ইয়েমেনে সাহায্য বিলম্বিত; মানবিক বিপর্যয় ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক টাইম নিউজ বিডি, ০৭ এপ্রিল, ২০১৫ ১৪:০০:৫২ একদিকে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে পালিয়ে যাওয়া প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদির পক্ষে এক দল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। উভয় পক্ষের ভয়াবহ এই সংঘর্ষে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টায় ১৪০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। সংঘর্ষের কারণে রেড ক্রসের সাহায্য পাঠানো বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে মানবিকতার চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট হাদির ঘাঁটি বলে পরিচিত এডেনে সোমবার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সারা দেশে নিয়ন্ত্রণ নেয়া হুতিরা সেখানেও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এডেনে নিহত ১৪০ জনের মধ্যে ১৭ জনই সাধারণ মানুষ। সেখানে এখনও সংঘর্ষ চলছে। হুতি বিদ্রোহীরা শহরটির সমুদ্র বন্দরটি দখলে নিতে চাচ্ছে। ত্রাণকর্মীরা সতর্ক করে দিয়েছে যে, অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলার দারিদ্র্য কবলিত এই রাজ্যের অবস্থা খুবই শোচনীয়। তার মধ্যে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট সেখানে বিমাল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ইরান শিয়াপন্থী বিদ্রোহীদেরকে মদদ দিয়ে যাচ্ছে। দি ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) জানিয়েছে যে, এক জন বহনকারী একটি বিমানে করে এক কর্মকর্তা সোমবার সানাতে যেতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু সেখানে মালামাল নিয়ে যেতে কোনো কার্গো বিমান পাওয়া যায়নি। আইসিআরসি মুখপাত্র সিতারা জাবীন বলেছেন যে, মানবিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। তিনি বলেন, "ইয়েমেনের অবস্থা খুবই সঙ্কটাপূর্ণ। বিশেষ করে এডেনে সংঘাত আরো তীব্রতর হচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত একটি কার্গো বিমান পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেটির মাধ্যমে সানাতে আমরা ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিতে পারি। সিতারা আরো বলেন, "ত্রাণ পাঠাতে আমরা সৌদি জোটের কাছে থেকে অনুমতি পেয়েছি। কিন্তু আমরা লজিস্টিক সমস্যার সমাধান বের করতে সক্ষম হইনি। সানায় যাতায়াত করে এমন এয়ারলাইন্স খুবই কম রয়েছে। অন্যদিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশটির এয়ারলাইনস তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। হুতিদের প্রতিরোধ: সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট গত ২৬ মার্চ থেকে হুতিদের অবস্থানে আকাশ থেকে বোমা নিক্ষেপ করছে এবং হাদি সমর্থকদের জন্য অস্ত্র ফেলেছে। কিন্তু হুতিরা তাদের প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বলেছে যে, বিমান হামলা বন্ধ হলে তারা শান্তি-আলোচনা মেনে নিবে। বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে কত জন মানুষ মারা গেছে, তার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানা যায়নি। তবে ত্রাণ এজেন্সি জানিয়েছে যে, ৩ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এডেন ও সানায় তাদের অনেকের জন্য মৌলিক চাহিদা পূরণ জরুরী হয়ে পড়েছে। আল আইয়াম পত্রিকার উপ-সম্পাদক বাশারাহীল হিশাম বলেছেন, "মানুষজন খাবার পাচ্ছে না। পানি নাই, বিদ্যুত নাই। হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতায় চেয়ে বেশি মানুষ। অনেক মানুষ আহত অবস্থায় আছে কিন্তু নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার মতো কোনো উপায় পাচ্ছে না। প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার ব্যবস্থা নাই।" গত সপ্তাহে এডেন ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্য আল-ধালে মৃত ব্যক্তিদের লাশ খোঁজা ও আহতদের সরিয়ে নেয়ার সময় রেড ক্রিসেন্টের অন্তত তিন জন স্বেচ্ছাসেবী নিহত হয়েছে। শুক্রবার আইসিআরসি'র এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। আইসিআরসি'র মারি ক্লাইর ফেঘানি বলেছেন, "এডেনের রাস্তায় মৃতদেহ পড়ে আছে। এ কারণে ২৪ ঘণ্টার মানবিকতার জন্য যুদ্ধ বিরতির অনুরোধ করেছি। যাতে করে লোকজন সেখানে গিয়ে মৃতদেহ সরিয়ে নিতে পারে।" হুতি বিদ্রোহীরা গত সেপ্টেম্বরে সানা দখল করে নেয় এবং এডেন ও পরে সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়া প্রেসিডেন্ট হাদিকে গৃহবন্দী করে রাখে। সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ'র মিলিশিয়ান অনুগতদের সাহায্যে ইয়েমেনের বিশাল এলাকার নিয়ন্ত্রণ করছে হুতিরা। জেডআই
No comments:
Post a Comment