Saturday, December 6, 2014

সৌদি বাদশাহর ভুল যুদ্ধ:RTNN

বিশ্লেষণ সৌদি বাদশাহর ভুল যুদ্ধ আন্তর্জাতিক ডেস্ক আরটিএনএন রিয়াদ:  হোসনি মুবারকের বেকসুর খালাসে স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলে তার মুক্তিকে স্বাগত জানাতে আর কেউ না থাকলেও অন্তত একজন ব্যক্তি রয়েছেন-তিনি হলেন সৌদির শাসনকর্তা এবং মুবারকের বন্ধু ও সহকর্মী বাদশাহ আব্দুল্লাহ।   মুবারক সম্পর্কে বাদশাহ আব্দুল্লাহর উদ্বেগ মিশরের সামরিক বাহিনীকে সাবেক এই একনায়কের পক্ষে আরো অধিক সক্রিয় হতে প্ররোচিত করেছে।   
  আবদুল্লাহ বেশ কয়েকবার আভাস দেন যে, মুবারকের মুক্তি সাপেক্ষ সহায়তা করা হবে। গত বছর জুলাইয়ে মিশরে অভ্যুত্থানের পরপরই আবদুল্লাহ মুবারকের পক্ষে ব্যাপক লবিং করেন। তিনি তার মুক্তি সাপেক্ষে ১০ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব করেন।  মুবারককে তার কারাকক্ষ থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইদানীং ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে যে, মুবারকের মুক্তি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সম্মেলন আহ্বানের পথ মসৃণ করবে, যে  আহ্বান প্রথম করেন বাদশাহ আবদুল্লাহ। আবদুল্লাহর রাজমুকুট লাভ করার সময় থেকেই এই দুই ব্যক্তির মধ্য দীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে কুয়েত আক্রমণকে সমর্থন করতে আরব লীগ দ্বিধান্বিত হলে সেসময় মুবারক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মিশরের প্রেসিডেন্ট আরব মতামতকে কেবল প্রভাবিতই করেনি, তিনি সেখানে ৩৩,৫০০ জন সৈন্য প্রেরণ করেও অবদান রাখেন। তার পাঠানো এ সৈন্য সংখ্যা ছিল জোটের চতুর্থ বৃহত্তম জনশক্তি। মুবারকের মত আবদুল্লাহও নিজেকে একজন সংস্কারক হিসাবে মনে করেন এবং তিনি প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে। উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত তার এই রাজ্য বিশ্বের নেতৃস্থানীয় একটি তেল রপ্তানিকারক দেশ। দেশটি ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর অভিভাবক এবং আরব বিশ্বের প্রধান কেন্দ্র। অধিকাংশ আরব প্রতিবেশীর সঙ্গে তার ভাল সম্পর্ক রয়েছে। আবদুল্লাহ তার নিজের লোকের পাশে দাঁড়ানোর এই সুযোগ হাতছাড়া করেননি। অথচ ২০০১ সালের মে মাসে দ্বিতীয় ইন্তিফাদা চলাকালীন ইসরাইলকে সমর্থনের বিনিময়ে ওয়াশিংটনের সহযোগিতার একটি প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। দেশটির বয়োবৃদ্ধ এই বাদশাহ খুব শীঘ্রই ক্ষমতা থেকে চলে যাচ্ছেন। তখন তার উত্তরাধিকারের কী হবে? একজন সংস্কারক হিসাবে আবদুল্লাহর রেকর্ড মিশ্র ধরনের। ৭০ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রীকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নের সুযোগ দিয়েছেন। তার পাঁচ শুরা সদস্যদের মধ্যে একজন নারী সদস্য রয়েছে।     কিন্তু এখনও পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া নারীদের ভ্রমণ কিংবা হাসপাতালে গমনকে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি তার নিজের চার মেয়েকে বন্দি অবস্থায় রেখেছেন এবং প্রায় ১৩ বছর যাবৎ তাদের অবাধ চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের আমূল পরিবর্তন করা হয়নি। মানুষের সাধারণ অধিকারের বিষয়ে তার রাজ্য বিশ্বের সবচেয়ে দমনমূলক একটি রাজ্য। রাজনৈতিক ও মানবাধিকার গ্রুপকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শিশুদের বয়ঃসন্ধির লক্ষণ প্রকাশ পেলে তাদেরকেও কোনো অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।   