Thursday, December 4, 2014

নষ্ট পাকিস্তানের চেয়ে আমাদের অবস্থা আরো খারাপ:RTNN

সাক্ষাৎকারে কাদের সিদ্দিকী নষ্ট পাকিস্তানের চেয়ে আমাদের অবস্থা আরো খারাপ আব্দুল আলীম ও শামছুজ্জামান নাঈম আরটিএনএন ঢাকা: কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, আমরা যে নষ্ট পাকিস্তানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এত কষ্ট করেছিলাম, রক্ত দিয়েছিলাম, সেই পাকিস্তানের অবস্থাও আমাদের মত এতো খারাপ নয়। তারা আমাদের চেয়ে অনেক ভাল আছে। সে দেশের সরকার এতো নীতিভ্রষ্ট হয়ে যায়নি। তাদের প
ুলিশ টাকা খেয়ে মানুষের বিরুদ্ধে এতো মিথ্যা মামলা দেয় না। গত সপ্তাহে রাজধানীর শ্যামলীস্থ নিজ বাসভবনে আরটিএনএন-কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।   বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত এ মুক্তিযোদ্ধা কথা বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে জামায়াত নেতাদের বিচার নিয়েও। গোলাম আযম সম্পর্কে তিনি বলেন, ৯৩ বছর বয়সের একজন লোককে ৯০ বছরের শাস্তি দেয়া হয়েছে। এতো বছর কোনো মানুষ বাঁচে? তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন নারী ধর্ষণের। যুদ্ধের সময় কি নারী ধর্ষণ হয়? তখন নারী ধর্ষণের মত এনার্জি থাকা লাগবে তো ধর্ষকের! এ সময় তিনি বিডিআর বিদ্রোহ, নিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, বড়ভাই লতিফ সিদ্দিকীর ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য ও দেশে ফেরাসহ বিভিন্ন অনেক বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো— আরটিএনএন: প্রথমেই আপনার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ব্যাপারে বলুন। কাদের সিদ্দিকী: কেন আমার বিরুদ্ধে মামলা হলো এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলো সে বিষয়ে আমার চেয়ে বেশি জানেন আপনারা, আর জানে সরকার। এ মামলা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা খুবই দুঃখজনক। এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আমি মনে করি সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর জারি করা হয়েছে। এতে করে দেশের স্বাধীনতাকে অপমান করা হয়েছে। আমি বলেছি, মহিউদ্দিন খান আলমগীর রাজাকার ছিল। আমার বিদ্যাবুদ্ধি কম, ভুল করতেই পারি। কিন্তু তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তান সরকারের আমলা (বাংলাদেশের বর্তমান ডিসি সমমানের কর্মকর্তা) ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করতে ইয়াহিয়া-টিক্কা খানের পক্ষে কাজ করেছেন— এতে তো কোনো ভুল নেই। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কাজ করায় পুরস্কৃতও হয়েছিলেন। আমি শুধু সে লোকটাকে চিনিয়ে দিয়েছি। এজন্য তো আমার পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল। আর এ কথা তো আমি ঘরে বসে বলিনি। জনসমাবেশে বলেছি। সব কয়টি পত্রিকায় পরদিন তা ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। সরকার এতো কষ্ট করে রাজাকার চিহ্নিত করছে। আমি একটা রাজাকার হিসেবে একটা লোককে চিনিয়ে দিলাম। তাকে অভিযুক্ত করে সাক্ষী হিসেবে আমাদেরকে নিতে পারতো। সেটা না করে সেই রাজাকার আমার নামে মানহানির মামলা করলো। একটি স্বাধীন দেশে রাজাকারের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ আনলে তার অপমান হয়। মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা করলে তার অপমান হয় না? যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দু’-চারজন ডিসি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গিয়েছিল। তারা সরকারি বেতনের আশা না করে পরিবার-পরিজন ছেড়ে মাসের পর মাস বাগানে বাগানে কাটিয়েছেন শুধুমাত্র একটি স্বাধীন দেশের জন্য। অন্যদিকে ঠাণ্ডা আরামদায়ক ঘরে বসে সেই স্বাধীন দেশ না হওয়ার