Sunday, April 26, 2015

ক্ষমতা দিয়ে ফের সেনা মোতায়েনের দাবি খালেদার:আরটিএনএন

ক্ষমতা দিয়ে ফের সেনা মোতায়েনের দাবি খালেদার নিজস্ব প্রতিবেদক আরটিএনএন ঢাকা: বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনীকে নির্বাচনী এলাকায় ভোটের দিন এবং আগে-পরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মোতায়েন করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রবিবার দুপুরে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া এই দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটদান নিশ্চ
িত করতে নির্বাচনী এলাকায় আমরা বিচারিক ক্ষমতাসহ পর্যাপ্ত পরিমাণ সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের দাবি করেছিলাম। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিতে নির্বাচন কমিশন ধূর্ত অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তারা ভোট ডাকাতির পরিকল্পনার দোসর হয়ে এই অপকৌশল নিয়েছে।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রথমে বলেছিল- স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ভোটের আগে-পরে চারদিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। পরে চিঠি বদল করে বলা হয়েছে- সেনাবাহিনী সদস্যরা সেনা ছাউনিতে থাকবে। রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে ডাকবেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে কাজ করবেন।’ তিনি বলেন, ‘এটা অর্থহীন, পুরাই প্রতারণামূলক। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো- স্বশস্ত্র বাহিনীর ওপর তাদের আস্থা নেই। নির্বাচনের ফল পাল্টাতে যে পরিকল্পনা করছে, তাতে এই বাহিনীকে বাধা মনে করছে তারা। আর ক্ষমতাসীনদের দোসর হয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা বিচারিক ক্ষমতাসহ সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাচনী এলাকায় ভোটের দিন এবং আগে-পরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মোতায়েন করতে আবারো দাবি জানাচ্ছি।’ সংবাদ সম্মেলনে নগরীরর চিত্র তুলে ধরে উত্তর ও দক্ষিণ ঢাকা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে দল সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে নগরবাসীকে নীরব ভোট বিপ্লব ঘটিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের অপরাধের বিরুদ্ধে আমি ঢাকা ও চট্টগ্রামবাসীকে আগামী ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার নিরব প্রতিশোধ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আপনাদের ভোট অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি বিরাট শক্তি। ভোট হচ্ছে জনগণের এক বিরাট ক্ষমতা। সঠিকভাবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করুন। নিরব ভোট বিপ্লব ঘটান।’ ভোটারদের উদ্দেশে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার নিজেদের স্বার্থেই বুঝে-শুনে ভোট দিতে হবে এবং ভোটের ফল বুঝে নিতে হবে। আমি নগরবাসীর প্রতি আবেদন করছি, আপনারা দয়া করে ঢাকা দক্ষিণে আমাদের সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে ‘মগ’, ঢাকা উত্তরে তাবিথ আউয়ালকে ‘বাস’ এবং চট্টগ্রামে এম মনজুর আলমকে ‘কমলালেবু’ মার্কায় ভোট দিন। কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলার পদেও আমাদের সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দিন।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। মা-বোন, মুরুব্বি, তরুণসহ সব বয়স ও শ্রেণী-পেশার ভোটার সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে যাবেন। লাইন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন। অনিয়ম ও কারচুপি দেখলে সবাই মিলে প্রতিবাদ করবেন।’ তিনি বলেন, ‘ভোট গ্রহণ, গণনা, ফল ঘোষণা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় যারা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন, তাদের সকলের প্রতি আমার অনুরোধ- সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব পালন করবেন। কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব করবেন না।’ আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাস-নির্ভর নষ্ট রাজনীতির চ্যাম্পিয়ন উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘জনসংযোগে নেমে জনগণের আবেগ-উচ্ছ্বাস আমি দেখেছি। মানুষ উদ্বেলিত। পরিবর্তন কামনায় অধীর। আমি যেদিকে গিয়েছি, বাঁধভাঙ্গা স্রোতের মতো মানুষ নেমে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘এই গণজোয়ার দেখে আওয়ামী লীগ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। প্রকাশ্যে হাজার হাজার মানুষের সামনে উত্তরা, কারওয়ানবাজার, ফকিরাপুল ও বাংলামটরে পরপর চারদিন আমার বহরে হামলা করেছে। হামলাকারীদের পুলিশ সহযোগিতা করেছে।’ খালেদা জিয়া দাবি করেন, ‘সবচেয়ে মারাত্মক হামলা হয়েছে কারওয়ানবাজারে। সেখানে সুপরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ির খুব কাছে থেকে গুলি করা হয়েছে। অল্পের জন্য আমার জীবন রক্ষা পায়।’ হামলার ঘটনায় সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘এগুলো প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের উস্কানির ফল এবং সুপরিকল্পিত। এতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের সশস্ত্র কর্মীরা অংশ নেয়। টিভি ফুটেজে তাদের স্পষ্ট চিনেছি। ফকিরাপুলের হামলায় সাঈদ খোকনও অংশ নিয়েছে, যা আমরা পত্রিকার ছবিতে দেখেছি।’ সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনি বিনা ভোটে রাজকীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। এই দম্ভ ত্যাগ করুন। মনে রাখবেন, সব দিন সমান যায় না। এ পর্যন্ত যাই করেছেন, তিনটি সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হতে দিন। এতে আপনার ক্ষমতা যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় বসতে এবং বসার পর আপনি অনেক অপরাধ-অপকর্ম-অপকৌশল করেছেন। এখন রাষ্ট্রক্ষমতা আপনার কাছে বাঘের পিঠে সওয়ার হওয়ার মতো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। আপনি নামতে ভয় পাচ্ছেন।’ বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আপনি (শেখ হাসিনা) ভয় পাবেন না। আমরা আপনার মতো প্রতিশোধপ্রবণ নই। আপনি নম্র, ভদ্র, সংযমী হোন। উগ্র স্বভাব ও জিঘাংসার মনোবৃত্তি বদলান। গণতন্ত্র ও সংলাপের পথে আসুন। আমরা আপনাকে সহি সালামতে নিরাপদে নামতে সাহায্য করব এবং একই সমতলে দাঁড়িয়ে নির্বাচন করব। মানুষ যাকে খুশি বেছে নেবে। আসুন, সেই পথটা অন্তত খুলে দেই।’ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে নেপালে ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয়ে তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নববর্ষে নারী শ্লীলতাহানির ঘটনার নিন্দা ও ঘটনায় ব্যর্থতার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পতদ্যাগ দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত আছেন- ঢাকা আদর্শ আন্দোলন’র আহবায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্রিগেডিয়ার আ স ম হান্নাহ শাহ, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়া ২০-দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য ড. রেদোওয়ান উল্লাহ শাহেদী,  জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ইসলামি ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা ইসহাক, লেবার পার্টির চেয়ারম্যার মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব রেদোয়ান, বাংলাদেশ ন্যাপর জেবেল রহমান গানি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির খন্দকার গোলাম মুর্তজা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের কামরুজ্জামান খান, বাংলাদেশ ইসলামিক পাটির আবদুল মোবিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার পূর্ণ বক্তব্য...Khaleda_Zia_Brefing_26_04_2015 মন্তব্য      

No comments:

Post a Comment