সৌদি সিভিল ও রাজনৈতিক অধিকার অ্যাসোসিয়েশনের(এসিপিআরএ)অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সালেহ আল-বাজাদির মত কর্মীদের চেষ্টায় তারা অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়ার পর পুনরায় তাদের একই অভিযোগে দণ্ডিত করা হয়। আল-বাজাদির ক্ষেত্রেও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হল অনুমতি ছাড়া সংগঠন প্রতিষ্ঠা, মিডিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা, রাজবন্দীদের পরিবারকে প্রতিবাদ করতে আহ্বান জানানো এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করা। এছাড়াও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে চ্যালেঞ্জ জানানো ও তার কাছে নিষিদ্ধ বই রাখার অভিযোগ আনা হয়। অভ্যন্তরীণভাবে সেখানে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর অন্যতম একটি দেশ হল সৌদি আরব। কিন্তু এখানকার মোট জনসংখ্যার সত্তর শতাংশ মানুষ তাদের নিজস্ব বাড়ি ঘরের মালিক নয়। ইন্টারনেটের একটি প্রচারণা যার স্লোগান ছিল ‘বেতন যথেষ্ট নয়’ এটি গত দুই বছরে দেশটিতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পরে। এখানকার কর্মচারীদের অল্প বেতন দেয়া হয়ে থাকে। জেদ্দা শহরটি প্লাবিত হলে এর অধিবাসীরা নিয়মিতভাবেই প্রত্যক্ষ করছে তাদের অবকাঠামো ভেঙ্গে পরার দৃশ্য। দেশটির সম্পদ সুষমভাবে বণ্টন করা হয় না।   আবদুল্লাহর অধীনে দেশটির পররাষ্ট্রনীতির অধ:পতন ঘটছে। আবদুল্লাহ উত্তরাধিকার সুত্রে এমন একটি দেশের অধিকারী হয়েছেন যার প্রভাব পরছে দেশটির উত্তর ও দক্ষিণে এবং তার ঐতিহাসিক আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানে। এমনকি সিরিয়ার সঙ্গে আবদুল্লাহর ভাল সম্পর্ক ছিল। আসাদের বংশের সাথে তার ব্যক্তিগত সংযোগ রয়েছে। আবদুল্লাহর অনেক স্ত্রীর (আনুমানিক ২৭ থেকে ৭০ এর মধ্যে) একজন হলেন বাশারের চাচা রিফাত আল আসাদের শ্যালিকা।     লেবাননের গৃহযুদ্ধ যখন শেষ হয় তখন সৌদির তায়েফে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। হামাস ও ফাতাহও তাদের পুনর্মিলনের জন্য মক্কা শহরেই প্রথম প্রচেষ্টা চালান। আবদুল্লাহর দুর্ভাগ্য যে, আরবের শান্তি প্রক্রিয়া এখনও  কার্যত শেলফের ভেতর তালাবদ্ধ অবস্থায়ই রয়ে গেছে।  আরব বিশ্বের কোথাও কোনো সমস্যা হলেই তার সমাধানে মধ্যস্থতা করতে সৌদি যেতে হবে। সর্বত্রই তাদের বন্ধু ছিল। এক সময় আবদুল্লাহর অধীনে থাকা অন্তত তিনটি আরব রাজধানীর পতন ঘটেছে ইরানের প্রভাবাধীনে। এগুলো হল বাগদাদ, বৈরুত এবং দামেস্ক। ইরানিদের সুবিধার জন্যই ইরাকের উপর আবদুল্লাহ তার প্রভাব হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণকে সমর্থন করেন। ২০০৬ সালে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ সংঘঠিত হলে তিনি লেবাননের উপর তার প্রভাব হারিয়ে ফেলেন। প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি এবং তার পুত্র সাদ উভয়কেই হত্যা করা হয় এবং তাদের কাছে সৌদি পাসপোর্ট ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের চক্রান্তে তিনি ইসলামিক গ্রুপ ইসলাহকে দমন করার কারণে বর্তমানে তিনি ইয়েমেনের উপরও তার প্রভাব হারিয়ে ফেলেছেন। ইয়েমেন হচ্ছে ইরান সমর্থিত হাউথি মিলিশিয়া বাহিনীর প্রবেশদ্বার। সানা হচ্ছে চতুর্থ আরব রাজধানী যার উপর হতে আবদুল্লাহ তার প্রভাব হারিয়েছেন। অত্যন্ত সহজভাবেই তিনি ভুল জোটের সঙ্গে ভুল যুদ্ধে  করেছেন এবং দেশটির প্রকৃত শত্রুদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শূন্যস্থান তৈরি করেছেন। আবদুল্লাহর সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ২০১১ সালের আরব বসন্তে তার একটি প্রতিক্রিয়া। এটিকে সৌদি রাজপরিবার ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করে। তাহরির স্কয়ারের ১৮ দিনের অচলাবস্থা তাদের বড় ধরনের ঝাঁকুনি দেয়। কারণ তারা চিন্তা করে ছিল যে, পরবর্তীতে তারাও এর শিকার হতে পারে। আবদুল্লাহ এটিকে তার অস্তিত্বের জন্য একটি হুমকি মনে করেন এবং অঙ্গীকার করেন এর বিরুদ্ধে যেখানে যেভাবে পারেন লড়াই করার। কয়েক দিনের মধ্যেইে এটি একটি প্রবল আন্দোলনে রুপ নেয়। এর ফলে আবদুল্লাহ তুরস্কের উপর থেকেও তার প্রভাব হারিয়ে ফেলেন। ইরানের প্রক্ষিতে তুরস্ক আবদুল্লাহর আরো একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী ছিল।     তিনি কাতারের সঙ্গে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন এবং এক পর্যায়ে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র এই দেশটি অবরোধ করারও হুমকি দেন। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ প্রায় ধ্বংসের মুখে। সংস্থাটি সৌদি ক্ষমতার অন্যতম একটি উপাদান। রাজনৈতিক ইসলাম ধ্বংস করার চেষ্টায় আবদুল্লাহ এখন প্রকৃত শত্রু জঙ্গি আইএস ইসলাম বা ইসলামি স্টেটের পুনরূত্থান প্রত্যক্ষ করছেন। এটি শুধু প্রপাগান্ডার বিষয় নয়। আবু বকর আল-বাগদাদী আবদুল্লাহকে মুনাফিকদের নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বাগদাদী তার সর্বশেষ ভাষণে বাদশাহকে ব্যক্তিগতভাবে হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘সেখানে কোনো নিরাপত্তা থাকবে না, আল-সালুলদের জন্য কোনো বিশ্রাম নয়। আইএস নেতা আরো বলেন, ‘আপনার তলোয়ার প্রস্তুত রাখুন।’ সবশেষ, কিন্তু সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় যে কথাটি তা হলো আবদুল্লাহ তার নিজের পরিবারকেই বিভক্ত করে ফেলেছেন, পরবর্তী রাজা নির্ধারণ নিয়ে। ক্রাউন প্রিন্স সালমানের স্বাস্থ্য খারাপ। তিনি আলজেইমার ও ডিমনেশিয়ায় ভুগছেন। আবদুল্লাহ অপরিবর্তনীয় এক ডিক্রি জারি করে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে নাম ঘোষণা করেছেন প্রিন্স মাকরিন বিন আবদুল আজিজের (৬৯)। তিনি বাদশাল আবদুল আজিজের কনিষ্ঠ ছেলে। কিন্তু তিনি অস্থিরচিত্ত। এখন রাজসিংহাসনের দাবিদার তিনজন। ফলে প্রথমবারের মত সৌদি রাজপরিবারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে যে কে হবেন পরবর্তী রাজা। বাদশাহ আবদুল্লাহ রাজনৈতিক ব্যবস্থা উন্মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এতে অনেক লোকের ভাগ্য উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। এরফলে ইসলামিক স্টেটের সত্যিকার প্রতিষেধক তৈরি সম্ভব হয়নি। এরফলে সৌদি আরবের উত্তর সীমান্তে, ইরাক, দক্ষিণ ইয়েমেন এবং সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে ইসলামিক স্টেটের কালো পতাকা পত পত করে উড়ছে।এতে বিপন্ন হতে পারে সৌদি রাজতন্ত্র।  হাফিংটন পোস্টে মিডল ইস্ট আই’র সম্পাদক ডেভিড হার্স্টের লেখা The Saudi King Who Fought the Wrong Wars নিবন্ধের ভাষান্তর করেছেন ফাতিমা ফেরদৌসী আশা ও রাহুল আমীন মন্তব্য pay per click আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনবৈরুত: স্বঘোষিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ‘খলিফা’ আবু বকর আল-বাগদাদীর এক স্ত্রী এবং এক . . . বিস্তারিত আন্তর্জাতিক ডেস্কআারটিএনএনবাগদাদ: ইরাকের সেনাবাহিনীতে ৫০,০০০ ‘ভৌতিক সৈন্যের’ সন্ধান পাওয়া গেছে। খবর বিবিসি&r . . . বিস্তারিত      


No comments:

Post a Comment