জন্য যে লোকটি কাজ করে পুরস্কার পেয়েছে তার তো এখন পরাজিত হয়ে আমাদের পায়ের কাছে পড়ে থাকার কথা ছিল, আমাদের নামে মানহানির মামলা করার নয়, নিশ্চয়? আজ যদি পাকিস্তানই থাকতো তাহলে কি আপনি আমার ঘরে বসে আমাকে প্রশ্ন করতে পারতেন? আমি কোথায় থাকতাম? বেঁচে থাকলে হয়তো পালিয়ে বা জেলে থাকতাম। না হয় যে মাটিতে আমার জন্ম হয়েছে সেখানে আমাকে ফাঁসি দেয়া হতো। আমি যে কাজ করেছি তার জন্য ফাঁসি পাওনা ছিল। যে কোনো কারণেই হোক আমরা আপনাকে ফাঁসি দেইনি। সেজন্য তো আপনার মাথাটা একটু নিচু করে রাখবেন। আপনি শুধু নিজেকে অপরাধী মনে করলেই আমরা খুশি, আপনার সন্তানকে অপরাধী বলছি না। ওয়ারেন্ট বের হয়েছে তা কি ভাল জিনিস? ভাল কথা এখন নিয়ে যান। আইন অনুযায়ী যা হওয়ার তাই হবে। আরটিএনএন: কাদেরিয়া বাহিনী সম্পর্কে বলুন। কিভাবে সৃষ্টি হল এ বাহিনী? কাদের সিদ্দিকী: মুক্তিযুদ্ধ আমার জন্য অভিশাপ না হয়ে আমার জন্য ছিল আল্লাহর নিয়ামত। ছেলেবেলায় আমি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম। বাড়ি থেকে ৬ বার পালিয়েছি। ঢাকা শহরে রিকশা চালিয়েছি। রাজার ছেলে রাজ্য ছাড়লে ফকির ও সর্বহারা হয়। আমিও ও রকম ছিলাম। আস্তে আস্তে বড় হয়েছি। চেতনা ফিরেছে। এখন আর পালাতে পারি না। যেখানেই যাই সেখানেই মানুষ চেনে। এটাও আল্লাহর একটা দান। আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমার বাবা ও দাদা রাজনীতি করেছেন। মাঝখানে দাদার মৃত্যুর পর ১৫-২০ বছরের একটা গ্যাপ হয়ে গেছে রাজনীতিতে। পরে সেটা রিকোভারি করেছে আমার বড় ভাই। তাকে দেখে আমরা আবার রাজনীতিতে আসি। আমি কখনো মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করিনি কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা দেশের নেতৃত্বে ছিলেন তাদের প্রায় সবাই হয় আত্মগোপন না হয় ভারতে চলে গিয়েছিলেন। সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করা বাংলাদেশিরা (যারা পরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল) ভারতে চলে গিয়েছিল। এদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনকে দেখিয়ে দিতে পারবো। তাদের চলে যাওয়ার পর আমরা যারা তরুণরা ও ছোটরা ছিলাম তারাই ‘বাঙ্গি বনে শিয়াল রাজা’র ন্যায় রাজা হয়েছি। যে সমস্ত জায়গায় প্রতিরোধ হয়েছে সব জায়গায় অপরিচিতরা দাঁড়িয়েছে। আমি তখন জেলা ছাত্রলীগের নেতা ছিলাম। পাক-বাহিনী যেদিকে যাচ্ছে সব পুড়ে এবং গুলি করে নিরীহ লোকদের হত্যা করছিল। এক সময় আমরা বাধা দিলাম। কোনো কোনো জায়গায় যাওয়ার সময় যারা দাপটের সঙ্গে গেল কিন্তু ২ ঘণ্টা পর সে রাস্তা দিয়েই যখন মার খেয়ে ফিরছিল তখন দূরে থাকা মানুষগুলোর মনে প্রশ্ন জাগলো কেমন করে এটা হল- কে বাধা দিচ্ছে? জানতে গিয়ে তারা জানলো এটা মুক্তিবাহিনীর কাজ এবং সে মুক্তিবাহিনীর নেতা কাদের সিদ্দিকী। কাদের বাহিনী যেহেতু পাক-সেনাদের মার দিচ্ছে সে থেকে কাদেরের দল পরে কাদেরিয়া বাহিনী। এভাবেই কাদেরিয়া বাহিনীর জন্ম। আরটিএনএন: বর্তমান সময়ের আলোচিত ব্যক্তি আপনার বড় ভাই (লতিফ সিদ্দিকী)। তার জন্য আপনি দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। কিন্তু তিনি বলেছেন- আমি কি তাকে মাফ চাইতে বলেছি? কাদের সিদ্দিকী: ২৮ সেপ্টেম্বরে রেকর্ড করা উনার একটা বক্তব্য আমি ইউটিউবে দেখেছি। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আরেকটু সময় যদি আমরা এখানে কাটাই তাহলে এই অনুষ্ঠানে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) জন্মদিন পালন করতে পারবো। তিনি আরো বলেছিলেন, আমরা প্রথম মুক্তিযুদ্ধ করেছি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে, দ্বিতীয়টা করেছি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, তৃতীয় মুক্তিযুদ্ধ করবো বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র জয়ের নেতৃত্বে। সে অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার লোক ছিল। কিন্তু উনার যে কথাটা নিয়ে এত আলোড়ন হয়েছে সেখানে মাত্র ১২-১৩ জন লোক ছিল। উনি কিন্তু বাইরে যাওয়ার জন্য, বাইরে দেয়ার জন্য কোনো কথা বলেননি। যারা এটা বাইরে দিয়েছেন তারা কিন্তু একজনও অথরাইজ এসেন্সির লোক না। আমি এখন আপনার সঙ্গে কথা বলছি। এটা জেনেই বলছি এই কথা সকলের জন্য। উনি শুধু ওই জায়গার জন্যই কথাগুলো বলেছেন। উনার কথাগুলো দেখলাম, শুনলাম- হজ সম্পর্কে, তাবলিগ জামায়াত, জয় ও রাসূলুল্লাহর সম্পর্কে যেটা বলেছেন। আর যেহেতু রাসূলুল্লাহর (সা.) নামে প্রচারিত হয়েছে। সেহেতু একজন মুসলমান হিসেবে তার প্রতিবাদ করা উচিত। এছাড়া একই মায়ের পেটের ভাই হিসেবে ক্ষমা চেয়ে আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আল্লাহকে গালি দিলে আল্লাহর বান্দার বিচার আল্লাহর কাছে আছে। তবে এটা সত্য আমি তার সঙ্গে কথা বলে সংবাদ সম্মেলন করিনি। আরটিএনএন: এখন এমন একটা সময়ে তিনি কেন দেশে ফিরলেন? কাদের সিদ্দিকী: আমার কাছে মনে হয়, তার দেশ, তিনি যখন খুশি তখনই আসতে পারেন।   আরটিএনএন: স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আপনার ভাইকে গ্রেপ্তার করতে স্পিকারের অনুমতি লাগবে। অথচ এর আগে কয়েক সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়নি। কাদের সিদ্দিকী: আসলে আমাদের সমস্যা হল আমরা আইন মেনে চলি না। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত জানাশুনা নেই। উনি আমাকে চেনেন, আমিও উনাকে চিনি। আগে তাকে অতটা ম্যাচিউরড মনে না হলেও লতিফ সিদ্দিকীর সম্পর্কে যে কথা বলেছেন, তাতে তিনি যথেষ্ট ম্যাচিউরিটির পরিচয় দিয়েছেন। একজন সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে হলে সংবিধানে নির্দেশ দেয়া আছে। অবশ্য অবশ্যই স্পিকারের অনুমতি লাগবে। এখানে আপনাকে আরেক ডিগ্রি এগিয়ে যেতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশনের ১৫ দিন আগে এবং অধিবেশন শেষ হওয়ার ১৫ দিন পর পর্যন্ত কোন সদস্যকে স্পিকারের অনুমতি ব্যতিত গ্রেপ্তার করা যাবে না। সংসদ এলাকার সীমানার মধ্যে কখনো অনুমতি নিয়ে বা না নিয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন না। ইতোপূর্বে সংসদ সদস্য থাকাকালীন আমার কোম্পানীর নামে ‘দুর্নীতি দমন বিভাগ’কে দিয়ে ১২ লক্ষ টাকার একটা মামলা দেওয়া হয়। সে মামলায় কোর্টে হাজিরা দিতে হতো। সর্বমোট ৩৩০/৩৪০টি তারিখ পড়েছে। সবখানে লেখা আমাকে পলাতক দেখালেও মামলার কাগজে লেখা ছিল আসামী একজন মাননীয় সংসদ সদস্য। গ্রেপ্তারের জন্য স্পিকারের অনুমতি পাওয়া যায়নি। কিন্তু হঠাৎ একদিন একটি কাগজে লেখা দেখতে পেলাম- তাকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমতি পাওয়া গেছে। আমি কোর্টে গিয়ে সওয়াল জওয়াবে বললাম, গণমাধ্যমে আমাকে পলাতক দেখানো হয়েছে। আমি জাতীয় সংসদের সদস্য, গতকালও সংসদের অধিবেশনে অংশ নিয়েছি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আমি তার পাশেই বসেছি। তা কার্যবিবরণীতে আছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে মিটিং করেছি। গণমাধ্যম সে সংবাদ প্রচার করেছে। লাখ লাখ কিলোমিটার পথ আমি চলাফেরা করেছি। তাহলে আমি কিভাবে পলাতক? আমি একদিনও কোথাও পালাতক ছিলাম না। এটা আজ কোর্টকে জানাতে এসেছি। জামিনের প্রশ্ন আসলে আমি বলেছিলাম, সামরিক আদালতের কোন বিচার আমি মানি না। আমি এখানে বিচার চাইতে আসিনি। আমি আপনাকে সম্মান জানানোর জন্যই এখানে এসেছি। পরে সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল হয়ে যায়। অনেক ঘটনাই এমন ঘটে। গোলাম মাওলা রনি কিংবা লতিফ সিদ্দিকীর জায়গায় যদি বিএনপি নেতাদের কেউ হতেন তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতো। সংসদ সদস্য অনেক বড় সম্মানের একটি পদ। