টার্গেট ছিল ১০১ নারী হত্যা, আজ তার রায় চাঁদপুর করেসপন্ডেন্ট টাইম নিউজ বিডি, ২২ এপ্রিল, ২০১৫ ০৯:০৭:৫৯ রসু খা বাংলাদেশের প্রথম সিরিয়াল কিলার। ১১ নারীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এ খুনি বর্তমানে চাঁদপুর জেলা কারাগারে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৯টি মামলার একটির রায় হবে আজ বুধবার। চাঁদপুরের মদনা গ্রামের ছিঁচকে চোর রসু খা ভালবাসায় পরাস্ত হয়ে এক সময় সিরিয়ার কিলারে পরিণত হয়। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তার লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের চিত্র বেরিয়ে আসে। নিজের মুখে স্বীকার করে ১১ নারী হত্যার কথা। তার টার্গেট ছিল ১০১টি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর। কিন্তু ফরিদগঞ্জে পুলিশের হাতে ধরা পরার পর তার সেই আশা গুঁড়েবালিতে পরিণত হয়। রসু যাদের হত্যা করেছে তারা সবাই ছিল গার্মেন্টস কর্মী। রসু ভালোবাসার অভিনয় করে নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ঢাকার সাভার ও টঙ্গী এলাকা থেকে চাঁদপুরে এনে প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। হত্যার শিকার ওইসব হতভাগ্য মেয়েদের অধিকাংশেরই সঠিক নাম ঠিকানা বা পরিচয় আজো জানা যায়নি। এলাকাবাসী তার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। রসুকে গ্রেপ্তারের পর চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ থানায় মোট ১০টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ১টি হত্যা ও অপরগুলো নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে। তার মামলাগুলো বিচারের জন্য চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে একটি মামলার রায়ে রসু খালাস পেয়ে যায়। এ অবস্থায় তার বাদবাকি মামলাগুলো চাঁদপুর আদালতে পুনরায় ফেরত পাঠিয়ে দেয় ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১টি এবং অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে ৮টি মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে টঙ্গীর গার্মেন্ট কর্মী শাহিদা হত্যা মামলার রায় আজ। সরকার পক্ষের আইনজীবীরা জানালেন, তারা তার সর্বোচ্চ সাজার ব্যাপারে আশাবাদী। আর রসুর পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী বললেন, রাষ্ট্রপক্ষ মামলার সাক্ষীদের হাজির করতে পরছে না। রসু খালাস পাবে। রসু খান বর্তমানে চাঁদপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন। তিনি সেখানে স্বাভাবিক আচরণ করছে বলে জানালেন চাঁদপুর জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক। রসু খার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর মধ্যে ৮টি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ এবং একটি মামলা যুক্তিতর্ক গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলা কবে শেষ হবে তা কেউ বলতে পারছে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাকিয়ে রয়েছে কবে হবে মামলার সমাপ্তি, আর তারা পাবেন স্বজন হত্যার বিচার। জেএ
No comments:
Post a Comment