অবরুদ্ধ খালেদা: কার লাভ কার ক্ষতি নিজস্ব প্রতিবেদক আরটিএনএন ঢাকা: শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে একটি দিন কাটাল বাংলাদেশের মানুষ। সবার অপলক দৃষ্টি ছিল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের দিকে। কোটি কোটি মানুষের একটাই জিজ্ঞাসা ছিল- খালেদা কি আজ দলীয় কার্যালয় থেকে বের হতে পারবেন? শেষ পর্যন্ত এর উত্তর মিলেছে, তিনি বের হতে পারেননি। যোগ দিতে পারেননি কোনো সমাবেশেও। তবে তিনি তার বক্তব্য রেখেছেন, গভীর মনযোগে শুনেছেন দেশবাসী। অবরুদ্ধ অবস্থাতেই লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে অন্তত দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন তিনি। বহুল প্রত্যাশিত আজকের সমাবেশ হলেও এর চেয়ে বড় কোনো কর্মসূচি নিশ্চয়ই দিত না বিএনপি, বরং আরো নরম কর্মসূচি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। দৃশ্যত সরকারের একগুঁয়েমির প্রতিবাদেই এতো দ্রুত সবচেয়ে কঠোর অস্ত্রটিই ব্যবহার করেছেন খালেদা জিয়া। প্রশ্ন উঠতে পারে খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো লাভ হয়েছে কি? একবাক্যে এর উত্তর দেয়া যায়– না। বরং নরম কর্মসূচি নিয়ে আপাতত মাঠে থাকার ইঙ্গিত দেয়া খালেদা জিয়াকে সরকারই অকস্মাৎ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছেন, ঠেলে দিয়েছে কঠোর অবস্থান নিতে। আরো খারাপ সংবাদ হলো- বিএনপি আন্দোলন করতে পারবে না, তাদের সেই শক্তি নেই বলে সরকার দম্ভ করলেও সোমবার বিএনপি সারাদেশেই যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বিএনপির সবচেয়ে দুর্বলতা ছিল ঢাকায়। সোমবার ঢাকায় আওয়ামী লীগের দুটি অফিসে আগুন দেয়ার পাশাপাশি বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও হাবিব-উন নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে ঢাকায় পৃথক বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। আজকের বিএনপির প্রতিক্রিয়া সরকারের জন্য সম্ভবত এই সতর্ক সঙ্কেতও দিচ্ছে যে মুক্ত খালেদা জিয়ার চেয়ে বন্দি খালেদা আরো বেশি ক্ষমতাধর। খালেদাকে অবরুদ্ধ করে রাখার সরকারের অগণতান্ত্রিক মানসিকতাকে সম্ভবত কোনো মানুষই ভালো চোখে দেখছেন না। সরকারের গণতান্ত্রিক সমাজের দাবি এ জায়গাটিতে এসে বড়ই বেমানানা লাগছে। সরকারের স্ববিরোধী আচরণের আরো একটি নগ্নপ্রকাশ ঘটেছে সোমবার বিকেলে। সরকারের পক্ষ থেকে, এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ নয়। কিন্তু রবিবার মধ্য রাতে বালুর ট্রাকের সারি বসানো থেকে সোমবার বিকেলের গুলশানের খালেদা জিয়ার অফিসে পুলিশের তালা দেয়ার ঘটনা তার উল্টোটাই প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বাংলাদেশ আবার চরম নেতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরেও খালেদা জিয়ার অবরুদ্ধ থাকার কথাই বলা হয়েছে। সরকার যতই স্বৈরাচার এরশাদের জাতীয় পার্টিকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় না কেন দেশের মানুষের কাছে, বিশ্ববাসীর কাছে আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প অবশ্যই বিএনপি। এদেশের বিরোধী দলীয় নেতা বলতে খালেদা জিয়াকে বোঝে দেশ-বিদেশের মানুষ। খালেদা জিয়াকে বারবার অবরুদ্ধ করে সরকারের লাভ হচ্ছে- এমন দাবি কেউই করছে না। সে কারণে সরকারের পক্ষ থেকেও তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার কথা স্বীকার করার মত সৎ সাহস দেখাতে পারছে না কেউ। মন্তব্য
No comments:
Post a Comment