ধর্ষণ হত্যাই নয়, বাংলাদেশী নারীর কিডনীও ছিনতাই! স্টাফ রিপোর্টার টাইম নিউজ বিডি, ২২ এপ্রিল, ২০১৫ ১১:৪৭:০৭ আমাদের মেয়ে যদি দুর্ঘটনায় মারা যায়, তাহলে তাদের রিপোর্ট দিতে সমস্যা কোথায়? আমরা প্রথম থেকে বলছি তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। নিহতের লাশের গায়ে নির্যাতনের যথেষ্ট আলামত রয়েছে। তড়িগড়ি লাশ দাফন করা হলো, ভারতের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবেদন দেয়া হলো না। আমরা আদালতে যাবো, এর শেষ দেখে ছাড়বো। খুলনা থেকেটেলিফোনে টাইমনিউজবিডিকে কথাগুলো বলছিলেন মৃত নার্গিস বেগমের মামী রাহেলা বেগম। তারা ভারত সরকারের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ চান। রাহেলা বেগম জানান, নার্গিস বেগম কিভাবে মারা গেছেন সে বিষয়ে পুলিশ তাদেরকে কিছুই জানায়নি। তবে তাদের বিশ্বাস নার্গিসকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীর থেকে স্তন ও কিডনি কেটে নিয়ে মৃতদেহ ফেলে রাখা হয়েছে। নার্গিসের এক হাত ও পা ভাঙ্গা ছিল। তার শরীতে ১০ থেকে ১৫ টি কাটা দাগ রয়েছে। এদিকে, ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের পুলিশ দাবি করেছে, নিহত বাংলাদেশী নাগরিক নার্গিস বেগমের সঙ্গে আদৌ কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি – এবং মৃতের মেডিক্যাল পরীক্ষা করেই তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন। ওই মহিলার দেহটি গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যের ফিরোজাবাদ পুলিশের তত্ত্বাবধানে আগ্রার মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা ছিল। নিহতের পরিবার যে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে, সে কথা জানানো হলে ফিরোজাবাদ জেলার পুলিশ-প্রধান পীযূষ শ্রীবাস্তব একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বলেন, ধর্ষণের কোনও ঘটনা মোটেই ঘটেনি। ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েই ওনার মৃত্যু হয়েছিল। ভারতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার বাংলাদেশী নারী নার্গিস আক্তারের (৩৪) লাশ ফেরত দিয়েছে দেশটির পুলিশ। ২০ এপ্রিল সকালে তার লাশ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে হস্তান্তর করা হয়। তিনি খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার ৩/১, কেডিএ এপ্রোস রোডের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিনের মেয়ে। প্রায় চল্লিশ দিন আগে ভারতে ধর্ষনের পর চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। নিহতের মা মনিমালা জানান, আজমির শরীফ যাওয়ার জন্য মেয়ে নার্গিস আক্তার ও নার্গিসের মেয়ে কহিনূর কাকলীকে (০৯) নিয়ে ৯ মার্চ পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তিনি ভারতে যান। ওই দিনই হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে করে দিল্লির উদ্দেশে রওয়ানা হন তারা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৪/৫ জন যুবক দিল্লি এসে গেছে বলে আমাদেরকে নামতে বলে। এ সময় তারা সবাই ট্রেন থেকে নেমে যান। নার্গিস ট্রেনে ভুলে রেখে আসা একটি ব্যাগ আনতে গেলে ৩/৪জন ওর মুখ চেপে ধরে ট্রেনের গার্ডের রুমে নিয়ে যায়। মনিমালা বলেন, আমি অন্ধ মানুষ চোখে দেখি না। কেবল মেয়ের চিৎকার শুনতে পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকি। ততক্ষণে ট্রেন ছেড়ে চলে যায়। পরে স্টেশন এলাকায় জিজ্ঞেস করে জানতে পারি এটা কানপুর স্টেশন। তিনি জানান, তাদের তিনটি পাসপোর্টই নার্গিসের কাছে ছিল। কয়েকদিন ধরে তিনি ওই স্টেশনে বসে কাঁদতে থাকেন। আর মানুষের কাছে মেয়ের খোজ জানতে চান। এ সময় কেউ বলেন, তোমার মেয়ে বাংলাদেশে চলে গেছে। পরে অপরিচিত কয়েকজন ১৬ মার্চ তাদের দু’জনকে পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধ পথে বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়ে যায়। গত ১৬ মার্চ হঠাৎ খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশ নার্গিস ভারতে মারা গেছে বলে বাড়িতে খবর দেয়। নার্গিসের মা আরো জানান, থানা থেকে মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ওই দিনই আমি থানায় একটি জিডি করি। মেয়ের ক্ষতিপূরণ ও লাশটি ফেরত এনে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ ৯টি দফতরে আবেদন করি। আমি এ হত্যার বিচার চাই। বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপূর্ব হাসান বলেন, ১৯ মার্চ খুলনা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ বিষয়টি বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনকে জানায়। ওই সময় নিহতের লাশ আগ্রার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছিল। দু’দেশের মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে লাশটি ফেরত আসে। জেএ
No comments:
Post a Comment