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন সবচাইতে অসম্মানের একটি পদ হল এই সংসদ সদস্য। আরটিএনএন: যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতাদের বিচার প্রসঙ্গে কিছু বলুন? কাদের সিদ্দিকী: এদেশে যারা প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী তাদের বিচার শতকরা ৮০ শতাংশ লোকই চায়। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে তার আত্মীয়-স্বজনরাও চায়। আমাদের চাওয়া হল বিচারটা যেন বিচারের মত হয়। আরটিএনএন: তাহলে কি বলছেন বিচারটা বিচারের মত হচ্ছে না? কাদের সিদ্দিকী: আহা! আমি বলতে যাব কেন? অনেকেই বলছেন, আমিও তাদের সঙ্গে একমত। আরটিএনএন: সেক্ষেত্রে কোনো দিক নির্দেশনা আছে কি আপনার? কাদের সিদ্দিকী: বিচারের পন্থা ঠিক আছে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেরি করা হচ্ছে আবার কোনো ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করা হচ্ছে। সেদিন হঠাৎ শুনলাম এক সাক্ষীর জন্ম ১৯৭৭ সালে। তাকে যদি সাক্ষী করা হয় তাহলে তো প্রশ্ন মানুষের আসবেই। এইতো সেদিন ৯০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত গোলাম আযম মারা গেলেন। তাকে এত বছরের সাজা দেয়া হয়েছে কেন। তার বর্তমান বয়স ৯৩ বছর। এমন ব্যক্তি কি করে আরো ৯০ বছরের সাজা ভোগ করবে। এত বছর কোন মানুষ বাঁচে? তাকে এত বছর সাজা না দিয়ে ৫ কিংবা ১০ বছরের সাজা দিলেই হত। এছাড়া তার নামে বাড়ি পোড়ানোর অভিযোগ আনলেন। যুদ্ধের সময় তার যেই মান ও বয়স ছিল তার তো নিজ হাতে পোড়ানোর প্রয়োজন ছিল না। তিনি বললেই তো তার দলের লোক পুড়িয়ে দিত। তাকে নির্দেশদাতা হিসেবে শাস্তি দেয়া যেত। তাকে আসামি বানিয়ে তার বিরুদ্ধে ৩টা খুন ও নারী ধর্ষণের অভিযোগ আনলেন। যুদ্ধের সময় কি নারী ধর্ষণ হয়? তখন নারী ধর্ষণের মত এনার্জি থাকা লাগবে তো ধর্ষকের! আরটিএনএন: একে খন্দকারের বই নিয়ে তো আপনি একটি নিবন্ধ লিখেছেন পত্রিকায়। কাদের সিদ্দিকী: একে খন্দকার কিছুদিন আগে ‘ঘরে বাইরে’ নামে বই লিখেছেন। উনি যখন পাকিস্তানে পড়া-লেখা করতে গিয়েছেন, তখন ছিলেন ছোট্ট একটা বাচ্চা। পরে সম্ভবত ২১ বছর বয়সে দেশে ফিরে এসেছেন। উনি নিজেই তার বইয়ে লিখেছেন, পূর্ব পাকিস্তানে খুব একটা আসা হতো না। এমনকি মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতেও না। মার্চের পর থেকে বাড়ির কোন চিঠি পাননি। পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকা একে খন্দকার মাঝে মাঝে পশ্চিমাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেছেন বিভিন্ন বিষয়ে। পরে বাড়ি ফিরেছেন। তেজগাঁও বিমানবন্দরের পাশে নাখালপাড়ায় তার বাড়ি। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে কেউ তাকে নিতে না আসায় তিনি হতভম্ব হয়ে যান। বাড়ি যাওয়ার পথে রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলেও তেমন কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। বাড়ি গিয়ে দেখেন তালা লাগানো। আশপাশে কেউ নেই। পরে তার বড় বোনের ধানমন্ডির বাড়িতে গিয়ে সব জানেন। তিনি তখন বিমান বাহিনীর সবচেয়ে সিনিয়র অফিসার ছিলেন। এর আগে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৬৩ সালে হাবিবুর রহমান শিক্ষা কমিশন, ৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে কত মানুষ জীবন দিয়েছে এসবের কিছুই তিনি জানেন না। একথা তিনি তার বইয়ের মধ্যেই লিখেছেন। এখন যদি আমাকে কেউ প্রশ্ন করে, কোনো ক্যাডেট কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া একজন ছাত্র, যে প্রতিদিন পত্রিকা পড়ে, রেডিও শোনে কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানে বসে খবর পেলো না পূর্ব পাকিস্তানে এতবড় ভয়াবহ হামলা হয়েছে। এত ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। তার মত নাদান যদি কোন দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান হয় তবে তাকে দিয়ে জাতি কি আশা করে? সে যদি আফ্রিকা কিংবা সাইবেরিয়ার কোন দেশে থাকতো তাহলে বিশ্বাস করা যেত। তার বই পড়ে মনে হয়েছে তিনি আসলেই কোন খবর পাননি। আসলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে গেলে অনেক ফরমায়েশি লেখক পাওয়া যায়। তার বই পড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে এখানে কোন মিথ্যা কথা তিনি বলেননি।   এছাড়া, আমাদের দেশে মঈন ইউ আহমেদ নামে একজন সেনাপ্রধান হয়েছিলেন। যে বিডিআর বিদ্রোহের কারণে ওই সময় আত্মহত্যাও করতে চেয়েছিলেন। আরটিএনএন: বিডিআর বিদ্রোহের কি কারণ বলে মনে করেন আপনি? কেন এমনটি হলো? কাদের সিদ্দিকী: বিডিআর জওয়ানদের দিয়ে ডাল-ভাত প্রোগ্রাম করানো ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। বিডিআর সৃষ্টি হয়েছে কি ব্যবসা করার জন্য? ব্যবসা করার জন্য বুঝি আর্মিকে বেতন দেওয়া হয়? নাকি পুলিশকে ব্যবসা করার জন্য রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়? ১/১১ সময়ে যে ডাল-ভাত প্রোগ্রাম করানো হয়েছিল। ওটাকেই যদি এ বিদ্রোহের মূল ধরা হয় তাহলে সেখানে বলা ছিল সবাইকেই লভ্যাংশ দেয়া হবে। কিন্তু তাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। যা সাধারণ জওয়ানরা মেনে নিতে পারেনি। ভাওচারে ১৫ হাজার টাকা লেখা থাকলে নগদে দেয়া হয়েছে মাত্র ৮ হাজার টাকা। তারাও তো লেখাপড়া জানে। এছাড়া আমাদের দেশের ছেলের বয়সি অফিসাররা বাবার বয়সী সিপাহীদের সঙ্গে খুব একটা ভাল ব্যবহার করে না। অল্প বয়সী সিনিয়র অফিসাররা তাদের বৌ, ছেলে-মেয়েসহ নিজের কাপড়-চোপড় ধোয়ায় বাবার বয়সী সিপাহীদের দিয়ে। বাড়ি-ঘর পরিষ্কার করায়। এগুলো একটু তলিয়ে দেখার দরকার ছিল। এখন যারা সিদ্ধান্ত দেন তারা অনেক কিছুই দেখেন না। যারা দেখেন তাদের হাতে কর্তৃত্ব নেই। ভারতের সেনাবাহিনীতে এ রকম তাচ্ছিল্য নেই। জলপাইগুড়ি, কুচবিহারের দিকে আমি নিজে কয়েকবার গিয়েছি। সেখানে রাস্তায় ৫ মিনিট দাঁড়ালে অন্তত ২০টা গাড়ি দেখবেন। এর মধ্যে অন্তত ৫টা গাড়ি থেমে আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে কোন সমস্যা, সাহায্য লাগবে? সে সিপাহী র‌্যাংকের হোক বা অফিসার র‌্যাংকের হোক। সেখানে এয়ারপোর্টে জেনারেলরা ঢুকছে-বের হচ্ছে, তাদের গায়ে ইউনিফর্ম ও ব্যাজ লাগানো আছে। অথচ তারা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বিনয়ী। আমরা ভেবেছিলাম স্বাধীনতার পর আমাদের দেশের অবস্থাও এমনই হবে। যে নষ্ট পাকিস্তানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এত রক্ত দিয়েছি সেই নষ্ট পাকিস্তানের অবস্থাও এতো খারাপ নেই। তারা আমাদের চেয়ে অনেক ভাল আছে। সে দেশের সরকার এতো নীতিভ্রষ্ট হয়ে যায়নি। তাদের পুলিশ টাকা খেয়ে এতো মিথ্যা মামলা দেয় না। আরটিএনএন: বিডিআর বিদ্রোহ দমনে সরকারের ভূমিকাকে কীভাবে মূল্যায়ণ করেন? কাদের সিদ্দিকী: জনমতের ভিত্তিতে হোক আর যেভাবেই হোক, ক্ষমতায় একটি সরকার আছে। এটা সিভিলিয়ান গভর্নমেন্ট। মঈন ইউ আহমেদকে তৎকালীন সরকার বলেছিলেন, এখানে মিলিটারি অ্যাকশন পরিচালনা করতে কত সময় লাগবে? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ফোর্স রেডি হতে ১ ঘণ্টা, ট্যাংক রেডি করতে দেড় ঘণ্টা, সাভার থেকে আসতে দেড় ঘণ্টা আর যদি যানজটে পড়ে তাহলে কত সময় লাগবে তার ঠিক নেই। এটা কোনো সেনাপ্রধানের কথা কিভাবে হয়? আমার তো মনে হয় এর চেয়ে অল্প সময়েই অভিযান পরিচালনা করা যেত। তখন প্রধানমন্ত্রী যেভাবেই হোক সেটাকে ট্যাকল দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হল, সেনাবাহিনী থাকলেই কি অ্যাকশনে যাওয়া যায়? এটা কি সাইবেরিয়া বা ইরাক, নাকি সিন্ধু— যেখানে মস্ত বড় মরুভূমি আছে? যে কারণে সাধারণ জনগণের কিছুই হবে না। এখানে তো তার কিছুই নেই। অ্যাকশনে গেলে কি গুলি শুধু পিলখানার ভেতরে পড়তো? আশপাশের মানুষের গায়ে পড়ত না? জনবহুল একটি দেশ হওয়ায় এখানে সারা বিশ্বের চোখ আছে। পৃথিবীর কোনো দেশের সেনাবাহিনী নিজ দেশের আরেকটি বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করে না। শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে টাকা, সোনা নিয়ে আসেন। এ রকম গোলাগুলি, মারামারি করলে কি আপনাদের শান্তি মিশনে নিত। অভিযান হলে তাদের মধ্য থেকে ৫ জন লোক রুখে দাঁড়ালে অবস্থা কি হত, কত মানুষ মরতো। বিডিআর বিদ্রোহের সময় এরশাদ সাহেব বলেছিল, ‘আমার গভর্নমেন্ট থাকলে আমি ১৫ মিনিটের মধ্যে কাভার করে ফেলতাম।’ আরটিএনএন: যেভাবেই হোক দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে এবং সরকারও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সংসদে বিরোধীদলও আছে। সে বিরোধীদলকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করছেন? কাদের সিদ্দিকী: ‘যেভাবেই হোক নির্বাচন হয়েছে’ আপনার এই কথাকে আমি মেনে নিতে পারলাম না। একটা মেয়ের পেটে বাচ্চা আসার পর বিয়ে করা, আর বিয়ের পর বাচ্চা আসা এক কথা না। বর্তমান সংসদে কোনোবিরোধী দল নেই। এটা আমাদের সঙ্গে ‘মশকরা’ করা হচ্ছে। জোটবন্ধ হয়ে নির্বাচন করে তারা সরকারের মন্ত্রীসভায়ও আছে আবার একই সঙ্গে বিরোধী দলেও আছে। এটাকে কি বিরোধী দল বলা যায়। শেখ হাসিনা অনেক কিছু করতে পারেন। কিন্তু তিনি এইখানে তিনি যে চরম ব্যর্থ হয়েছেন। এটা আজ না হোক একসময় এ সত্য হবে। এ অভিযোগ থেকে তিনি কোনো ভাবেই মুক্তি পাবেন না। আরটিএনএন: বিএনপির ও জামায়াতের আন্দোলন সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানতে চাই। কাদের সিদ্দিকী: জ্বালাও-পোড়াও, মানুষকে নির্যাতন করে পৃথিবীতে কেউ জয়ী হয়নি। কেউ সম্মান পায়নি। পৃথিবীতে হাজার বছর আগে অনেক ভাল লোক, ভাল সাধক, অনেক সুচারু রাষ্ট্র পরিচালক এসেছে। আবার জল্লাদও এসেছে। পৃথিবীতে অনেক অত্যাচারি স্বৈরাশাসক এসেছে, এখনও আছে, আগামীতেও থাকবে। জামায়াতে ইসলামী নামে যে দলটি আছে তার জন্ম হয়েছিল পাকিস্তানে। দলটির জন্মের সময় ভারত বৃটিশদের থেকে মুক্তির জন্য প্রসব বেদনায় ছটফটকারী মায়ের ন্যায় ছটফট করছিল। তখন এ দলটি এদেশের মানুষের পক্ষে না গিয়ে বৃটিশের পক্ষে গিয়েছিল। যে কারণে তারা পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে লজ্জিত হয়েছে। ফলে পাকিস্তানের নির্বাচনে এখনও একটার বেশি...... পায়নি। তারা কোনো শক্ত অবস্থান গড়তে পারেনি। আর বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ যখন হয়েছে তখনও তারা পক্ষে না গিয়ে বিপক্ষে গিয়েছে। আমি কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ নেয়ায় অতটা ব্যথিতও নই। তাদেরকে অতটা অভিযুক্তও করি না। তারা পাকিস্তানকে রক্ষা করতে চেয়েছে। রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে রক্ষা করা তাদের অধিকার ছিল। কিন্তু সেই সময়ে অনুষ্ঠিত যুদ্ধে তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। ন্যায়নীতির মধ্যে সংগঠিত যুদ্ধের মাঝে সীমাবন্ধ থাকলে তাদের প্রতি আমার খুব একটা অভিযোগ ছিল না। কিন্তু তারা যুদ্ধের নিয়মকানুন না মেনে সাধারণ মানুষকে হত্যায় সহযোগিতা করেছে। এদেশের মা-বোনের ইজ্জত নষ্টে তারা উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছে। ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ায় তারা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। এই কাজটা শুধু রাজাকাররা করেছে তা তো না। কাজটা পাকিস্তানের গোটা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং সশস্ত্র বাহিনীতে যারা ছিল মূলত তারাই করেছে। তাদেরকে আমরা ছেড়ে দিয়ে রাজাকরদের ধরেছি। এই রাজাকাররা ছিল সবচাইতে দুর্বলহস্ত। কামলা দিয়ে খাওয়া লোক। তাদেরকে ধরে নিয়ে পাহারাদার হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রাজাকাররা কিন্তু জামায়াতে ইসলাম ছিলেন না। এক গুলি করলে ৩০ রাজাকার পালিয়ে যেত। এখন রাজাকাররাই হয়েছে ‘প্রমিনেন্ট’। কারণ এটা রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। এদের বেতন ছিল মাত্র ১৪০ টাকা। রাজাকার তো ‘অক্সিলারি ফোর্স ছিল না, তারা ছিল ডেইলি বেসিস।’ আর যিনি রাজাকার বানিয়েছেন তিনি সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা। আমরা তাদের বাদ দিয়ে কর্মচারিদের ধরেছি।   আরটিএনএন: ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিএনপি-জামায়াতের নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে চলমান আন্দোলনে তারা জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারছে না। কিন্তু আপনারাও তো কোনো ইস্যুতে মাঠ গরম করতে পারছেন না। কাদের সিদ্দিকী: আমরা আসলে তো কোন পক্ষ-বিপক্ষ না। আমরা দেশে সুস্থ্য রাজনীতি চাই। এটা খুব আকর্ষণীয়, দায়িত্বপূর্ণ ও পবিত্র ব্যাপার। যদিও বর্তমান রাজনীতিতে এসবের কোন কিছু অবশিষ্ট নেই। অন্যরা (রাজনৈতিক দল) যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা রক্ষা করে না। রাজনীতিকরা চুরিচামারি করবে না। প্রতিশ্রুতি দিলে তা পূরণ করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি যা বলব তাই করব। আরটিএনএন: ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং সংসদের বিরোধীদল সম্পর্কে বলুন? কাদের সিদ্দিকী: দেখুন, দেশে সবসময় একটি সরকার থাকবে এবং থাকবে বিরোধীদল। দেশে বিরোধীদল না থাকা সে দেশের সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য। বিরোধীদল থাকা মানে বিনা পয়সায় উন্নয়নের সরকারকে সহযোগিতা করা। এখন আমাদের দেশে সরকারিদল বিরোধীদলকে এবং বিরোধীদলও সরকারি দলকে শত্রু  মনে করে। অথচ গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় কেউ কারো শত্রু  নয়। প্রকৃতপক্ষে, সরকার ও বিরোধীদল একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। ক্রিকেট, ফুটবল, হাডুডু’র লীগ খেলার মতই বিরোধীপক্ষ থাকতে হয়, না হলে তো খেলা হয় না। কত সময় একা একা বল নিয়ে ছুটবে? কিন্তু বর্তমান সরকার একা একাই খেলতে চায়। আমাদের দেশের বর্তমান পার্লামেন্ট বিশ্বের সবচেয়ে অগৌরবের পার্লামেন্ট। কিন্তু সেখানে যারা আছে তারা তা উপলব্ধি করতে পারছে না। কালই সংসদে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘বিশ্বের ১৪৬টা দেশ বাংলাদেশের নির্বাচনকে স্বীকার করে নিয়েছে।’ ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসন ভোট ছাড়াই নির্বাচিত করা হলো। তারপরও তারা যদি লজ্জা না পান তবে কে তাদের লজ্জা পাইয়ে দেবে? লজ্জাটা হল নিজের উপরে। নিজের বিবেকের কাছে। এরপরও বাকি যে আসনগুলোতে ভোট হওয়ার কথা ছিল তাতে দেড় থেকে ২ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি। ৫০টি কেন্দ্রে ১টা ভোটও পড়েনি কেন ঐসব এলাকায় কি আওয়ামী লীগের একজন কর্মীও নেই? অন্য সকল কেন্দ্রে কোটি কোটি ভোট পড়লেও সেই ৫০টি কেন্দ্রে ভোট না পড়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের গুটিসুতো দিয়ে কচুগাছের সঙ্গে ফাঁসি দিয়ে মরা উচিৎ ছিল। কিন্তু তারা লজ্জাবোধ করে না। সুন্দর গাড়ি, বাড়ি ও অফিস পেয়েছে। এসবের আড়ালে তাদের লজ্জা ঢেকে গেছে।   আরটিএনএন: ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিলেও সে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনেই উপ-নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন কেন? কাদের সিদ্দিকী: ওটা ছিল জাতীয় নির্বাচন আর পরেরটা উপ-নির্বাচন। উপ-নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন কখনো এক জিনিস না। দেশের ক্ষমতায় যে সরকারই থাকুক না কেন উপ-নির্বাচন সে সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সরকারকে বাদ দিয়ে না। বিএনপির সময় যদি ৫টা নির্বাচনও হয় তা তাদের অধীনে হবে। এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে হোক সেটা বৈধ কি অবৈধ। তারা ভাল করেছে কি খারাপ করেছে তা বিবেচনা হবে না। ওই সময় কোন সংসদ সদস্য মারা গেলে বা পার্টি ত্যাগ করলে আসন শূন্য হবে। সেই শূন্য আসনের নির্বাচন ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই হবে। আরটিএনএন: এটি তো জাতীয় নির্বাচনেরই একটা অংশ। কেননা নির্বাচিত হয়ে তো সংসদে তাদের সঙ্গে গিয়েই বসতেন? কাদের সিদ্দিকী: এ ব্যাপারে আপনার প্রশ্ন থাকতেই পারে। আমার জবাব হলো— নির্বাচন আর উপ-নির্বাচন এক নয়। আরেকটু বলা যেতে পারে। আমরা কোন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করি না। আমি একক ব্যক্তি নয়, আমার একটি দল আছে। সেই দলের নেতা-কর্মীরা শ্রম দেয়, তাদের গায়ের ঘাম ঝরে। সখিপুর উপ-নির্বাচনে আমাদের অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে সখিপুরের আরেকটি উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে আমাদের দলের (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ) জন্ম হয়। এখন আবার ওই আসনেই অবৈধ সংসদ সদস্যের মৃত্যুজনিত কারণে আসন খালি হওয়ায় একটা নির্বাচন হওয়ায় এলাকাবাসীর জন্য সে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলাম। এরা ১০ দিন থাকলেও আমি প্রতিটা উপ-নির্বাচনে অংশ নেব। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালের নির্বাচন অনুযায়ী এরা নির্বাচনের নামে খেলা করে। তবে এক ফুলে যেমন বাগান হয় না। এক দলে সংসদও হয়না। আরটিএনএন: প্রধানমন্ত্রী পরপর দু’বার সাউথ সাউথ পুরস্কার পেলেন। সংসদের স্পীকার আইপিএ-সিপিএ’র সভাপতি নির্বাচিত হলেন। এছাড়া সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাচ্ছে। এগুলো তো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিরই নামান্তর। কাদের সিদ্দিকী: আপনার সন্তান আপনাকে মা-বাবা ডাকে না। পাড়া প্রতিবেশী আপনাকে মা ডাকলে, বাবা ডাকলে আপনি কি খুব বেশি তৃপ্তি হবেন? জাতীয় স্বীকৃতি নাই, জাতীয়ভাবে আপনাকে সম্মান করে না। আপনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়ে কি করবেন? যে স্বীকৃতি নিয়ে আপনি বসে আছেন। আরটিএনএন: বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর আপনি দলটির জন্য অনেক আত্মত্যাগ করেছেন, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ কখনো সংকটে পড়লে আপনি কেমন ভূমিকা রাখবেন? কাদের সিদ্দিকী: এখন না হোক ১ হাজার কিংবা ২ হাজার বছর পরে এগুলো ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে। বর্তমানের কাছে ইতিহাস বড় অসহায় ও বন্দি হয়ে থাকে। কোন হত্যাই আমরা চাই না। সেখানে আদর্শ রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আমাদের সবার প্রিয় ছিলেন। তখন আমার সাধ্যানুযায়ী প্রতিবাদ করেছি। এখনও যেটা ন্যায় সেটার পক্ষে, যে অন্যায় সেটার বিপক্ষে। এখন যদি কোন অঘটন ঘটে সেখানে যতটুকু সম্ভব তার প্রতিবাদ করবো। আমি একটা দল করি, এ দলের কর্মীরা আহত/নিহত হলে তার তো প্রতিবাদ করবোই। তেমনি অন্য দলের কেউ আহত/নিহত হলেও নিঃসন্দেহে তার প্রতিবাদ করবো। কাউকে হত্যা করাকে আমরা সাপোর্ট করি না। আরটিএনএন: বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী কারা? কাদের সিদ্দিকী: এর জন্য বর্তমান রাজনীতিবিদরা দায়ী। প্রকৃত রাজনীতিকদের হাতে রাজনীতি নাই। পুলিশে, আর্মিতে একটা চেইন অব কমান্ড থাকে। রাজনীতির চেইন-অব-কমান্ড তার চাইতে অনেক কঠিন ও সুদৃঢ়। ইচ্ছা করলেই একজন জুনিয়রকে সিনিয়র বানানো যায় না। অথচ এখন আমাদের দেশে এটা কোন ব্যাপার না। রাস্তা থেকে কুড়িয়ে এনে ৪০ বছরের পরিশ্রমী নেতার উপরে তাকে পদবী দিয়ে দিতে পারে। কর্তৃত্বও দিতে পারে। মন্তব্য pay per click    


No comments:

Post a Comment