Wednesday, January 7, 2015

অবরোধ-হরতালে কাবু দেশ, ভোগান্তি চরমে:Time News

অবরোধ-হরতালে কাবু দেশ, ভোগান্তি চরমে আবদুর রহমান টাইম নিউজ বিডি, ০৭ জানুয়ারি, ২০১৫ ১২:৫৩:৫৮ দ্বিতীয় দিনের মতো সারাদেশে চলছে ২০ দলীয় জোটের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ। এর সঙ্গে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় যোগ হয়েছে বিএনপির হরতাল। সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশবাসী। দূরপাল্লার তো দূরের কথা স্থানীয় পরিবহনও নামছে না রাস্তায়। এরইমধ্যে অবরোধ-হরতালের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। দূরপাল্লার কোন যানব
াহন ঢাকায় প্রবেশ না করায় রাজধানীর কাঁচা বাজারে দাম বেড়েছে সবজির। অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়তে শুরু করেছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে ৫ জানুয়ারি মুখো-মুখি অবস্থান নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ ও বিরোধী জোট ঘোষণা করে গণতন্ত্র হত্যা দিবস। এ উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি সোমবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীরা। এ নিয়ে রাজনীতির মাঠে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। আশঙ্কা দেখা দেয় বড় ধরণের কোন সংঘর্ষের। বিরোধী জোটের আন্দোলন ব্যর্থ করতে কৌশলী অবস্থান নেয় ক্ষমতাসীন সরকার। ২০ দলকে সমাবেশের অনুমতি না দিতে লুকোচুরি খেলায় মেতে ওঠেন ডিএমপি। একই সঙ্গে সমাবেশের আগের দিন রোববার থেকে রাজধানী শহর ঢাকাকে কার্যত সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে সরকার। দূরপাল্লার কোন যানবাহন প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি ঢাকায়। এমনকি রাজধানীর প্রবেশদ্বারগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে ভোগান্তি বাড়ানো হয় পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের। এছাড়াও দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী নৌযান চলাচলে পরোক্ষভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সব মিলিয়ে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয় পুরো দেশে থেকে।  এদিকে ৫ জানুয়ারি কালো পতাকা সমাবেশে যোগ দিতে বাধা দেয়া হয় ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। সমাবেশের আগের দিন রোববার থেকেই গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তাকে অবরুদ্ধ রাখা হয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয় তো দূরের কথা নিজের বাসাতেও তাকে যেতে দেয়া হয়নি। ২০ দল ঘোষিত গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচিতে বেগম খালেদা জিয়া যোগ দেয়ার চেষ্টা করলে ওই দিন তার কার্যালয়ের গেটে অবরুদ্ধ নেতাকর্মীদের ওপর পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে পুলিশ। এসময় অন্যান্য নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে খালেদা জিয়াও অসুস্থ হয়ে পড়েন। কালো পতাকা সমাবেশে যোগ দিতে না দেয়ায় ওই দিনই সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ২০ দলীয় জোটের এই শীর্ষ নেতা। এ ঘোষণার পরই আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশ। বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় অবরোধ-ভাংচুর আর অগ্নি সংযোগ। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে অবরোধকারীরা। বন্ধ হয়ে যায় দূর পাল্লার যানবাহন। সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ঢাকা। এছাড়াও অবরুদ্ধ খালেদা জিয়াসহ জোটের অবস্থান তুলে ধরতে সোমবার দুপরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসে নিরাপত্তার কারণে সেখানেই অবস্থান নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে সংবাদ কর্মীদের মধ্যে তার অবস্থান নিয়ে উত্তেজনা শুরু হলে মঙ্গলবার দুপুরে প্রেস ক্লাব ছাড়েন ফখরুল। এসময় প্রেস ক্লাবের গেইট থেকেই মির্জা ফখরুলকে গ্রেফতর করে গোয়েন্দা পুলিশ। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে আটকের প্রতিবাদে ওই দিনই দেশের উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় অবরোধের সঙ্গে বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা করে স্থানীয় বিএনপি। একারণে উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশে থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাজধানী শহর ঢাকা। দূর পাল্লাতো দূরের কথা স্থানীয় যানবাহনও চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দাম বাড়তে শুরু করেছে জিনিসপত্রের। এরইমধ্যে রাজধানীর বাজারগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে কাঁচা পণ্যের। মাঠ ভর্তি নানা রকম সবজি শোভা বর্ধন করলেও ঢাকার বাজারে সংকট। কৃষকরা উৎপাদন খরচ না পেলেও চড়া দামে কিনতে হচ্ছে রাজধানীবাসিকে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য সংকটের কারণে তাদেরকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে চড়া দামে। এছাড়াও যানবাহন সংকটের কারণে রাজধানীসহ সারাদেশে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই ছুটি কাটাতে বাড়িতে বা ভ্রমণে গিয়ে আটক পড়েছেন অবরোধ-হরতালের ফাঁদে। উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা। আগামী ৯ জানুয়ারি রাজধানীর টঙ্গীতে শুরু হচ্ছে এ ইজতেমা। এরইমধ্যে তাবলীগের মুরব্বীরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তাকে বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াত দিয়েছেন। একইসঙ্গে ইজতেমার সুবিধার্থে অবরোধ শিথীলের আহবান জানিয়েছেন। এআর


No comments:

Post a Comment