রে আইইপি। আইইপি-র এই প্রতিবেদনে বিশ্বের যে ১৩টি দেশকে সন্ত্রাসবাদের বড় ধরনের ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই তালিকায় বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, ইরান, মিয়ানমার, মালি, উগান্ডা, ইসরায়েল প্রভৃতি দেশ। ২০১৪ সালের বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে ১৬২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৩তম। এই তালিকা অনুসারে সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ইরাক। এরপর যথাক্রমে রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, সিরিয়া ও ভারত। সূচকে ২০১২ সালে ১৫৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩৯তম। সন্ত্রাসী তত্পতরতা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকা বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৩ সালের প্রায় পুরোটা সময় ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা ও হানাহানি চলে। দেশজুড়ে ব্যাপক নাশকতায় এবং জামায়াত-বিএনপি জোটের হরতাল, অবরোধে সহিংসতায় বহু মানুষ হতাহত হয়। ইনস্টিটিউট ফর ইকনমিক্স অ্যান্ড পিস মনে করছে, বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা-নিপীড়নের পাশাপাশি নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, দলগত সমঝোতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব রয়েছে। আর এ কারণেই ১৩ দেশের ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে সংস্থাটি। দাসত্ব সূচকে নবম স্থানে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৬৭টি দেশের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দাসত্ব সূচকে বিশ্বের প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘ওয়ার্ক ফ্রি ফাউন্ডেশন’ বিশ্ব দাসত্ব সূচক ২০১৪-র রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি দ্বিতীয়বারের মতো এ সূচক প্রকাশ করল। গত বছর প্রকাশিত সূচকে বাংলাদেশের দাসের সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন লাখ। এ বছর ওই সূচক অনুসারে, বাংলাদেশের ছয় লাখ ৮০ হাজার ৯০০ মানুষ ‘আধুনিক দাসের’ জীবনযাপন করে। বাংলাদেশে ঋণ, জোরপূর্বক শ্রম, বাণিজ্যিকভাবে যৌনকাজে বাধ্য হওয়া, শৈশবে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার মতো দাসত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ সুনির্দিষ্টভাবে ইটভাটা, তৈরি পোশাক শিল্পকারখানা, রাস্তায় ভিক্ষা ও চিংড়ি ঘেরে শ্রমদানে বাধ্য হয়। ওয়ার্ক ফ্রি ফাউন্ডেশন-এর জরিপ ও গবেষণা অনুযায়ী, সারা বিশ্বে বর্তমানে তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষ আধুনিক দাসত্বের জীবনযাপন করছেন। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান সবচেয়ে খারাপ। দেশটির এক কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ দাস হিসেবে কাজ করছেন। এর পরেই চীন ও পাকিস্তানের অবস্থান। ওয়ার্ক ফ্রি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- দাসত্বের এই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে বাংলাদেশের সরকার তেমন সক্রিয় নয়। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিচালক এবং মানবাধিকার নেতা নূর খান ডয়চে ভেলে-কে বলেন, ‘দুটি বিষয়ের পেছনেরই কারণ হলো সুশাসনের অভাব।’ তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার বদলে দেখে নেয়ার মানসিকতা সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদকে উসকে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চর্চা না থাকায় প্রধান সব রাজনৈতিক দলই পেশি শক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে। এর অবসান না হলে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের ঝুঁকি আরো বাড়বে বাংলাদেশে।’ নূর খান বলেন, ‘তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা এবং সমঝোতা খুবই জরুরি। অন্যথায় জঙ্গিরা বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় হুমকি হয়ে দাড়াতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে বাংলাদেশে শ্রম আইন এবং নাগরিকের সুরক্ষা আইনে ঘাটতি থাকায় এখানে আধুনিক দাসত্বের অবসান ঘটছে না। সরকারের এদিকে তেমন কোনো নজরও নেই। কারণ যারা এই দাসত্বের শিকার, তারা ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের বাইরে। তাই তাদের দিকে কেউ নজর দিচ্ছে না। অবশ্য সুশাসন থাকলে এই পরিস্থতি কখনই হতো না।’ সূত্র: ডয়েচে ভেলে। মন্তব্য pay per click
Wednesday, November 19, 2014
সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি আর দাসত্বের বাংলাদেশ:RTNN
রে আইইপি। আইইপি-র এই প্রতিবেদনে বিশ্বের যে ১৩টি দেশকে সন্ত্রাসবাদের বড় ধরনের ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই তালিকায় বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, ইরান, মিয়ানমার, মালি, উগান্ডা, ইসরায়েল প্রভৃতি দেশ। ২০১৪ সালের বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে ১৬২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৩তম। এই তালিকা অনুসারে সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ইরাক। এরপর যথাক্রমে রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, সিরিয়া ও ভারত। সূচকে ২০১২ সালে ১৫৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩৯তম। সন্ত্রাসী তত্পতরতা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকা বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৩ সালের প্রায় পুরোটা সময় ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা ও হানাহানি চলে। দেশজুড়ে ব্যাপক নাশকতায় এবং জামায়াত-বিএনপি জোটের হরতাল, অবরোধে সহিংসতায় বহু মানুষ হতাহত হয়। ইনস্টিটিউট ফর ইকনমিক্স অ্যান্ড পিস মনে করছে, বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা-নিপীড়নের পাশাপাশি নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, দলগত সমঝোতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব রয়েছে। আর এ কারণেই ১৩ দেশের ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে সংস্থাটি। দাসত্ব সূচকে নবম স্থানে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৬৭টি দেশের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দাসত্ব সূচকে বিশ্বের প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘ওয়ার্ক ফ্রি ফাউন্ডেশন’ বিশ্ব দাসত্ব সূচক ২০১৪-র রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি দ্বিতীয়বারের মতো এ সূচক প্রকাশ করল। গত বছর প্রকাশিত সূচকে বাংলাদেশের দাসের সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন লাখ। এ বছর ওই সূচক অনুসারে, বাংলাদেশের ছয় লাখ ৮০ হাজার ৯০০ মানুষ ‘আধুনিক দাসের’ জীবনযাপন করে। বাংলাদেশে ঋণ, জোরপূর্বক শ্রম, বাণিজ্যিকভাবে যৌনকাজে বাধ্য হওয়া, শৈশবে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ার মতো দাসত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ সুনির্দিষ্টভাবে ইটভাটা, তৈরি পোশাক শিল্পকারখানা, রাস্তায় ভিক্ষা ও চিংড়ি ঘেরে শ্রমদানে বাধ্য হয়। ওয়ার্ক ফ্রি ফাউন্ডেশন-এর জরিপ ও গবেষণা অনুযায়ী, সারা বিশ্বে বর্তমানে তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষ আধুনিক দাসত্বের জীবনযাপন করছেন। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান সবচেয়ে খারাপ। দেশটির এক কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ দাস হিসেবে কাজ করছেন। এর পরেই চীন ও পাকিস্তানের অবস্থান। ওয়ার্ক ফ্রি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- দাসত্বের এই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে বাংলাদেশের সরকার তেমন সক্রিয় নয়। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিচালক এবং মানবাধিকার নেতা নূর খান ডয়চে ভেলে-কে বলেন, ‘দুটি বিষয়ের পেছনেরই কারণ হলো সুশাসনের অভাব।’ তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার বদলে দেখে নেয়ার মানসিকতা সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদকে উসকে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চর্চা না থাকায় প্রধান সব রাজনৈতিক দলই পেশি শক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে। এর অবসান না হলে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের ঝুঁকি আরো বাড়বে বাংলাদেশে।’ নূর খান বলেন, ‘তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা এবং সমঝোতা খুবই জরুরি। অন্যথায় জঙ্গিরা বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় হুমকি হয়ে দাড়াতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে বাংলাদেশে শ্রম আইন এবং নাগরিকের সুরক্ষা আইনে ঘাটতি থাকায় এখানে আধুনিক দাসত্বের অবসান ঘটছে না। সরকারের এদিকে তেমন কোনো নজরও নেই। কারণ যারা এই দাসত্বের শিকার, তারা ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের বাইরে। তাই তাদের দিকে কেউ নজর দিচ্ছে না। অবশ্য সুশাসন থাকলে এই পরিস্থতি কখনই হতো না।’ সূত্র: ডয়েচে ভেলে। মন্তব্য pay per click
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment