রন্থ ‘হৃদয়ে জনপদে’ বাংলা একাডেমি পুরস্কার পায়। ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয় জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীকে। মন্তব্য নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মাঈনুল হোসেন আর নেই (ইন্না লিল্লাহে... রাজিউন)। মৃত্যুকালে ত . . . বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দিয়ে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী কেন বাতিল ঘোষণা কর . . . বিস্তারিত
Thursday, November 13, 2014
জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী আর নেই:RTNN
ন করেছিলেন। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। অসুস্থ হওয়ার পর রাত ১টার দিকে ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এই অধ্যাপককে। সেখানে চিকিৎসকরা দেখেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুল আক্তার বলেন, ‘উনাকে অ্যাম্বুলেন্সেই আমরা দেখেছিলাম, আনার আগেই মারা গিয়েছিলেন উনি।’ মৃত্যুর কারণ কী- জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগের ধারণা দেন। তবে যেহেতু কোনও পরীক্ষা হয়নি, সেজন্য নিশ্চিত করে কিছু বলেননি তিনি। জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর জন্ম ১৯২৮ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহে। ফজলুর রহমান সিদ্দিকী ও হালিমা খাতুনের এই সন্তানের পড়াশোনার হাতেখড়ি কলকাতায়, নর্মাল স্কুলে। তার বাবা ওই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। বাবার চাকরি সূত্রে বিভিন্ন স্কুল ঘুরে ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় স্টার মার্কসসহ উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন তিনি। ১৯৪৭ সালে আইএ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ভারত ভাগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে ভর্তি হন জিল্লুর রহমান। এই বিভাগে তার সহপাঠী ছিলেন কবি শামসুর রাহমান, ডেইলি স্টারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এস এম আলী, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মুজিবুল হক। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৫২ সালে সরকারি বৃত্তি নিয অক্সফোর্ডে যান তিনি। দেশে ফেরার পর প্রথমে ঢাকা কলেজে যোগ দেন। এরপর ১৯৫৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেন তিনি। ১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন জিল্লুর রহমান। ১৯৮৪ সালে উপাচার্য পদ থেকে বিদায় নিলেও ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে থেকেছিলেন তিনি। এর মধ্যে বিশ্বভারতীতেও পড়িয়ে আসেন তিনি। ২০০০ সালে বেসরকারি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হন অধ্যাপক জিল্লুর। তিন বছর পর সেখান থেকে তিনি স্বেচ্ছাঅবসর নেন। বাংলা একাডেমি, এশিয়াটিক সোসাইটিতে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি; নাগরিক নাট্য চক্রের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ইংরেজি-বাংলা মিলিয়ে অধ্যাপক জিল্লুর রহমানের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৪০টি৷ এর মধ্যে ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত ‘শব্দের সীমানা’ প্রবন্ধ গ্রন্থের জন্য তিনি ‘আলাওল সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন৷ তার কবিতা গ্রন্থ ‘হৃদয়ে জনপদে’ বাংলা একাডেমি পুরস্কার পায়। ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয় জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীকে। মন্তব্য নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মাঈনুল হোসেন আর নেই (ইন্না লিল্লাহে... রাজিউন)। মৃত্যুকালে ত . . . বিস্তারিত নিজস্ব প্রতিবেদকআরটিএনএনঢাকা: বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দিয়ে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী কেন বাতিল ঘোষণা কর . . . বিস্তারিত
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment