Saturday, April 25, 2015

৫ টাকায় ইমার্জেন্সি পাবলিক টয়লেট:Time News

৫ টাকায় ইমার্জেন্সি পাবলিক টয়লেট মোরশেদ আলম মুকুল টাইম নিউজ বিডি, ২৪ এপ্রিল, ২০১৫ ১৮:৪৫:১৩ বিশ্বের ১৪০টি শহরের বাসযোগ্যতার মাপকাঠিতে ঢাকাকে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন মানের (অর্থাৎ ১৩৯তম) শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকার অর্জিত মান ছিল ৩৯/১০০। সর্বোচ্চ জনঘনত্বের শহর ও অতি উচ্চ জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারনে ভোগ করতে হয় নানামূখী সমস্যা। যার মধ্যে পাবলিক টয়লেট অন্যতম। ঢাকা শহরে অনেকগুলো স্থায়ী পাবলিক টয়লেট রয়েছে।
তবে সেই পাবলিক টয়লেটগুলো দিন দিন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। যার দরুন নগরবাসীরা এখন আর পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করতে চায় না। কিন্তু এমার্জেন্সির সময় এ টয়লেটগুলো ব্যবহার না করে কোন উপায় থাকেনা। পাবলিক টয়লেটগুলোতে নিয়মিত পরিষ্কার করা, ব্লিচিং পাউডার ছিটানো, হাত ধোয়ার সাবান সরবরাহসহ আরও কিছু শর্তে বার্ষিক চুক্তিতে ইজারা দেয়া হলেও প্রতিটি টয়লেটের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, সেখানে নেই কোন দরজা, হাত ধোয়ার সাবান এমনকি কোন কোন টয়লেটে ব্যবহারের জন্য নেই পর্যাপ্ত পানি। প্রধান সড়কের পাশে, লঞ্চ-রেল-বাস টার্মিনাল, হাসপাতাল, জনসমাগমপূর্ণ জায়গা, সভাস্থল, পাবলিক হল, খেলার মাঠ, বাজার, সিনেমা হল, ঐতিহ্যবাহী স্থানে পাবলিক টয়লেট রয়েছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক লোক সমাগম হয়। কিন্তু পাবলিক টয়লেটগুলো যদি ব্যবহারে অনুপযোগী হয়, তাহলে তারা কোথায় যাবে? এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা শহরে প্রায় ১০ লাখ রিকসা চালক ৮-১০ ঘন্টা রিকসা চালানোর কাজ করেন। অধিক সময় ঘরের বাইরে অবস্থান করতে হয় তাদের। যার কারণে এসব মানুষের স্বাভাবিকভাবেই টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ সমস্ত জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোতে চাহিদার তুলনায় টয়লেটের অপর্যাপ্ততা, নোংরা ও ব্যবহার অনুপযোগী থাকায় মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন যানবাহনের টার্মিনালে টয়লেট ব্যবহারের পরিবেশ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মহিলা ও শিশুরা। মার্কেটগুলোতে প্রচুর লোক সমাগম হয়। কিন্তু এসবের প্রায়টিতেই যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। ঢাকার মাত্র দুটি টয়লেটে নারী কর্মী আছে। বাকিগুলোতে নারীকর্মী না থাকার কারণে সেখানে নারীরা স্বাচ্ছন্ধ্যে ব্যবহার করতে পারেন না। কিন্তু পাবলিক টয়লেটে সেবামানের অবস্থা নাজুক এবং নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কোনো সুবিধা নেই। আর পরিবহণের সাথে জড়িত কর্মচারীদের দখল, টয়লেট এলাকায় গাড়ী ধোয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় টয়লেটে যাওয়া কঠিন। হাসপাতালে মানুষ আসে রোগ নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা নিতে । কিন্তু অপরিস্কার, অস্বাস্থ্যকর টয়লেটের কারণে সেই ব্যক্তিকে বহন করে নিয়ে যেতে হচ্ছে আরও কিছু রোগ। এর দ্বারা খুব সহজেই মানুষ পানিবাহিত রোগ, জন্ডিস, টাইফয়েড, ডায়রিয়া-কলেরা ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের উপর। বিবিএস রিপোর্ট অনুযায়ী রাজধানীতে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ বসবাস। ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ কাজের তাগিদে বাসা থেকে বের হয় আবার দেশের বিভিন্নস্থান থেকে কাজের প্রয়োজনে অস্থায়ীভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ আসছে রাজধানীতে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) মোট ৬৯টি পাবলিক টয়লেট থাকলেও ৪৭ টি দক্ষিণের। যার মধ্যে ৫ টি মোটামুটি ব্যবহার উপযোগী। ২ টি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ১০টি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ। ১০ টিতে কোন সেবা নেই। আর ৫০ ভাগ টয়লেটে নিয়মিত পানি থাকে না। ৭০ ভাগে প্রয়োজনীয় আলো-বাতাস নেই। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ একটি যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর নাবিস্কো মোড়, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড, ফার্মগেট ইন্দিরা রোড, ওসমানী উদ্যানে ৫টি পাবলিক টয়লেট নির্মিত হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প।   পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় পাবলিক টয়লেট বিষয়ক সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরী। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণস্থানে মহিলা, শিশু, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী বান্ধব পাবলিক টয়লেট স্থাপন, তাতে নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থা এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাবলিক টয়লেটগুলো যাতে করে মানুষ সহজে খুজে পায় এজন্য সাংকেতিক চিহ্ন সম্বলিত সাইনবোর্ড প্রদান করা। ইকোস্যানিটেশন পদ্ধতির মাধ্যমের পয়ঃবর্জ্য ও পানিকে পূন:ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা । স্বাস্থ্যকর ও পর্যাপ্ত টয়লেট জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই পারবে নগরীর পাবলিক টয়লেটের দৈন্যদশা দূর করতে। মহিলাদের অসুস্থতার একটি অন্যতম কারণ পানি কম পান করা বা নোংরা টয়লেট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী থাকায় টয়লেট ব্যবহার না করার জন্য মেয়েরা পানি কম পান করছে। এ অল্প বয়স থেকেই পানি কম পান করার কারণে মেয়েরা বড় হয়েও পেটের নানাসহ রোগে ভুগছে। নিচে ঢাকা সিটির কয়েকটি পাবলিব টয়লেটের বাস্তবচিত্র তুলে ধরা হল, শাহবাগ পাবলিক টয়লেট। গোসলের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষ দু’টিতে দীর্ঘ দিন ধরে পানির সংযোগ নেই। সেখানে ফুলও সোলা ব্যবসায়ী ভুট্টো হাসানের মালামাল রাখা হয়েছে। বাধ্য হয়ে টয়লেট ব্যবহার হচ্ছে গোসলের কাজে। নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট দুটির দরজা ভাঙ্গা। প্রশ্রাবও টয়লেটের ছাদেও ব্যবসায়ীদের প্রচুর মালামাল রাখার ফলে সাধারণের ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়েছে। আজিমপুরে পাশাপাশি দুইটি পাবলিক টয়লেটের অবস্থান। একটি আজিমপুর মেটারনীটি হাসপালের পার্শে অপরটি আজিমপুর বাসস্টান্ডের চার রাস্তা মোড়ে। আজিমপুর বাসস্টান্ডের সাথের টয়লেটের প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। টয়লেটে সরাসরি কোন পানির ব্যবস্থা না থাকায় দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় বলে দুর্গন্ধ আরো তীব্র , ফলে পথচারীদের নাক ও মূখে হাত দিয়ে হাটতে হচ্ছে। টয়লেটের ভিতরের অবস্থা আরো ভয়ংকর। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ ভিতরে প্রবেশ করার পর দুর্গন্ধে তার পেটের পীড়াসহ অন্যান্য রোগে ভোগতে হবে। টয়লেটের কমোটগুলো ভাংঙ্গা জরাজীর্ণ, পানির লাইন নেই ,বদনা, বালতি ভাংঙ্গা ও অপরিষ্কার, কোন সাবানও গোসলের ব্যবস্থা নেই। বিমানবন্দর রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন পাবলিক টয়লেটে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা টয়লেট ও প্রস্রাবের জায়গা এবং সবার জন্য দুটি করে টয়লেট ও প্রস্রাবখানা থাকলেও খুবই নোংরা ও দূর্গন্ধযুক্ত ভাংঙ্গা এবং অপরিষ্কার ফ্লাশহীন। হাতমুখ ধোয়ার জন্য দুটি বেসিন থাকলেও তার মধ্যে একটি ভাংগা। টিস্যু ও সাবানের ব্যবস্থা নেই। বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের পাবলিক টয়লেটে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা টয়লেট ও প্রস্রাবের জায়গা এবং সবার জন্য দুটি করে টয়লেট ও প্রস্রাবখানা আছে। প্রস্রাবখানা খুবই নোংরা ও দূর্গন্ধযুক্ত আর টয়লেটের কমোট ভাংঙ্গা ফ্লাশের ব্যবস্থা নেই। ধানমন্ডি লেক রবীন্দ্রসরোবর টয়লেটের পরিবেশের মত ভালো, সাবান, স্যাম্পু, টিস্যু,পরিষ্কার, এমনকি মুখ দেখার জন্য গ্লাসেরও ব্যবস্থা আছে এমনই টয়লেট আশা করেন সাধারণ মানুষ। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র প্রার্থীরা নানা কর্মপরিকল্পনা ইশতিহার আকারে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। তাদের ইশতিহারে অনেক ছোট কাট বিষয় স্থান পেলেও পাবলিক টয়লেটের মত একটি নিত্য প্রয়োজনীয়, যার জন্য সাধারণ মানুষ তীব্র ভোগান্তির শিকার হন, সে বিষয়টি স্থান পায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে বা ধরে রাখলে মূত্র থলিতে ব্যথা ও কষ্ট অনুভূত হতে পারে এবং ঘন ঘন প্রদাহ (ইনফেকশন) হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে পুরুষের তুলনায় মহিলাদের মূত্র নালী/থলিতে, কিডনীতে প্রদাহ ও এনাল ফিশার এর প্রকোপ বেশি। বাধ্য হয়ে কখনও অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার করা পুরুষের জন্যেতো আছেই মেয়েদের জন্যও ঝুকিপূর্ণ। একটি সক্রিয় পরিবেশ এবং তাদের অধিকার দাবি করতে ইচ্ছুক ও সক্ষম একটি জড়িত জনসংখ্যার একাধিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ আজ নিরাপদ,পরিচ্ছন্ন টয়লেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত। একটি শালীন টয়লেট সুস্থ জীবন, বৃহত্তর মানব মর্যাদা, স্বাধীনতা, নারী, পুরুষ, নারী ও ছেলেদের মধ্যে সমতা এবং সমাজ ও দেশের উন্নয়নের জন্য অনুঘটক হতে পারে। এমএ/এসএইচ

No comments:

Post a Comment