Wednesday, December 3, 2014

চূড়ান্ত প্রতিবেদনেও জানা গেল না বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ :Natun Barta

ঢাকা: গত ১ নভেম্বর সারা দেশে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।  তবে এতে ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের নির্দিষ্ট কোনো কারণ চিহ্নিত করা হয়নি। বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ বিপর
্যয়ের মূল কারণ কী তা জানানো হয়নি। বিদ্যুৎ প্রবাহ বা আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সির কারণে এ বিপর্যয় ঘটেছিল বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে ঠিক কোথা থেকে এ সমস্যার উৎপত্তি তাও নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।   স্বল্প সময়ের ব্যবধানে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিপর্যয় হয়ে থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।   ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় রোধে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী কিছু সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। সুপারিশে বলা হয়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কিছুটা সনাতন ও কিছুটা আধুনিক পদ্ধতির। এ ব্যবস্থাপনা পুরোটাই আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ সুপারিশ করা হয়েছে এতে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ দেয়ার কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে।   প্রসঙ্গত, গত ১ নভেম্বর বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড বিকল হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ওইদিন সকাল ১১টা ২৮ মিনিটে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা বিদ্যুৎ সঞ্চালন সাবস্টেশনে সমস্যা দেখা দিলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে পর্যায়ক্রমে দেশের সব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে বিদ্যুৎ সঞ্চালন আবার শুরু হয়। তবে বিকেলে আবার জাতীয় গ্রিড বিকল হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকে রাতের মধ্যে পর্যায়ক্রমে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।   বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. আহমেদ কায়কাউসকে প্রধান করে সাত সদস্যের এবং পিজিসিবির পরিচালক তপন কুমার রায়কে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। দু'টি কমিটিকেই তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয় তখন।   নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় বর্ধিত সময় চায় ড. আহমেদ কায়কাউসের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি। কমিটিকে দেয়া বর্ধিত সময় শেষে হয় ২৩ নভেম্বর রোববার। তখন একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। সেই প্রতিবেদনেও কোন স্থান থেকে বিপর্যয়ের সূত্রপাত তা জানা সম্ভব হয়নি। ৩ ডিসেম্বর বুধবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিল ওই কমিটি। নতুন বার্তা/বিজে/জবা  


No comments:

Post a Comment