মিরপুরে দশ বছরে ক্রসফায়ারে নিহত ৪৪ কুষ্টিয়া করেসপন্ডেন্ট টাইম নিউজ বিডি, ২৩ এপ্রিল, ২০১৫ ১৩:৪৩:০১ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় গত দশ বছরে ৪৪ জন সন্ত্রাসী- চরমপন্থী ও ডাকাত ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। ক্রসফায়ার প্রথা চালু হবার পর জোট, তত্বাবধায়ক ও মহাজোট সরকারের সময়ে পুলিশ এবং র্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এসব নিহতের ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে ৯ এপ্রিল পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধের সময় ক্রসফায়ারে প্রথমনিহত হয় ছাতিয়ান ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বেলায়েত আলীর ছেলে পুলিশের তালিকাভুক্ত কুখ্যাত সন্ত্রাসী ময়নাল হোসেন। ২৩ এপ্রিল নিহত হয় আমলা ইউনিয়নের অঞ্জনগাছী গ্রামের ছামসুদ্দিন ছামুর ছেলে সন্ত্রাসী আমজাদ হোসেন। ২৪ এপ্রিল নিহত হয় বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেউপুর গ্রামের সেজের আলীর ছেলে সন্ত্রাসী আব্দুস ছাত্তার। ৩০ এপ্রিল নিহত হয় আমলা ইউনিয়নের অঞ্জনগাছী গ্রামের মৃত জবেদ মালের ছেলে সন্ত্রাসী ইজবার মাল। ১৭ মে নিহত হয় মালিহাদ ইউনিয়নের মালিহাদ গ্রামের দবির উদ্দিনের ছেলে সন্ত্রাসী লাল্টু। ৩০ জুন নিহত হয় কুষ্টিয়া সদর থানার শিমুলিয়া গ্রামের মেছের মোল্লার ছেলে বিপ্লবি কমিউনিষ্ট পার্টির আঞ্চলিক প্রধান স্বপন চক্রবর্তির সেকেন্ড ইন কমান্ড ১২ হত্যা মামলার আসামী সিরাজুল ইসলাম ওরফে শাহিন বাঙাল। ২৪ আগষ্ট নিহত হয় মালিহাদ ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের বাহার আলীর ছেলে সন্ত্রাসী রশিদ ওরফে সানোয়ার। ২৫ সেপ্টেম্বর নিহত হয় আমলা ইউনিয়নের অঞ্জনগাছী গ্রামের আবুবক্করের ছেলে সন্ত্রাসী আসাদুল। ৩০ সেপ্টেম্বর নিহত হয় মালিহাদ ইউনিয়নের আমানতপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে সন্ত্রাসী আনিছ। ১৬ অক্টোবর নিহত হয় মালিহাদ ইউনিয়নের আবুরি গ্রামের মোতালেব মন্ডলের ছেলে সন্ত্রাসী কাউছার উদ্দিন কছর। ২৮ অক্টোবর আমলা ইউনিয়নের ফার্মরোডের দোয়া পাড়ায় র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত হয় আলমডাঙ্গা উপজেলার যাদবপুর গ্রামের গোলাম আযমের ছেলে জনযুদ্ধের খুলনা বিভাগীয় প্রধান অসংখ্য খুনের আসামী আবির হাসান (নছর) ও তার সহযোগি মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের মহদিপুর গ্রামের মৃত নবিছদ্দিনের ছেলে সন্ত্রাসী তাইজাল ওরফে তাজু। ৪ ডিসেম্বর নিহত হয় আমলা ইউনিয়নের কচুবাড়ীয়া গ্রামের হেসার জোয়াদ্দারের ছেলে সন্ত্রাসী আব্দুল মাজেদ। ২১ ডিসেম্বর নিহত হয় চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙা উপজেলার মোচাইনগর গ্রামের মৃত রেজাউল মাষ্টারের ছেলে সন্ত্রাসী মিজানুর রহমান স্বপন। ২৮ ডিসেম্বর নিহত হয় চিথলিয়া ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের মৃত জোয়াত আলীর ছেলে কুখ্যাত সন্ত্রাসী কাবিল ও সদরপুর ইউনিয়নের হিদিরামপুর গ্রামের নবিজ উদ্দিনের ছেলে সন্ত্রাসী মারজুল ওরফে গুড্ডু। ২০০৭ সালে ২৪ জানুয়ারী নিহত হয় আমলা ইউনিয়নের কচুবাড়ীয়া গ্রামের নুরু সদ্দারের ছেলে ইকরুল। ১৩ মার্চ নিহত হয় কবর বাড়ীয়া গ্রামের ভাদু মন্ডলের ছেলে সন্ত্রাসী রবিউল ওরফে রবু। ২৮ আগষ্ট নিহত হয় আমলা ইউনিয়নের বুরাপাড়া গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে সন্ত্রাসী আনিছুর রহমান আনিছ। ২৪ অক্টোবর নিহত হয় পোড়াদহ ইউনিয়নের কলাবাড়ীয়া গ্রামের ছামছদ্দিনের ছেলে সন্ত্রাসী আব্দুল মজিদ। ৩১ ডিসেম্বর নিহত হয় কূর্ষা ইউনিয়নের পুটিমারি গ্রামের রফিকুল বিশ্বাসের ছেলে সন্ত্রাসী আমিরুল বিশ্বাস ওরফে রুলু। ২০০৯ সালে ৯ ফেব্রæয়ারী নিহত হয় জনযুদ্ধের আঞ্চলিক কমান্ডার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের মৃত মফিজের ছেলে কুখ্যাত সন্ত্রাসী আকবর আলী। ১৮ এপ্রিল নিহত হয় সদরপুর ইউনিয়নের ইসমাঈল মন্ডলের ছেলে সন্ত্রাসী আব্বাস। ২৮ জুন ক্রসফায়ারে নিহত হয় কুর্ষা ইউনিয়নের কাটদহরচর গ্রামের আছান আলীর ছেলে সন্ত্রাসী আনোয়ার হোসেন ওরফে সেলিম। ২ আগষ্ট উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বিল আমলা মাঠে সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর (৩৮) ও তার সহযোগী ইয়ারুল (৩৫) ক্রসফায়ারে নিহত হয়। সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর পাশ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের খলিশাকুন্ডি গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক দাউদ হোসেনের ও সন্ত্রাসী ইয়ারুল একই গ্রামের গেদুর ছেলে। ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় জাসদ গণবাহিনীর আঞ্চলিক নেতা কসাই সিরাজের সেকেন্ড ইন কমান্ড হান্নান ওরফে হেনু (৪০)। নিহত সন্ত্রাসী হেনু উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের মৃত শাহাদৎ হোসেন মন্ডলের ছেলে। ৯ সেপ্টেম্বর ভোরে আমলা মহদিপুর সেন্টুর আমবাগানে র্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে লাল পতাকার সন্ত্রাসী আনোয়ার হোসেন (৩৫) নিহত হয়। নিহত আনোয়ার দৌলতপুর উপজেলার গাছের দাইড় গ্রামের আমান মালিথার ছেলে। ২৫ সেপ্টেম্বর পুলিশের সাথে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা ইয়াদ আলী ওরফে ইদু (৪২) নিহত হয়। নিহত ইদু উপজেলার কুর্ষা ইউনিয়নের কুর্ষা গ্রামের মৃত মুল্লুক চাঁদের ছেলে। ১০ অক্টোবর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে বিপ্লবী কমিউনিষ্ট পাটির আঞ্চলিক নেতা আব্দুল্লাহ ওরফে মজনু (৪০) নিহত হয়। নিহত মজনু মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউপির চক গ্রামের মৃত সওদাগর মন্ডলের ছেলে। ২০১১সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলার আমলা ইউনিয়নের অঞ্জনগাছী গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে র্যাব ও পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পাটির আঞ্চলিক নেতা সাইদুল ইসলাম (৩৫) নিহত হয়। সন্ত্রাসী সাইদুল অঞ্জনগাছী গ্রামের মৃত আলিমউদ্দিনের ছেলে। ৪ মে ক্রসফায়ারে নিহত হয় জাসদ গনবাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার আব্দুল আলীম বিশ্বাস (৩৮)। নিহত সন্ত্রাসী আলীম উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের কলাবাড়ীয়া গ্রামের মৃত নূর উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। ১৫ মে ক্রসফায়ারে নিহত হয় সাইদুল ইসলাম (৩৮)। ২৩ নভেম্বর মিরপুরে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে ২ সন্ত্রাসী নিহত আহত হয়। তারা হল-মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামের ইনতাজুল ইসলামের ছেলে রাজা মিয়া (৩২) ও কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার তেকালা গ্রাামের ফুলচাঁদ আলীর ছেলে লিটন (২৮)। ২০১২সালের ৪ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের কুলাপাড়া গ্রামের পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আব্দুল জলিল (৪০) নামে এক চরমপন্থি নিহত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রাহাত আলী (৪৫) নামে এক চরমপন্থী নেতা নিহত হয়। রাহাত উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত নওয়াব আলীর ছেলে। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল জনযুদ্ধের শীর্ষ ক্যাডার এনামুল (৩৬) নিহত হয়। উপজেলার সদরপুর হিদিরাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। সে উপজেলার মোছাইনগর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর মিরপুরে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা এনামূল হক (৩৫) নিহত হয়। মিরপুর পৌর সভার ভাঙা বটতলায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। সে উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের আসাননগরের রবিউল ইসলামের ছেলে। মিরপুর এনামূলের বিরুদ্ধে ৭টি হত্যাসহ ডাকাতি, অপহরন, অস্ত্র ও চাঁদাবাজীর মোট ২৪টি মামলা ছিল। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মিরপুরে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুক যুদ্ধে ডাটা মিলন (৩২) নামে এক ডাকাত নিহত হয়। কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের চুনিয়াপাড়া মাঠে এ কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের লক্ষমীধড়দিয়ার গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। এআর
No comments:
Post a Comment