‘আ’লীগের আরেক দফা গোয়েবলীয় কুটচাল’ স্টাফ রিপোর্টার টাইম নিউজ বিডি, ২৩ এপ্রিল, ২০১৫ ১৫:০৭:৩০ দেশের শীর্ষ স্থানীয় ইংরেজী দৈনিক দি ডেইলি স্টার বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে তার অনলাইন এডিশনে লিড নিউজ হিসেবে একটি মতামত প্রকাশ করে। “Opinion: AL’s yet another Goebbelsian tactic” অর্থাৎ “মতামত: আওয়ামী লীগের আরেক দফা গোয়েবলীয় কুটচাল”-শীরোনামে ওই প্রতিবেদনে গত সোমবার (২০ এপ্রিল ২০১৫) রাজধানীর কারওয়ান বাজারেবিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার সাথে সরকার দলীয় লোকজনই যে জড়িত তার তথ্য তুলে ধরা হয়। খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলাকারী অনেকেরই ছবি দিয়ে তাদের পরিচয়ও তুলে ধরা হয় এতে। ডেইলি স্টারের মতামত প্রতিবেদনটির অনুবাদ টাইমনিউজবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো: “গত সোমবার বিকেলে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ এবং ছাত্রলীগের প্রায় ১৫০ কর্মী রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ইটের টুকরো ও কাঠের লাঠি দিয়ে গাড়ি বহরে আক্রমন করে। এতে চারজন আহত হন এবং খালেদা জিয়ার বুলেট প্রুফ গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বেগম জিয়া আহত হননি। বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আওয়ালের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে কারওয়ান বাজার এলাকায় গিয়েছিলেন। হামলার কারণে তার প্রচারণা কার্যক্রম বাধাপ্রাপ্ত হয়। এই ঘটনার পর আওয়ামী লীগের এক নেতা তড়িঘড়ি করে বিএনপির অজ্ঞাত ১০০জনকে আসামী করে মামলা করেন। মামলায় আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর বিএনপির কর্মীরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। অপরদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়, খালেদা জিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগের লোকেরা গুলি করেছে। ওই ঘটনার মাত্র দুই দিনের মাথায় গত বুধবার (২২ এপ্রিল ২০১৫) রাজধানীর বাংলা মটরে আবারো খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণার গাড়িবহরে প্রায় ৭০ জন লোক একই কায়দায় হামলা চালায়। এতে খালেদার সাথে থাকা কয়েকজন আহত হন। হামলাকারী কারা এই বিষয়টি যখন জনগণের কাছে দিবালোকের মতো পরিস্কার, তখন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘চিহ্নিত’ করে ফেলেছেন হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০১৫) রাতে জয় তার ফেসবুক পেইজে বলেন, ‘ক্ষুব্ধ জনতা’ বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা চালিয়েছেন। জয় বলেন, গত তিন মাসে বাসসহ গণপরিবহনে আগুন দিয়ে ১৬০ ব্যক্তিকে পুড়িয়ে মারা এবং বহুলোককে আহত করার জন্য খালেদা জিয়ার ওপর মানুষ প্রচন্ডভাবে ক্ষুব্ধ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে কারওয়ান বাজার এলাকায় হামলাকারীদের প্রায় সবাই পরিচিত মুখ। ডেইলি স্টারের অনুসন্ধানে দেখা যায়, হামলাকারীদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠন এবং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তারা ঢাকা তেজগাও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সরকার দলীয় নেতা-কর্মী। অন্যভাবে বলতে গেলে বলতে হয় জয়ের ‘ক্ষুব্ধ জনতা’ আর কেউ নন বরং তারই দলের ছাত্র-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের নেতারা ক্রমাগত উচ্চস্বরে বলতে পারেন যে তারা ওই হামলার জন্য দায়ী নয়, কিন্তু কেউই এটা বিশ্বাস করবেন না। এক মিলিয়ন বারও যদি একটি মিথ্যা বলা হয় সেটা সত্য হয়ে যায় না। জোসেফ গোয়েবলস সবচেয়ে বেশিমাত্রায় বার বার মিথ্যা বলার এই কৌশলটির প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি মাঝে-মধ্যে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পেরেছিলেন বটে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই কুটকৌশল সফলতার মুখ দেখেনি। গাড়ি বহরে হামলার বিষয়ে যদি একটু ধোয়াশার সৃষ্টি করা হয় তাহলে আওয়ামী লীগ বড়জোড় মানুষকে খানিকক্ষণের জন্য বিভ্রান্ত করতে পারবে। কিন্তু এটা দিবালোকের মতো পরিস্কার যে, উচ্চস্বরে মিথ্যাচারের ফলে খালেদা জিয়ার প্রতিই মানুষের সহমর্মিতা বাড়বে। আর এর ফলে জনগণ শেষ অবধি মোটেই বিভ্রান্ত হবেন না এবং বিএনপির নির্বাচনী প্রচারাভিযানে এর কোন নেতিবাচক প্রভাবও পড়বে না। কেবি
No comments:
Post a Comment